শাহীনুর ইসলাম : ২০১৭ সালের ৫-৮ ফেব্রুয়ারি ২৭২ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আমরা নেটওয়ার্কসের শেয়ারপ্রতি দর নির্ধারণে বিডিং বা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ইলেকট্রনিক বিডিং প্রক্রিয়ায় আমরা নেটওয়ার্কসের শেয়ারদর বা কাট অব প্রাইস নির্ধারণ হয়েছে ৩৯ টাকা।

১৯৯৭ সালে কর্পোরেট আইএসপি হিসেবে যাত্রা শুরু করা আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে ৫৬ কোটি ২৫ লাখ ৭ টাকা তুলে নেয়। সাড়ে তিন বছরেই প্রতিষ্ঠানটি ‘অর্থনৈতিক সংকটে’ ভুগছে, ব্যবসা ভালো সম্প্রসারণ করতে পারেনি। এরপরে তুলছে ১০০ কোটি টাকার বন্ড।

‘ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের ব্যবসা কোন স্বল্প সময়ের খেলা নয়। এটি একটি লংটার্ম গেম। এই গেমে টিকে থাকতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে কোম্পানির ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বলেন আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েদ ফরহাদ আহমেদ।

২০১৭ সালের নিলামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের জন্য সর্বনিম্ন ১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪১ টাকা দরপ্রস্তাব করে। আইপিওতে ২২গুণ সাড়া পাওয়া সেই কোম্পানির এখন শেয়ার দর ৩৯ টাকা।কাট অব প্রাইস নির্ধারণ ছিল ৩৯ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে চলতি বছরের জুলাই মাসে করোনাকালে যার শেয়ার প্রতিদর ছিল ৩৪ টাকা এবং মঙ্গলবার ক্লোর্জিং প্রাইস হয়েছে ৩৮.৯০ টাকা।

স্টক বাংলাদেশের অ্যানালাইসেস বলছে, কোম্পানির এখন টিকে থাকাই দায়। ব্যবসা টেকাতে সেই প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে ১০০ কোটি টাকার বন্ড। তার স্বাক্ষর বহন করছে চলতি হিসাব বছরে কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই’২০-সেপ্টেম্বর’২০) প্রতিবেদন।

ডিএসইতে শেয়ার দর কমার চিত্র

করোনাকালে আইটিখাতের অন্য কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়লেও এর কমেছে। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৯ পয়সা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫১ পয়সা।

টিকে থাকতে চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আরো ১০০ কোটি টাকার রিডেম্বল নন-কনর্ভাটেবল জিরো কুপন বন্ড অনুমোদন পেয়েছে। আইটি খাতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো দূর্দান্ত করলেও করোনাকালেও এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ ব্যবসা বা মুনাফা করতে পারেনি। সেই প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি নিচ্ছে ৮.৬৮-৯.৭৩ শতাংশ কুপন হারে।

বন্ডের বৈশিষ্ট্য হলো- নন-কনভার্টেবল, পূর্ণ অবসায়নযোগ্য, অনিরাপদ, অতালিকাভুক্ত এবং জিরো কুপন বন্ড। যার কুপন হার ৮.৬৮-৯.৭৩ শতাংশ। বন্ডটি বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীর কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে।

বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ‘আমরা নেটওয়ার্কস’ নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঋণ পরিশোধ ও চলতি মূলধন প্রয়োজনীয়তা মেটানোর কাজে লাগাবে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য হবে ১ কোটি টাকা।

এ বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।

কোম্পানিটি ১ কোটি ৫০ লাখ ৪১ হাজার ২০৯টি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ৫৬ কোটি ২৫ লাখ ৭ টাকা তুলেছে। বর্তমানে শেয়ারে পরিমাণ ৫কোটি ৬২ লাখ ২৩ হাজার ৬৮২টি। মোট ৩৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে।

আমরা টেকনোলজির (গ্রুপের আবেকটি কোম্পানি) শেয়ারপ্রতি দরের চিত্রটি মঙ্গলবার ডিএসই থেকে নেয়া

যদিও ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকলে ১০০ কোটি টাকার রিডেম্বল নন-কনর্ভাটেবল জিরো কুপন বন্ড অনুমোদন পেত না।

২০১৭, ১৮ সালে ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিলেও ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের দিয়েছে ৬ শতাংশ বোনাস। যদিও প্রতিষ্ঠানটির দীর্মেয়াদে কোন ঋণ নেই, তবে স্বল্প মেয়াদে ঋণ রয়েছে ৫৫ কোটি টাকা।

তিন বছরে  কোম্পানির শেয়ারে উত্থান শেষে এখন অবনতির দিকে। ২০১৭ সালে নির্ধারিত কাট অব প্রাইস ৩৯ টাকার ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল ৩৫ টাকা। সেই দর এখন ৩৮ টাকা!

 

 

 

২০১৭ সালের ৩ অক্টোবরের প্রথম দিনের শেয়ারপ্রতি দরের চিত্র

স্টক বাংলাদেশের অ্যানালাইসেস বলছে, বিনিয়োগের আগে ভাবুন। দেখুন কোম্পানির গতি-প্রকৃতি এবং ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবরের প্রথম দিনের শেয়ার লেনদেনের চিত্র। প্রথম লেনদেন শুরু হয়েছিল ১৩০ টাকায়। (চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here