ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের মুনাফা কমে লোকসানে!

0
495

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৭ সালের প্রথম তিন মাসে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের বিক্রি কমেছে প্রায় ৯৮ শতাংশ, ফলে কোম্পানিটি লোকসানে চলে এসেছে। আগের বছর একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ১৬ টাকা ৯ পয়সা। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে লুব্রিক্যান্টসের বেজ অয়েল আমদানি করতে না পারার কারণে লোকসান হয়েছে।

২০১৬-১৭ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের পণ্য বিক্রির পরিমাণ ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বা ৯৭ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ৩১ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়  নেমে এসেছে। বিপরীতে বিক্রীত পণ্যের উৎপাদন খরচ ৯৬ শতাংশ বা ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা কমে দাঁড়ায় ৪৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

বিক্রীত পণ্যের দামের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় কোম্পানিটির পরিচালন লোকসান হয়েছে ১৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তাদের ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা হয়েছিল। এর ফলে এক বছরে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা কমেছে ২ কোটি ৩ লাখ টাকা।

এদিকে গেল প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয় বাবদ আগের বছরের ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড ও কল্যাণ তহবিল ব্যয় বাবদ ৫৬ হাজার টাকা এবং চলতি ও বিলম্বিত কর বাবদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

কোম্পানিটির পরিচালন আয় থেকে এসব ব্যয় বাদ দিয়ে ২০১৭ সালের প্রথম তিন মাসে নিট লোকসান হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময় প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল কোম্পানিটির। এক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা কমেছে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৮ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১৬ টাকা ৯ পয়সা।

এদিকে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির বিক্রি ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বা ৩২ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বেজ অয়েল বিক্রি কমেছে ৩৫ দশমিক ১৭ শতাংশ, যেখান থেকে কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি মুনাফা করছিল। অবশ্য প্রথম তিন প্রান্তিকে ব্যাটারির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৩ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে।

এ সময় বিক্রীত পণ্যের উত্পাদন ব্যয় কমেছে ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ২৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৮ কোটি ১ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৫১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা হয়েছে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয় আগের বছরের তুলনায় বেড়ে ১২ লাখ ৭৮ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া এ সময়ে ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড ও কল্যাণ তহবিল ব্যয় বাবদ ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং চলতি ও বিলম্বিত কর বাবদ ৪০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

এর ফলে সব মিলিয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির নিট মুনাফা এক বছর আগের তুলনায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ৫৩ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা জানান, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের মূল ব্যবসা হচ্ছে লুব্রিক্যান্টস পণ্য ব্লেন্ড করা। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃক ফিনিশড লুব্রিক্যান্টস পণ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা অয়েল ও মেঘনা অয়েল কর্তৃক স্থানীয় পর্যায়ে লুব অয়েল ব্লেন্ডিংয়ের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বর্তমানে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র এক-অষ্টমাংশ ব্যবহূত হচ্ছে। এর ফলে কোম্পানিকে পরিচালন লোকসান গুনতে হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে গত বছর থেকে শুধু লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডিংয়ের মধ্যে ব্যবসা সীমিত না রেখে বেইজ অয়েল আমদানি ও ইউয়াসা ব্র্যান্ডের ব্যাটারি বিপণনের মাধ্যমে ব্যবসা বহুমূখীকরণে উদ্যোগ নেয়া হয়। এর ফলে কোম্পানির ব্যবসাও আগের তুলনায় বেড়ে যায়।

গেল প্রান্তিকে পণ্য বিক্রি কমার কারণ সম্পর্কে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের কোম্পানি সচিব মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস গত বছর থেকে পদ্মা অয়েলের জন্য বেইজ অয়েল আমদানি করছে। কিন্তু বিদেশ থেকে বেজ অয়েল আনার ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বানসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করতে বেশ কয়েকমাস সময় লেগে যায়। এ কারণে কিছু প্রান্তিকে এ ব্যবসাটি হয় না।

তিনি বলেন, যে প্রান্তিকে বেইজ অয়েল আমদানি করা সম্ভব হয় না, সে প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সর্বশেষ প্রান্তিকে ব্যাটারি বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও যেহেতু আয়ের মূল উত্স বেইজ অয়েল কেনাবেচা বন্ধ থাকায় কোম্পানিকে লোকসান গুনতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here