অ্যাকটিভ ফাইন-এএফসি অ্যাগ্রোতে করোনার ধাক্কা

0
570

সিনিয়র রিপোর্টার : দেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয় এ বছরের মার্চের শুরুতে। অবশ্য করোনার উত্পত্তিস্থল চীনে গেল বছরের ডিসেম্বর থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়।

আর চীন নির্ভরতার কারণে গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই কাঁচামালের আমদানিতে সমস্যায় পড়ে পুঁজিবাজারে ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস ও এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক লিমিটেড। এতে এ বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে কোম্পানি দুটির ব্যবসা ও মুনাফায় ধস নেমেছে।

গতকাল সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের (জুলাই-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস ও এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক। এতে দেখা যায় এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসের ব্যবসা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ কমে গেছে।

এ বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি ছিল ৬৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৭৮ শতাংশ কমে ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এদিকে এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেকের ব্যবসা এ বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বিক্রি কমার পাশাপাশি আর্থিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৭ শতাংশ কমে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসা ও মুনাফা কমার বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসের কোম্পানি সচিব মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনার কারণে গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। তার ওপর আমাদের কারখানায় কর্মরত ভারতীয় প্রকৌশলীরা করোনার কারণে দেশে ফিরে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা আসবে না।

মার্জিন বেশি হওয়ার কারণে আমরা দেশের তুলনায় বিদেশের বাজারে রফতানিকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। করোনার কারণে বিদেশের বাজারেও রফতানি কমে গেছে। ফলে সবকিছু মিলিয়ে আমাদের ব্যবসা কমেছে। তবে আগামী বছর থেকে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।

জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যবসায় কমার কারণে সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসের বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে ১১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ কমে ২৩ কোটি টাকা হয়েছে।

২০১৯-২০ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেকের বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ কমে ৫১ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ কমে ১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা হয়েছে।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসের পর্ষদ। আর ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেকের পর্ষদ।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস এপিআই ও ল্যাব রিএজেন্ট উৎপাদন করে। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৩৯ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৯৬ কোটি ৩ লাখ টাকা।

মোট শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি ৯৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫৮০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ১২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৩ দশমিক ১১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫১ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকভুক্ত এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক অ্যান্টিবায়েটিকস, প্রোটিনস, ভ্যাকসিনস ও এনজাইম উৎপাদন করে। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১১৫ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৮৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৫২ লাখ ১৬ হাজার ২০০। এর ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ৩৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here