ইউনাইটেড এয়ারকে ২০ লাখ টাকা ঋণ প্রদানের নির্দেশ বিএসইসির

0
1093

স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ার বাজারে ভ্রমণ ও অবকাশখাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে (বিডি) আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তাদের ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড (বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিল) বা অন্য কোনো উৎস থেকে কোম্পানিটিকে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

সম্প্রতি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ইউনাইটেড এয়ারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে ডিএসইকে মৌখিকভাবে বলা হলেও পরে তা চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইউনাইটেড এয়ারকে সচল করতে ২০ লাখ টাকা ঋণ বা অন্য কোনো উপায়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ অর্থ স্টক এক্সচেঞ্জের ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড বা অন্য কোন উৎস থেকে প্রদান করা যেতে পারে। এ অর্থ পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি পরিশোধ করবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৫ বছর থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোম্পানির দায় ও লোকসানে বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানির প্রধান সমস্যা হলো তহবিলের অভাব। ৮২৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ের খরচ বহন করতে পারছে না। এ ছাড়া অফিস স্টাফদের বেতনও দিতে পারছে না। আর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালকদের তহবিল জোগান দেওয়ার সামর্থ্য নেই। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করাই ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালনা পর্ষদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারল্য সংকট দূর করতে নতুন পরিচালনা পর্ষদকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বিএসইসি।

কমিশনের মতে, ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড গঠন করা হয়েছে কেবলমাত্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। এই ফান্ড গঠনের আরও উদ্দেশ্য রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো- কোনো বন্ধ কোম্পানিকে সচল করা, যাতে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ফেরত পায়। ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড থেকে অর্থ ব্যয় করে যদি কোনো প্রতিষ্ঠানকে সচল করা যায় বা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া যায় সেটাই হবে বড় স্বার্থকতা।

ইউনাইটেড এয়ারের পুরোনো পর্ষদের ব্যাপক অনিয়মের কারণে এই মুহূর্তে কোথাও থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। মূলত এ কারণেই প্রতিষ্ঠানকে সচল করতে এ স্বল্প পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত  উদ্ভাবনী চিন্তার একটি অংশ বলে মনে করে বর্তমান কমিশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইউনাইটেড এয়ারের সঙ্গে গত সপ্তাহে আমরা আলাপ করেছি। তাদের একটা ৪ বছরের স্ট্যাটুটরি অডিট লাগবে। ওরা যেহেতু এয়ারক্রাফ্টগুলোকে আবারও আকাশে উড্ডয়ন করাতে চায় অথবা লিজ দিতে চায় অথবা বিক্রি করতে চায়, যেটাই করুক না কেন তার জন্য একটি টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন দরকার। এজন্য আমরা ইভ্যালুয়েশন করার নির্দেশ দিয়েছি। যেহেতু তাদের কাছে এই মুহূর্তে ব্যয়যোগ্য কোনো অর্থ নেই, সেহেতু ডিএসইকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ২০ লাখ টাকা ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড থেকে দেওয়ার জন্য বলেছি।

তথ্য মতে, দীর্ঘ দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এ লক্ষ্যে কোম্পানির পুরোনো উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাদ দিয়ে নতুন আট জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং তহবিল তসরুপের কারণে প্রচুর দেনা ও লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে ইউনাইটেড এয়ার। এতে তহবিল সংকটে পড়েছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ।

এমনকি নতুন করে কোম্পানিটিকে চালু করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের খরচও বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড এয়ারের কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মোট ৩৫৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫১ টাকা পাওনা মওকুফের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে অনুরোধ জানিয়েছে বিএসইসি।

একইসঙ্গে কোম্পানিটির এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) নবায়ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

জানা গেছে, ২০১০ সালে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়া ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কারণে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মূল মার্কেট থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হয়। একইসঙ্গে গত ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কোম্পানিটির সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এ ব্যর্থতার জন্য কোম্পানিটির সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দায়ী বলে মনে কমিশন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারকে ওটিসি মার্কেটে স্থানান্তর করে বিএসইসি।

এদিকে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বিএসইসি। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন- কাজী ওয়াহিদ উল আলম, এম সাদিকুল ইসলাম, মাসকুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, মুহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ ও সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন কাজী ওয়াহিদ উল আলম। আর এ ডুবন্ত ইউনাইটেড এয়ারকে সচল করার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে, সম্প্রতি বিএসইসি ওটিসি মার্কেট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ওটিসি মার্কেটের আওতাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ভিত্তিতে এসএমই প্ল্যাটফর্ম ও অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এরই ধারাবাহিকতায় বিএসইসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনাইটেড এয়ারকে ওটিসি থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে স্থানান্তর করা হবে। শিগগিরই অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড চালু করা হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here