উৎপাদনে ফিরল উসমানিয়া গ্লাস

0
525

সিনিয়র রিপোর্টার : রাষ্ট্রায়ত্ত গ্লাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি এথন উৎপাদনে ফিরেছে। চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ফ্যাক্টরিতে গত বছরের জুন মাসে অগ্নি-দুর্ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ হয়।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৪ মাস পরে ফের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মাসুদ উল আলম মঙ্গলবার বলেন, দুটি চুল্লি সংস্কার করে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। লকডাউন তুলে নেয়ার পর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

গত বছরের ২৩ জুন আগুন লেগে কারখানার একটি চুল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন বন্ধ হয়। এর আগে থেকে বন্ধ ছিল অন্য চুল্লিটি। দুর্ঘটনার পর দুটি চুল্লি বন্ধ থাকায় কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়।

উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে গ্লাস বিক্রি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি আর উৎপাদিত গ্লাস অবিক্রীত পড়ে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি।

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্লাস শিট উৎপাদনে খরচ হয় ৪ কোটি ৭১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রায় অর্ধেক মূল্যে গ্লাস বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি আয় করে ২ কোটি ৫৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লোকসান হয় ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। প্রতিবছর এভাবে লোকসান গুনে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক আল আমিন বলেন, কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে রুগ্‌ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আর এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কখনও খুঁজে বের করা হয় না।

১৯৫৯ সালে দেশে কাচশিল্পের গোড়াপত্তন ঘটে উসমানিয়া গ্লাস শিট কারখানার মাধ্যমে। বেসরকারি মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা হয়। শুরুতে বেশ লাভজনক ছিল। নব্বই দশকের পর থেকে নানা কারণে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি সিবিএর সভাপতি শেখ তাজ উদ্দিন বলেন, গ্লাস উৎপাদনের তিনটি মেশিনই পাকিস্তান আমলের। পুরোনো মেশিনে উৎপাদন কমেছে। উন্নত প্রযুক্তির মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কারখানা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আশা করছি, সরকার নতুন রূপে আধুনিক মানের মেশিন স্থাপন করে কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেবে।

চট্টগ্রামের কালুরঘাটের উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি ১৯৫৯ সালে সাদা রঙের গ্লাস শিট উৎপাদন শুরু করে। একসময় দেশে গ্লাস সরবরাহের অন্যতম ভরসা ছিল এই প্রতিষ্ঠান। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে এই প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জন কর্মরত আছেন।

বেসরকারি খাতে পিএইচপি, নাসির ও এমইবি গ্লাস আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে বর্তমানে উন্নত মানের কাচ তৈরি করছে। এসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদনক্ষমতা নিয়মিত বাড়ালেও কাচশিল্পকে পথ দেখানো উসমানিয়ার লোকসান প্রতিবছর বাড়ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার কাচের বাজার রয়েছে। দেশে বার্ষিক কাচের চাহিদা ২৫ কোটি বর্গফুট। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে দেশে মোট উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ৩২ কোটি বর্গফুট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here