বীমা বিধি পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি

0
719

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী। তিনি বীমা খাতের প্রথম নারী সিইও। সম্প্রতি তিনি বীমা খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন।

  • বীমা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি কী?

ফারজানা চৌধুরী : আমাদের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও কম বীমার আওতায়। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১ শতাংশের কম। এর মানে হচ্ছে, বীমা খাতের বৃদ্ধির সম্ভাবনা অপরিসীম। গত এক দশকে এ খাতের পরিধি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে মানুষ বীমার ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন এবং বিভিন্ন পলিসি থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত।

  •  নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, বীমা কোম্পানিগুলো ব্যবস্থাপনা ব্যয় হিসাবে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি খরচ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

ফারজানা চৌধুরী : হ্যাঁ, এটা সত্যি যে, ১৯৫৮ সালের বীমা বিধিতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ব্যয় এখন বেড়ে গেছে। কিন্তু আমাদের এটাও বিবেচনা করা উচিত, ৫৮ বছর আগের নির্দেশনা এখন কতটা যুক্তিসঙ্গত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক পারিপাশর্ি্বক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে এখন সময় এসেছে ১৯৫৮ সালের বীমা বিধি সংশোধন করা, যাতে বীমা কোম্পানিগুলো আরও ভালোভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

  • আপনার মতে ব্যবস্থাপনা ব্যয় বৃদ্ধির কারণ কী?

ফারজানা চৌধুরী : আমি আগেই বলেছি, ১৯৫৮ সালের চেয়ে এখনকার বাজার অবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে, যা এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ১৯৫৮ সালের সঙ্গে এখনকার তুলনা করলে মুদ্রাস্টম্ফীতি উলেল্গখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, যাতায়াত, বিজ্ঞাপন, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইত্যাদির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ স্টম্ফীতির পরিমাণ ৩০০০ গুণ পর্যন্তও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি ২০০৫ সালে বীমা রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা ১৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

১৯৯১ সালে সরকার প্রায় সব খরচের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করেছে। এর ফলে এটি আমাদের ব্যয়ের খাতে যুক্ত হয়েছে। এখানে উলেল্গখ করা যেতে পারে যে, যখন ১৯৫৮ সালে বীমা বিধি জারি করা হয়, এতে মূসকের কোনো বিধান তখন ছিল না। আমাদের যদি ভ্যাট দিতে না হতো, তাহলে আমরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে সক্ষম হতাম।

বাজারে এখন ৪৫টি সাধারণ বীমা কোম্পানি আছে। যেহেতু আমাদের বীমা শিল্পের আকার তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট, কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা অনেক তীব্র। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কোম্পানিগুলোকে দক্ষ জনবল আকর্ষণ, নিয়োগ এবং ধরে রাখার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়।

আমরা গ্রিন ডেল্টায় সবসময় দক্ষ বীমা পেশাদার গড়ার ওপর জোর দিয়ে থাকি। এ কারণে আমরা প্রায়ই আমাদের কর্মচারীদের দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পাঠিয়ে থাকি। এতে যদিও আমাদের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে আমরা যোগ্যতাসম্পন্ন এবং দক্ষ পেশাদার জনবল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।

এছাড়া বীমা শিল্প সম্মিলিতভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ কারণেও বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

  • নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইডিআরএ) এ সমস্যা মোকাবেলায় কী ভূমিকা পালন করতে পারে?

ফারজানা চৌধুরী : বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বাংলাদেশে বীমা শিল্পে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে বীমা কোম্পানিগুলো সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। আমরা মনে করি, এখন একটি উপযুক্ত সময় এসেছে ১৯৫৮ সালের বীমা বিধি নিয়েই কিছু করার।

বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা নিজ নিজ কোম্পানির সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা উচিত। কারণ আমরা বিশ্বাস করি একটি নেতৃস্থানীয় কোম্পানি আর অপেক্ষাকৃত একটি ছোট কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা এক হতে পারে না।

  • গ্রিন ডেল্টার নিবেদিতা পলিসি নিয়ে কিছু বলুন।

ফারজানা চৌধুরী : নারীর ক্ষমতায়ন এবং অগ্রযাত্রার লক্ষ্যে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো নিবেদিতা বীমা পলিসি নিয়ে এসেছে। এই পলিসির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি গতানুগতিক দুর্ঘটনাজনিত কাভারেজ ছাড়াও নারীদের ট্রমা ভাতা প্রদান করে অর্থাৎ যদি সে এসিড নির্যাতন, ধর্ষণ ও রাস্তাঘাটে হেনস্তার শিকার হয়।

গ্রিন ডেল্টা নিবেদিতা পলিসি হোল্ডারদের জন্য নিয়ে এসেছে নিবেদিতা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। এর সাহায্যে নারীরা নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক, জীবনযাপনের নানা সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এর সবচেয়ে উলেল্গখযোগ্য দিকটি হলো ‘প্যানিক বাটন’, যা বিপদের মুহূর্তে প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার বার্তা, নিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থা ও আপনার আপনজনের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তৎক্ষণাৎ আপনার কাছে সাহায্য চলে আসবে। ১ লাখ টাকার নিবেদিতা পলিসিতে বছরে প্রিমিয়াম প্রদান করতে হয় মাত্র ৫৮০ টাকা।

  • সাক্ষাৎকারটি সংগৃহিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here