ইউনাইটেড এয়ার উড্ডয়নে ‘সহযোগিতার’ প্রস্তাব তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর

0
997

সিনিয়র রিপোর্টার : ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের বন্ধ বিমান উড্ডয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ইতোমধ্যে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

পুনর্গঠিত পর্ষদকে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী।

সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ‘সহযোগিতার’ প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক এই প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী।

তবে বিএসইসির নির্দেশনার বাইরে গিয়ে সাবেক উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের পরামর্শ আমলে নিতে আগ্রহী নন পুনর্গঠিত পর্ষদ।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করবে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পুনর্গঠিত পর্ষদ। তবে বর্তমান পর্ষদের বাইরে থেকে সাবেক উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাজ করার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে বিএসইসি।

ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী

চিঠিতে তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে নতুন পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ করা হয়েছে, যা আশাব্যাঞ্জক। নতুন এ পর্ষদ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে গতিশীল বিমান পরিবহন সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।

এয়ারলাইন্সটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এতে তার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

চিঠিতে তিনি আরো লিখেছেন, আমাকে যদি দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তাহলে দেশে ফেরত এসে নতুন পরিচালনা পর্ষদকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই, কেউ চাইলে সহযোগিতা করতে পারেন। এটা তো ভালো কথা। তবে আমাদের মনোনীত পরিচালকরা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের গতি ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাওনা টাকা মওকুফে সরকারের কাছে চলতি মাসে আবেদন করেছে বর্তমান এয়ার কর্তৃপক্ষ।

তবে আশা তৈরি হলেও বিমান উড্ডয়নে যে তহবিল প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। যে কারণে ২০১৬ সালের ৫ মার্চ থেকে বিমান উড্ডয়ন বন্ধ হয়, সেই ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের তহবিল নিয়ে নির্দেশনা ছাড়াই চলছে তোড়জোড়।

ইউনাইটেড এয়ারের বহরে রয়েছে ১০টি উড়োজাহাজ। এগুলোর মধ্যে নয়টি বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় এবং একটি রয়েছে ভারতের কলকতায়।

এদিকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পুনর্গঠিত পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদ উল আলম বলেছেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কোম্পানিকে নিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাই কোম্পানিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অনেক চ্যালেঞ্জ।

এ পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ বনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অযৌক্তিক কারণে কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ুক আমরা সেটা চাই না। তাই এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here