আস্থা অর্জন ও আইপিও নিয়ে প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের

0
404

সিনিয়র রিপোর্টার : দীর্ঘ নয় বছর দায়িত্ব পালনের পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও দুজন কমিশনার সম্প্রতি বিদায় নিয়েছেন। কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে রোববার যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। নতুন তিন কমিশনার নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এমন একটি সময়ে নতুন কমিশন দায়িত্ব নিচ্ছে যখন কিনা একদিকে কভিড-১৯-এর কারণে বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজার, অন্যদিকে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা। ফলে দায়িত্বের শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে নতুন কমিশনকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন কমিশনকে কভিড-১৯-এর প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে। ফেরাতে হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা। এক্ষেত্রে তাদের পুঁজিবাজারের অটোমেশন, ফ্লোর প্রাইসের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

২০১০ সালের পুঁজিবাজার ধসের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি সুপারিশের ভিত্তিতে পুঁজিবাজার সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় বিএসইসির সদ্য বিদায়ী কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে। এ কমিশনের নয় বছরের মেয়াদে নতুন আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইনে সংশোধনী, নতুন বিধিমালা তৈরি, বিদ্যমান বিধিমালার সংশোধনসহ অনেক প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা জারি করা হয়। কিন্তু প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি, ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধ করতে না পারাসহ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী বেশকিছু সিদ্ধান্তের কারণে পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়।

ফলে বিদায়ী কমিশনের মেয়াদে একসময় যেখানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গিয়েছিল, সেটি চলতি বছরের মার্চে ৩ হাজার ৬০০ পয়েন্টে নেমে আসে। দরপতন ঠেকাতে সব কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর (ফ্লোর প্রাইস) নির্ধারণ করে দেয় বিএসইসি। অবশ্য মার্চে সূচক পতনের ক্ষেত্রে নভেল করেনাভাইরাসের প্রভাবও ছিল। কিন্তু তার আগে থেকে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে ২০১৯ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই থেমে থেমে সূচকের পতন হয়েছে।

নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পরই সবার আগে কভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে কীভাবে পুঁজিবাজারকে সচল করা যায়, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাংলাদেশের মতো আংশিক অটোমেটেড পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যমান এ সক্ষমতার ঘাটতি দূর করে দেশের পুঁজিবাজারকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পুরোপুরি অটোমেটেড করে তোলার গুরুদায়িত্ব নতুন কমিশনের ওপরই বর্তাবে। অটোমেশনের পাশাপাশি বাজারকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া এবং গুণগত মানসম্পন্ন নতুন আইপিও অনুমোদনের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে নতুন কমিশনকে।

বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটের বিশ্বব্যাপী যে চরিত্র সেটি নিশ্চিত করব। ইকুইটি বেজড কার্যক্রমের বাইরে বন্ড নিয়ে কাজ করব। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি লোন নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বোপরি সব ক্ষেত্রেই সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে ১৯৯৮ সালে অটোমেটেড প্লাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন চালু হয়। কিন্তু এরপর ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও একটি সমন্বিত ও একীভূত অটোমেটেড সিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। যে কারণে নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে লকডাউনের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারের কার্যক্রম চালু থাকলেও বাংলাদেশে বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে পুঁজিবাজারের লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য যে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) রয়েছে, সেটি থাকে ব্রোকারেজ হাউজের কাছে। কিন্তু দেশে ওএমএস সিস্টেম পরিচালনা করছে স্টক এক্সচেঞ্জ।

এজন্য প্রতি বছর ফি বাবদ বড় অংকের অর্থ গুনতে হচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জকে। আমাদের এখানে লেনদেন সম্পন্ন করতে ব্রোকারেজ হাউজের ওয়ার্ক স্টেশন পরিচালনার জন্য এখনো ব্যক্তির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। আবার ব্রোকারেজ হাউজের যে কার্যালয় বা শাখার জন্য ওয়ার্ক স্টেশন নির্ধারিত রয়েছে, সেটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়া অন্য কোথাও স্থানান্তর করা যায় না। শেয়ার কেনাবেচার পর ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কিনা সেটি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নিশ্চিত হতে হয়।

এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউজ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানি তথ্য আদান-প্রদান এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশের পুঁজিবাজারকে পুরোপুরি অটোমেটেড করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল), ব্রোকারেজ হাউজ, স্টক এক্সচেঞ্জ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে একটি সমন্বিত এবং একীভূত সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসতে হবে নতুন কমিশনকে।

এ বছরের মার্চে পুঁজিবাজারের লাগামহীন দরপতন ঠেকাতে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা নির্ধারণ করে দেয় বিএসইসি। এক্ষেত্রে চলতি বছরের ১৯ মার্চের আগের পাঁচ কার্যদিবসে কোনো তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সমাপনী মূল্যের গড়কে সেই সিকিউরিটিজের প্রারম্ভিক মূল্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। আর এই গড় মূল্যকে ফ্লোর প্রাইস ও সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা হিসেবে গণ্য করা হবে।

