করোনার ধাক্কা সামলে উঠছে সি পার্ল বিচ, বাড়ছে পর্যটক

0
358
হোটেলের চিত্র, ছবি সংগৃহিত।

সবুর খান হিমেল : করোনা মহামারির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প। করোনাকালে ৫ মাস বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে কক্সবাজার সৈকত ও সেখানকার বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। এরপরে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে উঠছে প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলো।

করোনাকালে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। র্পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আবার স্বরূপে ফিরছে দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের অর্থনীতি। ফিরে পেয়েছে প্রাণ এবং স্থবির অর্থনীতি পেয়েছে নতুন মাত্রা।

এখানে সাগরের কোল ঘেঁষে মেরিন ড্রাইভের লাগোয়া গড়ে উঠেছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্প্যা লিমিটেড। ১৫ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচ তারকা এই হোটেল সি পার্ল। যাকে দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম হোটেল বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। হোটেলটিতে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৪৫০টি আবাসিক কক্ষ রয়েছে।

করোনাকালের ক্ষতি কাটিয়ে নতুন উদ্যোমে চালু হওয়া সম্পর্কে কথা হয় টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের চীফ ফিন্যান্স অফিসার জুলহাস বিশ্বাসের সঙ্গে। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে মঙ্গলবার দুপুরে স্টক বাংলাদেশকে তিনি বলেন, টানা পাঁচ মাস ব্যবসা বন্ধ থাকায় বিপুল ক্ষতি হয়েছে এ খাতের। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ায় আমরা আনন্দিত।

কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতি আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। পাশাপাশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট অর্ধ লাখ শ্রমিক কর্মচারীর ঘরে আনন্দ ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ ভালো হয়েছে। পর্যটন সুবিধার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ভালো হচ্ছে এবং কক্সবাজারের অর্থনীতি সচল হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ায় আবার সবাই কর্মচঞ্চল হয়ে পড়েছে। খুব দ্রুত পর্যটন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তিনি।

সি পার্লে পর্যটকদের জন্য কি ধরনের স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে জানতে চাইলে সিএফও জুলহাস বলেন, করোনা মহামারিকে মাথায় রেখে আমরা আমাদের হোটেলে আসা পর্যটকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করছি।

এছাড়া তিনি বলেন, আগের তুলনায় ধীরে ধীরে পর্যটকদের সংখ্যাও বেশ বেড়েছে। এতে আশা করছি, এবার শীতের সময়ে পর্যটকদের উপস্থিতি আরো বাড়বে। এখন শুধু বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যাটা কম, কারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে খুব শিগগিরই বিদেশি পর্যটকররাও ভ্রমণে আসবেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা হোটেল বুকিং বিষয়ে যোগাযোগ করছেন। দ্রুত ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো বলে আশা করেন তিনি।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট থেকে খুলে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসছেন কক্সবাজারে।

কক্সবাজার মূল শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে ইনানী বিচে অবস্থিত হোটেলটি

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্প্যা লিমিটেডের হোটেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে দেশের ৯টি বেসরকারী ব্যাংক। ইন্টারন্যাশনাল টাইম শেয়ারিংয়ের ভিত্তিতে হোটেলটিকে দেশের সবচেয়ে বড় হোটেল বলে দাবি করছে সী পার্ল কর্তৃপক্ষ।

হোটেলটি আন্তর্জাতিক ‘লোভার গ্রুপ অব হোটেলসের’ গোল্ডেন টিউলিপ হসপিটালিটি ব্রান্ডের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড রয়েল টিউলিপের সঙ্গে যুক্ত। গোল্ডেন টিউলিপ বিশ্বের ৪০টি দেশে এক হাজারের বেশি হোটেল পরিচালনা করছে। হোটেলের প্রতিটি কক্ষে ন্যূনতম চারজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি রাতের সর্বনিম্ন ভাড়া ৯ হাজার টাকা।

আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রের সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত হোটেলটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এখানে দুটো ‘প্রাইভেট বিচ’ আছে। একটি দেশী ও একটি বিদেশী পর্যটকদের জন্য সংরক্ষিত। হোটেলটির অন্যতম আকর্ষণ ডেসটিনেশন স্পা ও বিভিন্ন ধরনের খাবার। রয়েছে ট্র্যাডিশনাল থাই স্পা, নানা ধরনের এ্যারোমা থেরাপি। রয়েছে আইসক্রিম পার্লারসহ কন্টিনেন্টাল, প্যান এশিয়ান, ইতালিয়ান ও বাংলা ও সি ফুডের আটটি ভিন্ন স্বাদের রেস্তোরাঁ।

এছাড়া আছে বাংলাদেশের একমাত্র সানকিন বারসহ ইন্টারন্যাশনাল বার, লবি জুস বার ও ক্যাফে। হোটেলটিতে আছে ১০ হাজার বর্গফুটের ব্যাংকুয়েট হল- যেখানে দেশী-বিদেশী সম্মেলন ও অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। হোটেল নির্মাণে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে যোগান দেয়া হয়েছে। বাকিটা বহন করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আমিনুল নিজে। ৯টি বেসরকারী ব্যাংকের যৌথ ঋণের (সিন্ডিকেট লোন) মধ্যে ৯৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে ঋণের প্রধান আয়োজক (লিড এ্যারেঞ্জার) প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড।

বাকি ১০৩ কোটি টাকার অর্থায়ন করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও মধুমতি ব্যাংক। ইতোমধ্যে তা অনেকটা পরিশোধ করা হয়েছে।

কক্সবাজার মূল শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে ইনানী বিচে অবস্থিত এই পাঁচ তারকা হোটেলটি। সেবা-আবাসন খাতের কোম্পানিটি ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here