ওটিসি থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিংয়ে যাচ্ছে ২০টি কোম্পানি

0
1825

স্টাফ রিপোর্টার : ওভার দ্য কাউন্টারের (ওটিসি) ২০টি প্রতিষ্ঠানকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরের জন্য খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) ওটিসি মার্কেটের যেসব কোম্পানিতে পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং বেশি রয়েছে এটিবিতে পাঠানোর জন্য সে সব কোম্পানি বেছে নেয়া হয়েছে।

মূলত ওটিসির কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সম্ভাবনা যাচাই করে এটিবিতে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো- বাংলা প্রসেস ইন্ডাস্ট্রিজ, ড্যান্ডি ডায়িং, ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল, কাসেম সিল্ক মিলস, কাসেম টেক্সটাইলস মিলস, রাসপিট ইনস বিডি, রোজ হ্যাভেন বলপেন, ডায়নামিক টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ, মেটালেক্স করপোরেশন, মিতা টেক্সটাইলস, মডার্ন সিমেন্ট, মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ, মোনা ফুড প্রোডাক্টস, পারফিউমস কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রেট্রো সিনথেটিকস প্রোডাক্টস, সালেহ কার্পেট মিলস, শেরপুর টেক্সটাইল মিলস, থেরাপিউটিকস বাংলাদেশ, জাগো করপোরেশন ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।

ওটিসি থেকে এসএমই প্ল্যাটফর্মে নেয়ার পর অবশিষ্ট সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে স্থানান্তরিত করা হবে। বিশেষ করে ওটিসির কোম্পানিগুলোর মধ্যে যেসব কোম্পানির শেয়ার পাবলিক হোল্ডিং বেশি রয়েছে, সেগুলোকে এটিবিতে রাখা হবে। কারণ পাবলিক হোল্ডিং শেয়ার কোম্পানিটির মালিকদের কেনার সক্ষমতা নেই। তাই কোম্পানিগুলোর পাবলিক শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় এক্সিট প্ল্যানে না রেখে এটিবির জন্য রাখা হবে।

অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিক্রেতা ও ক্রেতার উভয়ের আদেশ দেখা যাবে। ওটিসি মার্কেটে শুধু শেয়ার বিক্রেতার আদেশ দেখা যায়। সেখানে শেয়ার কেনার আদেশ থাকে না।

এছাড়া পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিগুলো এটিবিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দেয়া হবে। ওই কোম্পানিগুলো কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির মাধ্যমে এটিবিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে কোম্পানিগুলোর ১০ টাকার শেয়ার হস্তান্তরে স্ট্যাম্প ডিউটি ট্যাক্স দিতে হবে মাত্র ১০ পয়সা। আর এটিবির বাইরে ১০ টাকার শেয়ার হস্তান্তরে স্ট্যাম্প ডিউটি ট্যাক্স দিতে হয় আড়াই টাকা।

ফলে এটিবিতে অন্তর্ভুক্ত হলে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্ট্যাম্প ডিউটি ট্যাক্স কম দিতে হবে। এতে ওই কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারের মূল মার্কেটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে।

২০০৯ সালের উভয় পুঁজিবাজারে ওটিসি মার্কেট চালু করা হয়। বিশেষ করে উৎপাদনে না থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কাগুজে শেয়ার ডিমেট না করা, নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, লভ্যাংশ না দেয়া ও সিকিউরিটিজ আইন যথাযথভাবে পরিপালন না করা কোম্পানিগুলোকে মূল মার্কেট থেকে ওটিসিতে শাস্তিস্বরূপ স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কোম্পানিটি বা উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে ওটিসি মার্কেটে পাঠানো হলেও কার্যত শাস্তি পাচ্ছেন সেই কোম্পানির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বর্তমানে ডিএসইর ওটিসি মার্কেটে ৬১টি ও সিএসইর ওটিসি মার্কেটে ৪৭টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। ওইসব কোম্পানির মধ্যে প্রাথমিক ভাবে স্মল ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্মে ২১টি, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে ২০টিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এছাড়া এক্সিট প্ল্যান বা তালিকাচ্যুতির আওতায় রয়েছে ২০টি কোম্পানি।

এদিকে বুধবার (ডিএসই) দুটি ব্রোকারেজ হাউসকে ভবিষ্যতে সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন মেনে চলতে সতর্কপত্র জারি করেছে বিএসইসি। হাউস দুইটি হলো মোর্শেদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও ই-সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here