আল-হাজ টেক্সটাইলের সব কিছুই অনিশ্চিত

0
1196

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান :  লোকসানে রয়েছে আল-হাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। গত তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মোট লোকসান হয়েছে ০ দশমিক ৪৩০ টাকা। প্রথম প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে ০ দশমিক ১৩০ টাকা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে ০ দশমিক ২১০ টাকা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে ০ দশমিক ১১০ টাকা। কোম্পানির প্রফাইল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আল-হাজ্ব টেক্সটাইলসের উৎপাদন আরো ১৫ দিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। এর আগে আরো চার বার সময় বাড়ানো হয়েছিল। উৎপাদিত সুতা বিক্রির কোনো উন্নতি না হওয়ায় গেল ৯০ দিন ধরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্রখাতের এই কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।

কোম্পানির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এর উৎপাদন চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎপাদিত মজুদ সুতা বিক্রির কোনো উন্নতি না হওয়ায় আরো ১৫ দিন অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

উল্লেখ্য, চলতি মূলধনের (Working Capital) তীব্র সঙ্কট, বাজারে পণ্যের চাহিদা না থাকা এবং বর্তমানে গুদাম মজুদ পণ্যে পরিপূর্ণ থাকায় নতুন পণ্য রাখার জায়গার অভাব থাকার কারণে গত ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৩০ দিনের জন্য কারখানাটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় আলহাজ্ব টেক্সটাইল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও কোম্পানির সুতা বিক্রির কোনো উন্নতি হয়নি।

তাই প্রথম ধাপে ১৫ দিন অর্থাৎ ২৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এসময়েও কোম্পানিটির উৎপাদন মজুদ সুতা বিক্রির কোনো উন্নতি হয়নি। তাই দ্বিতীয় ধাপে আরো ১৫ দিন অর্থাৎ ৯ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানিটির কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কোম্পানির একই অবস্থা থাকার কারণে উৎপাদন বন্ধের সময় তৃতীয় ধাপে আরো ১৫ দিন বাড়ানো হয় কোম্পানিটির। গত ২৪ আগস্ট থেকে থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এবং একই অবস্থা থাকার কারণে গত ৮ সেপ্টেম্বর খেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোম্পানিটি।

এদিকে কোম্পানি এরকম বারবার উৎপাদন বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সহজ ভাবে নিতে পাচ্ছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা এখানে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, এমনটি কেন হবে। একবার বা সর্বোচ্চ দুইবার উৎপাদন বন্ধের সময়সীমা বাড়াতে পারে। কিন্তু বারবার বাড়ানো কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। নিশ্চয় এখানে কোম্পানির অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশিনের (বিএসইসি) এব্যাপারে নজরদারি করা উচিত।

এতোসব সমস্যা নিয়ে ডেইলি স্টক বাংলাদেশের প্রতিনিধি আল-হাজ টেক্সটাইলের কোম্পানি সচিবের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। কোম্পানি সচিবের সঙ্গে এই প্রতিনিধি দেখা করতে গেলেও সচিব কথা বলতে বা দেখা করতে রাজি হননি। এমনকি অফিসে ফোন করেও সচিবকে পাওয়া যায়নি। তবে অনেক চেষ্টার পর কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. শওকত আলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, কবে নাগাদ নতুন করে উৎপাদনে যাবে আল-হাজ টেক্সটাইল সে ব্যাপারটি একেবারে অনিশ্চিত। সুতা বিক্রি না হওয়ায় কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় লোকসানে রয়েছে। কবে নাগাদ সুতা বিক্রি আরম্ভ হবে সে ব্যাপারটিও তিনি জানেন না। অর্থাৎ কোম্পানির সব কিছুকে তিনি অনিশ্চিত দাবি করছেন।

এদিকে কোম্পানিটির একাধিক শেয়ারহোল্ডার অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার দর ৫১ টাকা। এই শেয়ার ১০ টাকায় নেমে আসবে। এমনকি কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতেও যেতে পারে। গত বছর কোম্পানিটি ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। চলতি বছর শেষে কোম্পানিটি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারে। অর্থাৎ কোম্পানিটির এমন আচরণ যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের কিছু যায় আসে না।

বিএসইসির রুলস অনুযায়ী স্পন্সর ডিরেক্টরদের শেয়ার সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ থাকার কথা। কিন্তু সে রুলসও মানছে না কোম্পানিটি। কোম্পানিটির বর্তমান স্পন্সর ডিরেক্টরদের শেয়ার রয়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কোম্পানিটি যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার রুলস অনুসরণ করছে না সে ব্যাপারে সিএফও বলেন, আল-হাজ টেক্সটাইলের স্পন্সর ডিরেক্টরদের শেয়ার ৩০ শতাংশের নিচে রয়েছে। এখানে আমার কিছু করার নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here