আইপিও প্রার্থী কোম্পানির কর্মীদেরকে দেয়া শেয়ারের তথ্য যাচাই হবে

0
359

সিনিয়র রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া অনেক কোম্পানি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নামে শেয়ার বরাদ্দ দেয়। শেয়ারবাজার থেকে সহজে অর্থ সংগ্রহ করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়।

তবে শেয়ার বরাদ্দের আগে সেই কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর তথ্য এবং বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট যাচাই করা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আবেদনের প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলেক্ট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমের (ইএসএস) মাধ্যমে আইপিওতে আসা কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ার বরাদ্দের আবেদন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সবার তালিকা ইলেকট্রনিক (টেক্স ফরমেটে আলাদ শিরোনাম ভেদে) ফরমেটে আপলোড করতে হবে।

যেখানে গ্রাহক আইডি, নাম (বিও আইডি অনুসারে), বিও আইডি, মোট অর্থের পরিমাণ, মোট শেয়ারের পরিমাণ, কর্মী শ্রেণীবিভাগ রয়েছে। সেই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, কর্মচারী আইডি, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং পদবী উল্লেখ থাকবে।

আইপিও কোম্পানির বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবেদন স্টক ব্রোকারেজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে (যেখানে আবেদনকারীর বিও অ্যাকাউন্ট চালু থাকবে) এক্সচেঞ্জের ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমে জমা দিতে হবে।

ইএসএস-এ নিবন্ধিত স্টক ব্রোকারেজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকার কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা ইলেকট্রনিক (টেক্স ফরমেটে শ্রেণিভেদে) ফরমেটে আপলোড করবে।

সিদ্ধান্তে আরও উল্লেখ করা হয়, অপরদিকে এক্সচেঞ্জগুলো কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবেদন (নাম, বিও আইডি, পরিমাণ, একই রকম কোনো বিষয়, ইত্যাদি) যাচাই করবে এবং বৈধ বিও আইডিগুলো ইলেকট্রনিক (টেক্সট) ফরমেটে যাচাইকরণের জন্য সিডিবিএলে পাঠাবে। সিডিবিএল আবেদনকারীদের বিও আইডিগুলো সক্রিয় আছে কি না তা যাচাই করে দেখবে।

সিডিবিএল এক্সচেঞ্জকে আবেদনকারীদের একটি আপডেটেড ডাটাবেস প্রদান করবে। যাতে বিও অ্যাকাউন্ট নম্বর, নাম, ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম এবং জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাইকরণের রিপোর্ট থাকবে।

কোম্পানির বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের আবেদন বৈধ এবং সক্রিয় তাদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী শেয়ার দেওয়া হবে। বিএসইসি’র ক্যাপিটাল ইস্যু বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই’র প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা (সিওও) এম. সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী কোটায় শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার আগে সত‌্যতা যাচাইয়ে দুটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

একটি হচ্ছে, কোম্পানি নিজে তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিও হিসাব ও ব্যক্তিগত তথ্য অ‌্যাকাউন্ট পরিচালনায় ব্রোকারেজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে এক্সচেঞ্জে জমা দিবে। অপরটি হচ্ছে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজে এক্সচেঞ্জ সিস্টেমে জমা দিতে পারবে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিএসইসি’র কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। তবে এখনও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে আসেনি। বিএসইসি যে নিয়মে তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্দেশ দেবে সেভাবে আমরা কাজ করবো। বিএসইসির সিদ্ধান্তের পর আইপিওর জন্য যেসব কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কোটা থাকবে তাদেরকে এ নিয়মে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, আইপিও অনুমোদন পাওয়া ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড ও ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৫ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য কোম্পানিটি বিএসইসি’র কাছে আবেদন জানিয়েছে।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি কোম্পানি দুটিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। গত ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৭৯৩তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত জানায় বিএসইসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here