এসএমই খাতকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা নির্দেশনা

0
104
-ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে এগিয়ে নিতে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার ‘অষ্টম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা-২০২০’ উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

এসএমই পণ্যের প্রচার এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শনের লক্ষ্য নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নয় দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এসএমই খাতে উত্পাদিত অনেক পণ্যই বিশ্বমানের। এগুলোর সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জড়িত। কাজেই এ খাতের উন্নয়নে আমাদের বেশকিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

এসএমই খাতের উন্নয়নে করণীয় হিসেবে পাঁচ দফা নির্দেশনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি উন্নত বিশ্বে ভোক্তাদের চাহিদানির্ভর শতভাগ রফতানিমুখী পণ্য উত্পাদনে মনোনিবেশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশজ কাঁচামাল ব্যবহার করে ভারী শিল্পের পরিপূরক পণ্য এসএমই শিল্পের মাধ্যমে প্রস্তুত করতে হবে।

তৃতীয়ত, এসএমই শিল্পের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে হবে। চতুর্থত, কেউ যাতে আমাদের আর সস্তা শ্রমের দেশ মনে না করে। সেজন্য আমাদের দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে হবে ও উচ্চতর মূল্য সংযোজনের লক্ষ্য নিয়ে স্বল্প উত্পাদন খরচের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের অংশীদার হতে হবে।

এছাড়া আমাদের দেশীয় বিজ্ঞানী ও গবেষক ডিজিটাল, বায়োলজিক্যাল ও ফিজিক্যাল উদ্ভাবনে এগিয়ে রয়েছেন। ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী এ তিন ধারার সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। দেশের মাটিতে তা করতে পারলেই আমরা আসন্ন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ডিগ্রি নিয়ে চললে হবে না। কারিগরি শিক্ষাকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। তাছাড়া আমরা প্রত্যেক উপজেলা পর্যন্ত কারিগরি স্কুল নির্মাণ করে দিচ্ছি। দেশে বা বিদেশে যেখানেই কাজের খোঁজে যাক না কেন সব জায়গায় কিন্তু আসলে এখন সবাই দক্ষ জনশক্তি চায়। সেই দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু একটা পাস করে চাকরির পেছনে ছুটে না বেড়িয়ে ঋণ নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সরকারের বিনা জামানতে ব্যাংকঋণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা জামানতে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে থাকি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সেভাবে অর্থ নিতে পারেন। এসএমই ফাউন্ডেশন থেকেও ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ঋণে সুদের হার অত্যন্ত বেশি, সেই সুদের হার কমিয়ে আনারও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সিঙ্গেল ডিজিটে আমরা নামিয়ে আনতে চাচ্ছি। যাতে করে আমাদের উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে তা সহজে বিনিয়োগ করতে পারে। সেই সুবিধাটা আমরা সৃষ্টি করে দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, নিজস্ব বাজার সৃষ্টি করতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন নতুন বাজার অন্বেষণ করতে হবে। কোথায় আমরা নতুন বাজার পেতে পারি, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেটা খুঁজে বের করা ও সেই ধরনের পণ্য উত্পাদন করা। সেই উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা যে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলব তার যে কাঁচামাল তার চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে সেটা আমাদের দেখতে হবে, এ কাঁচামাল প্রাপ্তিও নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম ও এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিদেশী কূটনীতিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পাঁচজন শিল্প উদ্যোক্তাকে ‘এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২০’ প্রদান করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা পুরস্কারের অর্থের চেক, ট্রফি ও সনদপত্র দেয়া হয়।

এবারের শিল্প মেলায় ১৯৫ নারী উদ্যোক্তাসহ মোট ২৯৬ জন এসএমই উদ্যোক্তা তাদের পণ্য প্রদর্শন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাটজাত পণ্য, কৃষি ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী, হালকা প্রকৌশল শিল্প পণ্য, হস্ত ও কুটির শিল্প, প্লাস্টিক এবং কৃত্রিম তন্তুজাত পণ্য। মেলায় পাঁচটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ মেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here