‘আগামীতে শেয়ারবাজার ভালো অবস্থানে যাবে’

0
921

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যাশা আগামীতে শেয়ারবাজার ভালো অবস্থানে যাবে। তার অনেক সুযোগ রয়েছে। আমরা যদি থাইল্যান্ড, ভারত ও সিঙ্গাপুরের কথা চিন্তা করি, সেই তুলনায় আমাদের মার্কেট মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) অনেক কম। সেই তুলনায় আমাদের মার্কেট অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। নতুন কমিশনের নেতৃত্ব আমাদের সেই জায়গায় আশান্বিত করেছে।

শেয়ারবাজার নিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) ও বিএমবিএ আয়োজিত অনুষ্ঠানে শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর জুম প্লাটফর্মে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। আর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমবিএর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান।

বিএমবিএ সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নেতিবাচক অবস্থা দেখে আমাদের যে হতাশা তৈরী হয়েছিল, সেখান থেকে আমরা কিছুটা আলোর আশা দেখতে শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও নতুন কমিশনের সঠিক নেতৃত্ব আমাদেরকে আলোর মুখ দেখাচ্ছে। এছাড়া এরইমধ্যে বাজারে নতুন গতি দেখছি।

বাজারের গতি বাড়াতে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব রাখেন তিনি। এরমধ্যে বাজারে প্রবাসিদের অংশগ্রহন বাড়ানোর জন্য বিএসইসির উদ্যোগ নিতে পারেন বলে জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রবাসিরা যেভাবে বিনিয়োগ করে, সেটা আসলে জটিল প্রক্রিয়া। শেয়ারবাজার মধ্যস্থতাকারীরা ফরেন কারেন্সি ডিল করতে পারলে প্রবাসিদের জন্য বিনিয়োগ সহজলভ্য হবে।

তিনি বলেন, ভালো স্টকের সাপ্লাই নিয়ে অনেক সময় আলোচনা করা হয়। এখানে কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। এর কারন বিবেচনা করা দরকার। আগে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ব্যবধান ১০ শতাংশ ছিল। তবে সেটা কমিয়ে ৭.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

আমাদের কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে চাইলে টেক্সসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। না হলে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে পাব না। সেক্ষেত্রে আমরা শেয়ারবাজারকে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় পাব না।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির শুরুতে একটি কোম্পানির দর বেশি হয়ে যায় বলে জানান তিনি। যা পরবর্তীতে কমে যায়। কারন হিসেবে বলেন, শুরুতে সাপ্লাই কম থাকলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে যায়। এ বিষয়টি কমিশন দেখবে বলে আশা করেন তিনি।

ছায়েদুর রহমান বলেন, আর্থিক হিসাব নিয়ে অনেক সময় সমালোচনা শোনা যায়। অনেক কোম্পানির আর্থিক হিসাব বিশ্বাস করা যায় না। এই সমস্যা কাটিয়ে তুলতে সব কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টের জন্য একটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজ তৈরী করা দরকার। যেখান থেকে শুধুমাত্র একটি কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট পাওয়া যাবে। এ বিষয়টি করা গেলে একই কোম্পানির কয়েকটি আর্থিক হিসাব তৈরী করা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে আর্থিক হিসাবের কারসাজি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশা করি।

শেয়ারবাজারে সব জায়গা থেকেই যথেস্ট তারল্যের সাপোর্ট রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এই তারল্যের সংকটের কারনে কিছুদিন আগে আমাদের অনেকটা হতাশা তৈরী হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেইন এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হাসান ইমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here