আরো উৎপাদনের প্রস্তুতি রিং-শাইনের, বাতিল হবে ২৭ কোটি শেয়ার

0
1509

সিনিয়র রিপোর্টার : রিং-শাইন টেক্সটাইলে প্রাণ ফেরাতে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাচ্ছে। দুটি ইউনিটে উৎপাদন চলতে থাকা কোম্পানির আরও একটি ইউনিটে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে টাকা ছাড়াই যে ২৭ কোটি শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল হবে বলে জানানো হয়েছে।

২০১৯ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি পরের বছর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফিরে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি গত ২৭ জানুয়ারি কোম্পানিটির বোর্ড পুনর্গঠন করে আগের পরিচালকদের বাদ দিয়ে দেয়।

বিএসইসি এখন পর্যন্ত ১৩টি কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে রিংসাইনে উৎপাদন শুরু হয়। গত ১৩ জুন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানায়, তারা তাদের উৎপাদনক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করছে।

এখন আরও একটি ইউনিট চালু হলে উৎপাদনক্ষমতার ৩৭.৫ শতাংশ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে। জানতে চাইলে বিএসইসি মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালক সগীর আহমেদ বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর কোম্পানিটির উৎপাদন চালু আছে এবং উৎপাদনও বাড়ছে।

নতুন কোনো প্ল্যান্ট শিগগিরই চালু হবে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, যে দুটি চালু করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করার পর প্রয়োজনে আমরা নতুন প্ল্যান্ট চালুর দিকে যাব। প্রয়োজনে আইপিওর যে টাকা রাখা আছে, সেগুলোরও ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

রিং শাইনের ক্ষেত্রে নতুন বোর্ড আরেকটু সুবিধাজনক অবস্থায় আছে এ কারণে যে, আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি যে ১৫০ কোটি টাকা তুলেছিল, তার পুরোটাই ব্যাংকে রক্ষিত ছিল। এর মধ্যে বিএসইসির অনুমতি পেয়ে ৪০ কোটি টাকায় দায়দেনা পরিশোধ করা হয়েছে। আর বাকি অর্থে শুরু হয় উৎপাদন।

ফলে আরও ১১০ কোটি টাকা ব্যবহারের সুযোগ আছে নতুন পর্ষদের কাছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব এলে তা খতিয়ে দেখে অনুমতি দেবে বিএসইসি।

একই সঙ্গে বিএসইসির সেই কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে টাকা ছাড়াই যে ২৭ কোটি শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল হবে। এ-সংক্রান্ত আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ। এখন তা কমিশন সভায় উপস্থাপন করার বাকি। আগামী মাসেই তা উপস্থাপন করা যাবে।

তিনি বলেন, কমিশন শেয়ার বাতিল করতে পারে না। শেয়ার বাতিলের অংশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কোম্পানিটিকে আদালতে গিয়ে অবৈধ শেয়ারগুলো বাতিল করার জন্য বলা হবে। কোম্পানি তখন সে শেয়ারগুলো বাতিল করবে।

তবে রিংসাইনের মনোনীত পরিচালক সগীর আহমেদ বলেছেন, এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএসইসি। আমাদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

আইপিওতে আসার আগে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা বা পরিচালক ও ৭৩ জন সাধারণ শেয়ারধারীর কাছে ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এই পরিশোধিত মূলধন ২৮৫ কোটি ৫ লাখ টাকা করা হয়। এর বিপরীতে কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

রিংসাইনের বোর্ড পুনর্গঠনের পর তদন্ত করে এই বিষয়টি উদঘাটন করে বিএসইসি। এর পরে এসব শেয়ার বাতিলের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

২৭ কোটি ৫১ লাখ শেয়ার বাতিল হলে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হবে ২২৫ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা হবে ২২ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩টি। অর্থাৎ বর্তমানে কোম্পানিটির যে শেয়ার দেখানো হচ্ছে, তার ৫৪ শতাংশই কমে যাচ্ছে।

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) তাইওয়ানের মালিকানাধীন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রিং শাইন একটি শক্তিশালী কোম্পানি হিসেবেই পরিচিত ছিল। এর শ্রমিকসংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি ছিল।

১৯৯৬ সালে ডিইপিজেডে তাইওয়ানের নাগরিক মি সাও সোয়েটার কারখানাটি চালু করেন। ব্যবসায়িক সাফল্যে একে একে তিনি গড়ে তোলেন অ্যাভাস গার্ড লিমিটেড, সাইন ফ্যাশন লিমিটেড ও ইন্টার লগ লিমিটেড। এসব কারখানায় শ্রমিক ছিল আরও অন্তত সাত হাজার।

সমস্যার শুরু পাঁচ বছর আগে। বার্ধক্যজনিত কারণে মি সাও মারা গেলে তার ছেলে মি উইং থিং ও মেয়ে অ্যাঞ্জেলা কারখানাটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তারা পেরে ওঠেননি।

মালিকদের অভিযোগ, শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে আমদানি করা সুতাসহ নানা উপকরণ পাচার করে দিচ্ছিলেন শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মি সাওয়ের মতো তার সন্তানরা ব্যবসা অতটা ভালো বুঝতেন না। আর এই সুযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলেও তথ্য আছে। একপর্যায়ে মি সাওয়ের দুই সন্তান কাউকে না বলে বাংলাদেশ থেকে চলে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here