আইসিবির পোর্টফোলিও লেনদেন ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি

0
328

ডেস্ক রিপোর্ট : পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। একসময় দেশের পুঁজিবাজারে দৌর্দণ্ডপ্রতাপ ছিল আইসিবির। অনেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজারের ভাগ্যনিয়ন্ত্রক হিসেবে বিবেচনা করত। যদিও কালের পরিক্রমায় আইসিবির সেই দৌর্দণ্ডপ্রতাপ আর নেই।

তারল্য সংকটের কারণে ২০১০ সালের পর থেকেই পুঁজিবাজারে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা কমতে থাকে। তবে কভিডকালে ২০২০-২১ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে আইসিবির অংশগ্রহণ বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব পোর্টফোলিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

গত পাঁচ বছরে পুঁজিবাজারে আইসিবির নিজস্ব পোর্টফোলিও লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮ হাজার ৪৯ কোটি টাকার লেনদেন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে পুঁজিবাজারে প্রতিষ্ঠানটির পোর্টফোলিও লেনদেন কমতে থাকে। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ হাজার ৬০৮ কোটি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ হাজার ৬৫৯ কোটি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা নিজস্ব পোর্টফোলিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে লেনদেন করেছে আইসিবি।

চার বছরের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব পোর্টফোলিও লেনদেন অর্ধেকে নেমে আসে। অবশ্য বাজার পরিস্থিতি চাঙ্গা থাকায় গত অর্থবছরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে আইসিবি। সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে নিজস্ব পোর্টফোলিওর মাধ্যমে ৬ হাজার কোটি টাকা লেনদেন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও এটি আইসিবি পরিচালিত নিজস্ব পোর্টফোলিওর হিসাব। সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ও শাখার তথ্য যোগ করা হলে এর পরিমাণ আরো বাড়বে।

এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বাড়ার কারণ জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি আইসিবির কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করে যে অর্থ আসে সেটি আবারো পুঁজিবাজারে পুনর্বিনিয়োগ করা হয়। বাজার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় আগের দুই বছর আইসিবি সেভাবে শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি।

তাই সে সময় নিজস্ব পোর্টফোলিওর লেনদেন বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত অর্থবছরে আমরা আগের তুলনায় বেশি শেয়ার বিক্রি করতে পেরেছি এবং একই সঙ্গে নতুন করে আবার সেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগও করা হয়েছে। এ কারণেই বছর শেষে লেনদেনের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি বেড়েছে।

পুঁজিবাজারে আইসিবির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গত বছর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে গত বছর পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়। মূলত পুঁজিবাজারে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় আইসিবির বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠনে পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরামর্শকের সুপারিশ চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পরামর্শক নিয়োগের কারণ হিসেবে সে সময় বলা হয়েছিল, পুঁজিবাজারকে সহায়তা করাই ছিল আইসিবি গঠনের উদ্দেশ্য। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিক লোকসানে ছিল এবং মূলধন হারিয়েছে। উৎপাদন খাত ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণের অর্থ আদায় করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়ে এবং এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়াটা কোনোভাবেই পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

অনেক ক্ষেত্রেই আইসিবি যেসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে সেগুলোর পর্ষদে পরিচালক হিসেবে রয়েছে এবং লকইন থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সেসব কোম্পানির শেয়ারও বিক্রি করতে পারছে না। এতে আইসিবির পোর্টফোলিওর মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। আইসিবিকে মূলধন সহায়তা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার ভর্তুকি দেয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আইসিবিকে ভর্তুকি দেয়া সঠিক হবে কিনা এ মুহূর্তে সরকারকে এটি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আইসিবির সার্বিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ, এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ম্যান্ডেট অনুসারে যেসব কাজ করেছে সেগুলোর তালিকা তৈরি, বর্তমানে পুঁজিবাজারে আইসিবির ভূমিকা, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও অ-আর্থিক সম্পদের অবস্থা, এর সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি কাঠামো, জনবল সক্ষমতার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায়োগিকতা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সরকারের পক্ষে আইসিবিকে মূল্যায়ন করা সম্ভব বলে মনে করে বিএসইসি।

আইসিবির পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, এরই মধ্যে পরামর্শক কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আইসিবি পুনর্গঠনসংক্রান্ত বিএসইসির কমিটি প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here