আইপিওতে আসতে জালিয়াতি করেছে অনেক কোম্পানি : বিএসইসি চেয়ারম্যান

0
1312

স্টাফ রিপোর্টার :  বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে কভিড-১৯ এর প্রভাব ও উত্তরোণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে আগে পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানি এসেছে সেগুলোর মধ্যে দেখা গেছে কিছু কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনে জালিয়াতি করেছে।

কোম্পানিগুলো যে ধরনের অবস্থা দেখিয়ে পুঁজিবাজারে এসেছে প্রকৃতপক্ষে এর অবস্থা সেরকম নয়। এক্ষেত্রে আগে আইপিও নিয়ে কমিশনের কিছু ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসির) প্রেসিডেন্ট আজম জে চৌধুরী, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন, বিল্ডের চেয়ারম্যান আবু কাশেম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসাইন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন-উর-রশীদ। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর।

সেমিনারে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, আইপিও প্রক্রিয়ার অনেক কিছু আমরা অনলাইনে নিয়ে যাচ্ছি। শিগগিরই আমরা গ্রিনফিল্ড কোম্পানির আইপিও নিয়ে আসতে পারব। আগামী দুই বছরের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা হবে। বাইব্যাক আইন ও স্ক্রিপ নিটিংয়ের প্রস্তাব এসেছে। কোম্পানি আইনে বাইব্যাকের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি। স্ক্রিপ নিটিং চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অতীত আচরণ সুখকর নয় উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, কিছু বিদেশী বিনিয়োগকারী একসঙ্গে বড় ধরনের অর্থ বিনিয়োগ করে শেয়ারের দাম বাড়ায়। পরবর্তীতে তারাই আবার শেয়ার বিক্রি করে অর্থ নিয়ে চলে যায়। আমাদের সার্ভিল্যান্সের এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ধরা পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বিদেশী বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে যারা আইন ভঙ্গ করবে তাদের ক্ষেত্রে কঠোর হতে হবে।

তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইস একটি প্রতিবন্ধকতা সেটি আমরাও বুঝি। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত নিব। পুঁজিবাজারে আরো কার্যকর ভূমিকার রাখার জন্য আইসিবিকে পুনগর্ঠন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের লেনদেন চালু করা হবে। দ্রুততার সঙ্গে ভালো আইপিওর পাশপাশি রাইট শেয়ার, বন্ড ও এসএমই কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আমাদের বলেন যে এখানে বিনিয়োগ করার মত ভালো ৭ থেকে ৮ টি কোম্পানি রয়েছে। এখানে লিকুইডিটির সমস্যা, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অভাব এবং বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে বিনিয়োগবান্ধব নীতির অভাবক রয়েছে। তাছাড়া শেয়ারের যথাযথ ভ্যালুয়েশন না পাওয়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপের কারণে স্থানীয় কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে চায় না বলে জানান তিনি।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, ২০১০ সালের বাজার ধসের পর থেকে আইসিবি নিজেদের মুনাফার দিকে না তাকিয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সক্ষমতা ছিল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু বিনিয়োগ করতে করতে বর্তমানে আইসিবির সক্ষমতা প্রায় শূণ্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে। আইসিবির সক্ষমতা বাড়ানে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিমান্ড লোন দিতে পারে। তাছাড়া তিনি করোনা ফান্ড, করোনা বন্ড ও সোশ্যাল বন্ড ইস্যুর করার প্রস্তাব দেন।

বিল্ডের চেয়ারম্যান আবু কাশেম খান বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন করতে হবে। সরকারের যেসব অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে সেগুলোর অর্থায়ন পুঁজিবাজা থেকে নিতে হবে। তাছাড়া সরকারের ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে হবে।

বিএপিএলসি প্রেসিডেন্ট আজম জে চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সীমার বিষয়টি শিথিল করা প্রয়েজান। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে কোন ব্যাংক বিপদে পড়েছে বলে আমার জানা নেই। বিনিয়োগের বিষয়টি ব্যাংকের উপরই ছেড়ে দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসাইন বলেন, সূচক বাড়ল কি কমল সেটি দেখা এক্সচেঞ্জ কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ নয়। সূচক কোম্পানি মুনাফার উপর নির্ভর করে বাড়বে বা কমবে। পুঁজিবাজারকে সবসময় জরুরি সেবা হিসেবে গণ্য করতে হবে। আর যে কোন জায়গা থেকে যাতে লেনদেন করা যায় সেজন্য পুঁজিবাজারকে ডিজিটাল করতে হবে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক বলেন, ২০০২ সালে এডিবির পরামর্শে আইসিবর ইনভেস্টর অ্যাকাউন্ট ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তখন থেকেই আইসিবির সক্ষমতা কমে গেছে। মিউচুয়াল ফান্ডগুলো যাতে বাজারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য এর সম্পদ ব্যবস্থাপকদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছি কিনা সেটি অনুমোদন দেয়ার সময় দেখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here