রাহেল আহমেদ শানু : কোন নির্দেশনা কাজে আসেনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার সকালে ভরসার যোগান দিয়ে বাতাসে ভাসছিল অনেক কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর। সময় গড়ালে থাকলে প্রত্যাশাও বাড়তে থাকে বিনিয়োগকারীদের।

অবশেষে সব জলে গিয়ে ডুবল। বাজার পতনের ইতিহাস ভেঙ্গে গড়ল প্রাগৈতিহাস। বাড়ছে সম্ভাবনার বদলে আশঙ্কা।

প্রত্যাশা-প্রাপ্তি মুহূর্তে রূপ নিল বিষাদে। সব শঙ্কা দিনভর মাথার ওপর দুলে পরে তা ইতিহাস হয়ে ওঠে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার লেনদেনের চিত্র। দিন শেষে ডিএসইএক্সের সূচক আরো ১৬৮ পয়েন্ট কমে ৩৬০৩ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইএক্স, শেয়ার ধস এবং মোট লেনদেন চিত্র। স্টক বাংলাদেশের গ্রাফ।

২০১৩ সালের ২ মে ছিল ভয়বহ ধসের দিন। দিনটিতে সূচক ছিল ৩৪০৩ পয়েন্ট। এরআগে জানুয়ারিতে সূচক চালু হওয়ার পর ৪০৫৫ পয়েন্ট গিয়ে একইভাবে ২০ অক্টোবর সূচকের পতন হয়। বাজার সে দিকে যাওয়ার আশঙ্কা! তবে সরকার নীতিগত সহায়তা ও অর্থের প্রবাহ ঘটালে দ্রুত উত্থানে ‍যাবে।

কিন্তু বাজার পতনের সব ইতিহাস ভেঙ্গে বুধবার গড়ছে প্রাগৈতিহাস। সেই ৩৪০৩ পয়েন্ট এখন শেষ সাপোর্ট লেবেল।

ডিএরইর বুধবারের লেনদেন চিত্র

২০১৬ সালে চালু হওয়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসইপ্রধান সূচক ডিএসইএক্স -এর আর কোন সাপোর্ট লেবেল নেই। তবে পুরাতন ইনডেক্সের সাপোর্ট ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে সূচক ছিল ৩ হাজার ৭৭১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। সেটিও অতিক্রম করেছে।

লেরদেনে সেরা কোম্পানির চিত্র

‘নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পুঁজিবাজারে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মানুষ মনে করছে অর্থনীতির খারাপ অবস্থা হতে পারে। ভয়ে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিচ্ছে’ বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান। এ অবস্থায় বাজার সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য বাড়ানো উচিৎ বলে মত দেন তিনি।

বুধবার বাজার ধসের ডিএসইর চিত্র। স্টক বাংলাদেশের গ্রাফ।

কেন হচ্ছে এমন-  উত্তর বিনিয়োগ অভাব। পুঁজিবাজারের ফুসফুসকে অক্সিজেন দেয় নগদ অর্থ। নানান অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সেই অর্থ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেকেন্ডোরি মার্কেট বা বিদেশী বিনিয়োগ এখন অনেক কম, নেই বললেই চলে। সেই অক্সিজেন মার্কেটের শিরা উপশিরায় গিয়ে বাঁচিয়ে রাখছে।

ডিএসইর বুধবারের চিত্র

অক্সিজেনের অভাবে লাল বাতি জ্বলছে বাজারে। তবে দ্রুত নগদ অর্থের সরবরাহ হলেই সেরে উঠবে পুঁজিবাজার বলে মনে করেন মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা।

ভয়াবহ পতনে বাংলাদেশ পুজিঁবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ রোববার ২ সপ্তাহ লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানায়। নতুন টাকা বাজারে না এলে পতন অব্যহত থাকবে এবং তখন দাবি না জানালেও কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ করতে বাধ্য হবে। তবে সেই দিন বেশি দুরে নেই বলেও মনে করেন তারা।

পেছনের খবর-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here