আম্পানের তাণ্ডবে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

0
44
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাত

সিনিয়র রিপোর্টার : কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এর তাণ্ডবে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির একটি প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে সরকার।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দুর্যোগে মধ্যে দেশের সাত জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

শক্তিশালী এই ঝড় কেটে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সচিবালয় থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান এই হিসাব দিয়ে বলেন, মোট ২৬টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঝড়ে সারা দেশে ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্যও জানিয়েছেন তিনি, যদিও স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে তার চেয়ে কয়েকজচন বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার দুপুরের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে। পরে রাতে এ ঝড় বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যায়।

ঝড়ের মধ্যে প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় এলাকার বাঁধ, ভেসে যায় মাছের ঘের।

প্রতিমন্ত্রী এনামুর বলেন, “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানিসম্পদ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে। প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব আমরা পেয়েছি।

অন্য যেসব মন্ত্রণালয় আছে, তারাও রিপোর্ট দিয়েছেন, তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তারা দেয়নি। সারা দেশে মোট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানতে অন্তত সাত দিন সময় লাগবে বলে জানান এনামুর।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সারা দেশে এক লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারা দেশে এক লাখ ৭৬ হাজার সাত হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটাকে আমরা এখনও টাকার অঙ্কে কনভার্ট করতে পারিনি।

তবে বোরো ধানের মত প্রধান ফসলের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি জানিয়ে রাজ্জাক বলেন, ৭/৮ দিন আগে এই ঝড় হলে কৃষিতে আরও বেশি ক্ষতি হত।

সুপার সাইক্লোন আম্পান শক্তি কিছুটা হারিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় রূপে বুধবার দুপুরের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে। পরে রাতে এ ঝড় প্রবেশ করে বাংলাদেশে।

ঝড়ের মধ্যে প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন উপকূলের ১০ লাখ গ্রাহক। এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যুর খবর এসেছে তাদের বেশিরভাগই ঝড়ে গাছ বা ঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন।

এর মধ্যে পিরোজপুর ও যাশোরে তিনজন করে, পটুয়াখালীতে দুজন এবং ঝিনাইদহে, সাতক্ষীরা, ভোলা ও বরগুনায় একজন করে মৃত্য খবর পাঠিয়েছেন আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here