সিনিয়র রিপোর্টার : বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয়ার পর প্রথমবারের মতো পরিত্যক্ত ৯টি উড়োজাহাজ পরিদর্শন করেছে উড্ডয়ন বন্ধ হওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাকা উড়োজাহাজের অবস্থা পরীক্ষা করে নতুন পর্ষদ।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা যা ভেবেছিলাম ততটা খারাপ দেখিনি। আমি আরও বেশি গারবেজ মনে করেছিলাম। তবে ভেতরে কি অবস্থা এখনি এটা বোঝার উপায় নেই।

এরপর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিম যাবে, অবস্থা দেখতে। ইঞ্জিনিয়ারিং টিম গেলে আবার তাদের যন্ত্রপাতিও কিছু লাগবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে আমাদের যে অফিস আছে সেটা এখনো খুলতে পারিনি।

এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, এগুলো হয়তো ফ্লাইয়েবল করা যাবে, কিন্তু সেটা কতটুকু ইকোনোমিক হবে সেটাই এখন প্রশ্ন। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত না ইঞ্জিনিয়ারিং অডিট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বোঝা যাবে না। আমরা এটা দিয়ে যাত্রী পরিবহন করব নাকি কার্গো পরিবহন করব এটাও তখনই ঠিক হবে।

তিনি বলেন, কার্গোর ক্ষেত্রে যে রিকোয়্যারমেন্ট আছে সেগুলো অনেক রিল্যাক্সড। এটা করা অনেক সহজ হবে বলে আমার ধারণা। তবে এটি টেকনিক্যাল রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে। তবে এটাও ঠিক উড়োজাহাজগুলোর বয়স অনেক হয়েছে। এগুলো দিয়ে যাত্রী পরিবহন করাটা আমাদের কাছেও সুদুরপরাহত মনে হচ্ছে।

ইন্সপেকশনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, এখনও ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের কোনো সময়সীমা আমরা ঠিক করিনি। প্রাথমিকভাবে আমাদের চেষ্টা হচ্ছে দেশীয় একটি টিম গঠন করে এগুলোর নিরীক্ষা সম্পন্ন করা। এজন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনসের সঙ্গে আমরা কথাও বলছি।

বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ছবি

ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ বলছে, উড়োজাহাজগুলোর অবস্থা যতটা খারাপ ভেবেছিলেন তার চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটের পর এগুলো উড়তে সক্ষম করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারের উড্ডয়ন ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর হিসাবে, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইনসটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক।

অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here