রাজধানীর গুলশানে নিজস্ব কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা পুঁজিবাজারে আসতে দুটি শর্ত দিয়েছে। কোম্পানিটি বলেছে,  এই দুটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল তাদের পক্ষে পুঁজিবাজারে আসা সম্ভব।

শর্ত দুটি হচ্ছে- মোবাইল কোম্পানির টার্নওভারের উপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহার অথবা ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে- তালিকাভুক্ত মোবাইল কোম্পানির করপোরেট কর হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ।

রাজধানীর গুলশানে নিজস্ব কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রবি আজিয়াটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। কোম্পানির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব আহমেদ।

এছাড়া রবির মার্কেটিং পলিসি নিয়ে কথা বলেন চিফ এন্টারপ্রাইজ বিজনেস অফিসার আদিল হোসেন নোবেল।

অনুষ্ঠানে গেলো বছরের রবি তাদের সার্বিক ব্যবসায়িক চিত্র তুলে ধরে। ২০১৯ সালে সরকারের অতিরিক্ত কর আরোপের পরেও রবির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। এ সময় তাদের মোট রাজস্বের পরিমাণ ছিলো ৭ হাজার চারশত একাশি কোটি টাকা। ৩৮.৫ শতাংশ মার্জিনসহ ইবিআইটিডিএ’র পরিমাণ ২ হাজার আটশত আশি কোটি টাকা বলে জানান রবি কর্তারা।

গতবছরে রবির মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ছিলো ১ হাজার চারশত একুশ কোটি টাকা এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ২ হাজার সাতশত বাষট্টি কোটি টাকা।

সরকার কর্তৃক করপোরেট কর ৪৫% ধার্য করা হলেও রবির কার্যকর করের পরিমাণ ৯০% ছিলো বলে জানান মাহতাব উদ্দীন আহমেদ। ন্যূনতম কর ০.৭৫% থেকে বাড়িয়ে ২% করা, সিম করের পরিমাণ দ্বিগুন করা, স্মার্টফোনের সম্পূরক শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ২৫% এবং মোবাইল সম্পূরক শুল্ক ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করার ফলে আর্থিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও ঠিকই লাভ করে নেয় দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি।

গেলো বছরে রবির ২১ লাখ নতুন গ্রাহক পেয়েছে যার মাধ্যমে তাদের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯০ লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যা দেশের মোট ব্যবহারকারীর ২৯.৬%। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ১৩ লাখ বলে জানান মাহতাব আহমেদ।

রবির প্রধান আরো বলেন, দেশের প্রতি ৭ জন মোবাইল অপারেটর বদলানোর মধ্যে ৫ জনই রবির সেবা নিচ্ছেন। এছাড়া ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের ওপর আলাদাভাবে কাজ করায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা অলিভার ওয়াইমেনের মতে বৈশ্বিক মানের টেলিকম কোম্পানির মর্যাদা পেয়েছে মালয়েশিয়া ভিত্তিক টেলিকম কোম্পানি রবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here