‘অচিরেই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে পুঁজিবাজার’

0
849

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলো অচিরেই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) আয়োজিত আলোচনা সভায় এ আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল আলোচনা সভাটির আয়োজন করে সিডিবিএল। আলোচনার বিষয় ছিল ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন’।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন সিডিবিএল চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেইন। সূচনা বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান একেএম নুরুল ফজল বুলবুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শুভ্র কান্তি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সিডিবিএলের কর্মকর্তাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট সহিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পক্ষে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সিডিবিএলের ডিরেক্টর সৈয়দ মনজুর ইলাহী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী প্রমুখ।

সালমান এফ রহমান বলেন, ২১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না। ওই সময় যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা কখনো স্বনির্ভর হওয়ার কথা বলেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

পুঁজিবাজার বিষয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের একটা সাংঘর্ষিক দৃশ্যপট হলো বাজার মূলধন। বাংলাদেশের জিডিপি ও মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের অনুপাত বিশ্বে অন্যতম সর্বনিম্ন। মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন কম হলেও যদি নিয়মিত রিটার্ন দেয়, সেটাই হবে বাজারের ওপরে আস্থা রাখার মতো বিষয়।

রাতারাতি অনেক রিটার্ন আসবে, এমন ধারণা পোষণ করলে হবে না। বাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে নতুন সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এখন। আমি মনে করি আমাদের ডিএসই ও সিএসই অচিরেই আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে।

সভায় আসিফ ইব্রাহিম বলেন, পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে বৈষম্য বঙ্গবন্ধুকে পীড়া দিত। ১৯৭১ সালে তার নেতৃত্বে আমরা নতুন দেশ পেলাম। স্বাধীনতার পর পরই কৃষিকাজের প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছিলেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার পর প্রথম বছরেই জুট মিলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করেন তিনি। সোনার বাংলা গঠনে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু দেশের ভবিষ্যৎ ব্যক্তি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির বিষয়টি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন।

সৈয়দ মনজুর ইলাহী বলেন, ১৯৭৫-এর কালরাতে যে হত্যা, সে রকম ঘটনা ইতিহাসে কম ঘটেছে। তাকে হত্যা করায় আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। এরপর ২১ বছর ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি। সেভাবে বিনিয়োগও হয়নি ওই ২১ বছরে।

আজম জে চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ করেছিলেন। ফলে অত্যন্ত কম দামে জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করা হয়। সেই উদ্যোগের ফলে পর্যায়ক্রমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তার অবদান নিয়ে আলোচনা শুধু স্মৃতিচারণায় সম্ভব না।

তপন চৌধুরী বলেন, মানুষকে সম্মোহিত করার ক্ষমতা ছিল বঙ্গবন্ধুর। তিনি ছিলেন বলে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনি ছিলেন বলেই আমরা আজ কথা বলতে পারি। তিনি ছিলেন বলেই আজকে আমাদের শিল্পায়ন। তার পথনকশার চিন্তাধারাতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা সুবিধাভোগী। আজকের এ অবস্থায় কোনোদিনও আসতে পারতাম না, যদি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে না দিয়ে যেতেন।

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, এমন মানুষ বিরল যিনি মানুষের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেন। জীবনের একটি বড় অংশ জেলে কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। বাকি সময়টা চলে গেছে মানুষের জন্য বিসর্জনে। মাত্র তিন-চারটা বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here