এশিয়ান বিনিয়োগকারীরা ১০০ কোটি ডলার ইপিজেডে বিনিয়োগ করতে চায়

0
122

স্টাফ রিপোর্টার : কোভিড সংকটের সময় স্থানীয় বেসরকারি বিনিয়োগ যখন স্থবির হয়ে আছে, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) হাতে তখন অনেকগুলো বিনিয়োগপ্রস্তাব রয়েছে। বেপজার তথ্য অনুসারে, প্রস্তাবগুলোর বেশিরভাগই এসেছে চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশিয়ার দেশগুলো থেকে।

আমেরিকা-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কোম্পানিগুলো এখন দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে প্রায় ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। বেপজার লক্ষ্য যেহেতু দেশকে একক খাতনির্ভরতা থেকে বের করে আনা, তাই বেশিরভাগ বিনিয়োগপ্রস্তাবই করা হয়েছে পোশাক-বহির্ভূত পণ্যের জন্য।

বর্তমানে দেশের মোট বার্ষিক রপ্তানিতে বেপজার অবদান প্রায় ২০ শতাংশ। যার মধ্যে আরএমজি-বহির্ভূত পণ্যের অবদান ৬৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাইপলাইনে থাকা ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে বেপজার প্রবৃদ্ধি ২০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

এশিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম বলেন, চীনে শ্রমের খরচ ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা দেশটি থেকে সরে আসছে। আমরা এখন চীন-আমেরিকা বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে লাভবান হচ্ছি। কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারী মিয়ানমার থেকেও বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা স্থানান্তর করছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীন শীর্ষে রয়েছে। এছাড়াও ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে আসছে বলে জানান নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমরা জার্মানির সঙ্গে একটা বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’ উচ্চমানের চামড়াজাত পণ্য, জিপার, বোতাম, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ পণ্য এবং আউটডোর তাঁবুর মতো নন-আরএমজি পণ্য উৎপাদনেই বেশিরভাগ বিনিয়োগ আসছে বলে জানান তিনি।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তারা যেসব বিনিয়োগপ্রস্তাব পেয়েছেন, তার ৯০ শতাংশই এসেছে এশিয়ার দেশগুলো থেকে। জাপানি বিনিয়োগকারীরা ৫০টি শিল্প স্থাপনের জন্য চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে ৫০টি প্লট বরাদ্দ চেয়েছে। ফিল্ড আইটেম, গল্ফ শ্যাফট এবং অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ করবে তারা।

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তাদের প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য একটা কমিটি গঠন করেছি। কিন্তু বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগপ্রস্তাব থাকায় ওদের আমরা ৫০টি প্লট বরাদ্দ দিতে পারব না।’

বেপজার তথ্যানুসারে, বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে চীনের সর্বোচ্চ সংখ্যক ১০৯টি উদ্যোগ রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ৭১, জাপানের ৩১ ও ভারতের উদ্যোগ আছে ২০টি।

রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে এখন ৪৫৯টি উদ্যোগ চালু আছে, যার মধ্যে বিদেশি উদ্যোগ ৭০ শতাংশ। বেপজার তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত দেশের আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে থাকায় পটুয়াখালী, যশোর ও গাইবান্ধায় তিনটি নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল নির্মাণ শুরু করেছে বেপজা। এই মহামারিকালে বহু মানুষ চাকরি হারানোর ফলে বেকারত্ব যখন একটা বড় উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছিল, তখনই আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আসার সুবাদে ৩২ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে বেপজা।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা নন-আরএমজি সেক্টরে পণ্য বৈচিত্র্যের উপর জোর দিচ্ছি। যেমন, সনি এরিকসন মোবাইল যন্ত্রাংশ তৈরি করছে; নিসান, মিতসুবিশি, হিনো এবং টয়োটা উৎপাদন করছে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ। এবিইউ গার্সিয়া উৎপাদন করছে গল্ফ শ্যাফট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here