শাহীনুর ইসলাম : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া এসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেডের আবেদন আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অভিহিত মূল্যে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা হিসেবে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে কোম্পানিটি।

প্রোসপেক্টাসে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেড ১৯৯২ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিল্প গ্রেডের অক্সিজেন, হিলিয়াম গ্যাস, হাইড্রোজেন গ্যাস, নাইটোজেন গ্যাস, আর্গন গ্যাস (মিশ্র গ্যাস), মেডিকেল গ্রেডের অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সসাইড ও ওয়েল্ডিং গ্যাস উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে ওয়েল্ডিং যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে বলে উল্লেখ করা হয়।

কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম, বয়স এবং অভিজ্ঞতা

অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ পাবলিক লিমিটেড হিসেবে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি ঘণ্টায় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই হাজার ঘনমিটার এবং বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৯৯ লাখ ২৯ হাজার ২৯০ ঘনমিটার।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৯০ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৮ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন করছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক হাইড্রোকার্বন গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা দুই লাখ মেট্রিক টন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের মোট বিক্রি ছিল ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকা, আগের অর্থবছর যা ছিল ৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪২ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

৫ বছরের মুনাফার তালিকা

১৬০ কোটি টাকা মূলধনের কোম্পানিটিতে রিটার্ন আর্নিংস দেখানো হয়েছে ৫৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। রিসিভেবল মানি ১৪ কোটি ৬৪ লাখ এবং`পেবল মানি‘ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ৪৪ কোটি টাকা বিক্রিতে নেট প্রফিট ১১ কোটি টাকা হওয়ায় অভিযোগ ওঠে।

ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে ব্যাখা দিয়েছেন ইস্যু ম্যানেজার বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংস লিমিটেডের এ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোম্পানির মূলধন, মুনাফা ও বিক্রি বাড়ানোর অভিযোগ নিয়ে একটি উড়োচিটি আমরা পেয়েছি এবং বিএসইসিও পেয়েছে। যা নিয়ে আপনারাও অনেকে পেয়ে সন্দেহ করছেন। অনেক যাচাই শেষে নতুন এই কমিশন অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আইপিও অনুমোদন দিয়েছে।

কোম্পানির উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের চিত্র

তারপরও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) অভিযোগ পেয়ে তথ্য যাচাই করতে কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, বিএসইসি ও অডিট ফার্মের কাছে সব কাগজপত্র চান। আমরা আপনাদের সেই সন্দেহ দুর করতে ১০ আগস্ট, সোমবার এফআরসিতে জমা দিয়েছি বলে জানান তিনি।

একটি পক্ষ বিশেষ সুবিধা নিতে এসব ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে নামহীন উড়োচিঠি হলেও কমিশনসহ আমরাও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি বলেন শহীদুল ইসলাম। সুবিধা নিতে তারা যে সব অভিযোগ তুলে ধরেছেন, আমরা তার সঠিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের নিট মুনাফা ছিল ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের ছিল ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

বিএসইসি জানিয়েছে, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) করেছে এক টাকা ৫১ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৭ পয়সা।

উদ্যোক্তা-পরিচালকদের পারিবারিক পরিচয়ের তথ্যচিত্র

কোম্পানির এফআর ট্যাক্স ১৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা সম্পর্কে ইস্যু মানেজারের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইমরান বলেন, কোম্পানির দায় হিসেবে আমরা এটা দেখিয়েছি। তার অর্থ এই নয় যে আগামীকালই এনবিআরকে এই ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। দায় পরিশোধ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ভিন্নভাবে বা `ভুল‘ বোঝানো হচ্ছে।

কোম্পানির ৫ উদ্যোক্তা-পরিচালকের পারিবারিক সম্পর্ক বা পরিচয় নিয়ে একটি পক্ষ জলঘোলা করছে। তাদের জন্য `ভেটেড‘ প্রোসপেক্টাসে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ডিরেক্টরদের পরিচয়সহ আরো তথ্য উপস্থাপন করা হয় বলে জানান তিনি।

ওরিয়ন গ্রুপের শেয়ারধারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ওরিয়ন ফুটওয়্যারের নামে কোম্পানির ১০ লাখ শেয়ার রয়েছে। একই সঙ্গে এই গ্রুপের আরো তিনজন উদ্যোক্তার নামে ১৫ লাখসহ মোট ২৫ লাখ শেয়ার রয়েছে।

শেয়ার ধারণও প্রভাব বিস্তার নিয়ে তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক অনেক বক্তব্য আমাদের কাছে আসছে, যা সঠিক নয়। একই সঙ্গে বিএনপির নেতা চট্টগ্রামের আসলাম চৌধুরীকে ঘিরে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন কোম্পানির চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন সম্পর্কেও হীন মন্তব্য করা হচ্ছে বলে জানান তারা। যা সঠিক নয়।

অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে।এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ১০ শতাংশ, প্রবাসী বিনিয়োগীকারী ১০ শতাংশ ও প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দ থাকবে।

ইস্যু ম্যানেজার বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংস লিমিটেডের কোম্পানি পরিদর্শন চিত্র
ইস্যু ম্যানেজার বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংস লিমিটেডের কোম্পানি পরিদর্শন চিত্র

পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত ১৫ কোটি টাকা থেকে নতুন প্লান্ট ও শেড নির্মাণে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপনে ব্যয় হবে ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা হবে ২ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা আইপিও প্রক্রিয়ায় খরচ হবে।

কোম্পানির কেনা মেশিন পরিচিতি

উল্লেখ্য, ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে আছে বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংস লিমিটেড। আন্ডার রাইটার প্রতিষ্ঠান এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here