এর ফলে এই গড় মূল্যের চেয়ে কমে কেউ শেয়ার কেনাবেচার ক্রয়াদেশ দিতে পারবে না এবং এর নিচে শেয়ারের দর নামবেও না। এর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে সব কোম্পানির শেয়ারের দর ও পুঁজিবাজারের সার্বিক সূচককে একটি নির্দিষ্ট সীমায় থামিয়ে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু হলেও ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেয়ার কারণে লেনদেন অনেক কম হবে। তাই নতুন কমিশনকে ফ্লোর প্রাইসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সদ্য বিদায়ী কমিশনের মেয়াদে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের বিষয়টি বেশ আলোচিত ছিল। বিদায়ী কমিশনের নয় বছরে ৯১টি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করা হয়। এ সময়ে কোনো বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। বেসরকারি খাতের হাতেগোনা কয়েকটি ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে। আইপিও নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ইস্যু ছিল গত বছর কপারটেকের তালিকাভুক্তি।

কোম্পানিটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে সে সময় বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে এবং এ ইস্যুতে কোম্পানিটির নিরীক্ষক আহমেদ অ্যান্ড আখতার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পেশাগত সনদ নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকেও কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে অসংগতির বিষয়টি কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়।

তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বিএসইসির পক্ষ থেকে কপারটেককে তালিকাভুক্তির জন্য ডিএসইকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ঘটনার পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কমিশনের প্রতি আস্থাহীনতা আরো তীব্র হয়ে ওঠে। আইপিও অনুমোদন নিয়ে বিনিয়োগকারীসহ বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে আস্থাহীনতা বিরাজ করছে নতুন কমিশনকে সেটি দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

তাছাড়া ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধ করা, নিস্তেজ হয়ে পড়া মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়া, ইকুইটির বাইরে বাজারে নতুন পণ্য আনা, শেয়ার বাই ব্যাক চালু করা, ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় সাধন করার পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার কাজটি নতুন কমিশনকেই করতে হবে।

সর্বোপরি পুঁজিবাজারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার মূল দায়িত্বও কমিশনের নিতে হবে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সবার আগে নতুন কমিশনের দায়িত্ব হবে সীমিত পরিসরে হলেও পুঁজিবাজার চালু করা। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটি বন্ধ করতে হবে। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইপিওর মাধ্যমে যাতে শেয়ারের দর অতিমূল্যায়িত না হয়, সেটিও নতুন কমিশনকে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে একদিকে যেমন অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে, এর বিপরীতে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠিত ভালো কোম্পানি অর্থ সংকটের কারণে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের জন্য আসতে পারে। এক্ষেত্রে কমিশনের দায়িত্ব হবে প্রয়োজনে বিধিবিধানে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও এসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার ক্ষেত্রে সহায়তা করা। তাছাড়া পুঁজিবাজারের স্বার্থে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নতুন কমিশনকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি নতুন কমিশনে যারা আসছেন, তাদেন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।

পুঁজিবাজারকে সচল রাখার জন্য সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে ফ্লোর প্রাইসের বিষয়ে নতুন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করছেন সিনিয়র ব্রোকার ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট মোস্তাক আহমেদ সাদেক। তিনি বলেন, এবার পূর্ণাঙ্গ কমিশন বিএসইসির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। করোনা মহামারীর মতো কঠিন সময়ে তারা দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তাদের প্রতি আমার শুভ কামনা। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিষয়টি কার্যকর করতে নতুন কমিশনকে ভূমিকা রাখতে হবে।

তাছাড়া ওয়ালটনের আইপিও ইস্যুটি মাঝপথে থেমে আছে, এর নিষ্পত্তি করতে হবে। মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা চলে গেছে। এটিকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাছাড়া ইকুইটিনির্ভর পুঁজিবাজারে বন্ড, ডেরিভেটিভস নতুন পণ্য চলুর বিষয়ে নতুন কমিশনকে উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের পুঁজিবাজার মূলত আংশিক অটোমেটেড। এটিকে পুরোপুরি অটোমেটেড করার জন্য নতুন কমিশনকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কেনার বিষয়টি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে তোলে। তাই উদ্যোক্তা পরিচালকদের এককভাবে নিজ কোম্পানির ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে বিদ্যমান বিধানটি পুরোপুরি কার্যকর করার পাশাপাশি নতুন কমিশনকে শেয়ার বাই ব্যাক আইন কার্যকরের উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করছেন ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও।

তিনি বলেন, সবার আগে চাহিদা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি লাভজনক কোম্পানিসহ বহুজাতিক কোম্পানির আইপিও বাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে নতুন কমিশনকে ভূমিকা রাখতে হবে। পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থার সংকট বিরাজ করছে নতুন কমিশনকে সেটি দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। কী কারণ আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে।

ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভী বলেন, সবকিছুর মূলে রয়েছে আস্থার বিষয়টি। সবার আগে সেটি ঠিক করতে হবে। কোন কারণে আস্থা নষ্ট হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সবার অভিভাবক হিসেবে আমরা নতুন কমিশনের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

কোম্পানির ব্যালান্সশিট যাতে স্বচ্ছ হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আর বাজার একটু স্বাভাবিক হয়ে এলে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দিতে হবে। এটি বেশিদিন থাকা উচিত নয়। তাছাড়া নতুন কমিশনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে অটোমেটেড ব্যাংকিং কার্যকরের উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here