ইমাম বাটনের উৎপাদন বন্ধ, তবুও দর বেড়েছে দ্বিগুণ

0
207

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের। সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে যেকোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য তাত্ক্ষণিকভাবে জানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও ইমাম বাটন উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাঁচ মাস পর এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এ বছরের জুলাই থেকে আগস্ট সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৯৮ শতাংশ।

স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ইমাম বাটন বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির থেকে কোম্পানির অবস্থা ভালো ছিল এবং নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ ঘোষণা করে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানি পর্যাপ্ত রাজস্ব আয় করতে সমর্থ হয়নি।

ফলে রাজস্ব আয় থেকে কোম্পানির সব খরচ নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এ কারণে ২০১১ সাল থেকেই কোম্পানির লোকসান হচ্ছে। আর এ কারণে কোম্পানির পক্ষে লভ্যাংশ দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। অপর্যাপ্ত ক্রয়াদেশের কারণে কোম্পানি তার উৎপাদন সক্ষমতা সন্তোষজনক পর্যায়ে কাজে লাগাতে পারছে না।

এরই ধারাবাহিকতায় কভিড-১৯-এর কারণে কোম্পানির বিক্রি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এ বছরের এপ্রিল থেকে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন চালুর জন্য কোম্পানি ক্রয়াদেশ পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

এপ্রিল থেকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে একথা জানিয়েছে ইমাম বাটন। অবশ্য উৎপাদন বন্ধ থাকাকালীনও কোম্পানিটির শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

এ বছরের ২৭ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৯ টাকা ১০ পয়সা, যা ২৫ আগস্ট পর্যন্ত বেড়ে ৩৭ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অবশ্য দুদিন ধরেই কোম্পানিটির শেয়ার নিম্নমুখী। সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার ৩৩ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, মূল্যসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ইমাম বাটন আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করেছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার জন্য এরই মধ্যে এসআরএমআইসি বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকাকালীন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছে সার্ভিল্যান্স বিভাগ।

কমিশনের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জও (ডিএসই) কোম্পানিটির বিষয়ে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে। এক্সচেঞ্জটির একজন কর্মকর্তা জানান, ইমাম বাটনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের বিষয়ে কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হবে। একইরসঙ্গে এর শেয়ারদরের অস্বাভাবিক উত্থানের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০১৯-২০ হিসাব বছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচ্য হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৩৯ লাখ টাকা।

যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ২২ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে (ইপিএস) হয়েছে ৫১ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ২৯ পয়সা। ৩১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৮১ পয়সা।

১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চট্টগ্রামভিত্তিক বোতাম প্রস্তুতকারক কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

মোট শেয়ার সংখ্যা ৭৭ লাখ। এর ২৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৬১ দশমিক ৬৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here