‘আসছে নতুন ফান্ড’

0
2310
বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ফাইল ছবি

সাখাওয়াত হোসেন সুমন : চাঙা পুঁজিবাজার নিয়ে কেবল দেশের বিনিয়োগকারীরা নন, দেশের বাইরে থেকেও তহবিল আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

যে অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করা হয়, সেটি দিয়ে যেন দেশের বাইরে থেকেও বিনিয়োগ করা যায়, সেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে এটি নিশ্চিত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে বলা হয়েছে। একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান শিবলী রুবাইয়াত।

শিবলী রুবাইয়াত বলেন, রোড শোর সরাসরি রেসপন্স আমরা পাব না। রেসপন্স পাবেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। শুনেছি রিটেইলারদের (ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারী) কাছ থেকে তারা ভালো সাড়া পাচ্ছেন।

বড় বিনিয়োগকারীরাও আলোচনা শুরু করেছেন। এর সুবিধা পেতে ছয় মাস কী এক বছর সময় লাগবে। তবে রিটেইল ইনভেস্টররা এরই মধ্যে বিনিয়োগ করা শুরু করেছেন।

গত বছরের ২ জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে অবিশ্বাস্য উত্থান শুরুর পর থেকে সমস্যা দুটির সমাধান হতে শুরু করেছে। বাজার বাড়তে শুরু করেই ধপাস করে পড়ে যাওয়ার সমস্যা এখন আর নেই। এতে শেয়ার ক্রয়ে আস্থা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

শেয়ারের মূল্য ও সূচক বাড়ার পর সংশোধন হচ্ছে না তা নয়, তবে এপ্রিল থেকে খাত ধরে উত্থান ও সংশোধনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ এক খাত উত্থানে গেলে অন্য খাতে সংশোধন হচ্ছে। এ কারণে সূচকে প্রভাব পড়ছে না সেভাবে।

তারল্যসংকটের সমাধান হচ্ছে দুভাবে। শেয়ারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আটকে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগযোগ্য হয়েছে। নিয়মিত কেনাবেচা করতে পারছেন তারা। আবার আসছে নতুন ফান্ড।

বিএসইসি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেও জোর দিচ্ছে। এরই মধ্যে দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রের রোড শো করে এসেছেন তারা। ৯ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুবাইয়ে রোড শো শেষে সেখানে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রথম ডিজিটাল বুথও উদ্বোধন করা হয়।

এরপর গত ২৬ জুলাই থেকে ১০ দিনের রোড শো করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ও ২২ সেপ্টেম্বর জেনেভাতে রোড শো করা হবে।

তবে ডিজিটাল বুথের মাধ্যমে প্রবাসী বিনিয়োগ খুব একটা আসেনি বলে জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান। বলেন, একেক দেশে একেক ধরনের নিয়মের কারণে ব্রোকারেজ হাউস বা ডিজিটাল বুথের মাধ্যমে খুব বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি ডিএসইর মোবাইল অ্যাপকে উন্নত করার যেন বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন করা যায়।

মোবাইল অ্যাপটির কারিগরি ত্রুটি আছে। প্রায়ই সেটি হ্যাঙ্গ হয়। ক্রয় বা বিক্রয়ের অর্ডার সংশোধন করা যায় না। আরও অনেক সমস্যা আছে জানিয়ে শিবলী রুবাইয়াত বলেন, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন করতে একটি অ্যাপ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here