দরপতনের তিন ইস্যু

0
3276

সিনিয়র রিপোর্টার : আবারো দরপতনের বৃত্তে আটকা পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ৩০ মার্চ ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাজারে দরপতন শুরু হয়। এর আগে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত উত্থান শুরু হলে মার্চ মাসের শেষে তিন ইস্যুতে পতনবৃত্তে আটকা পড়ে বাজার।

ইস্যুগুলো হচ্ছে- ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর ‘পোস্ট ডিভিডেন্ট অ্যাডজাস্টমেন্ট’, অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পর মূল্যসংশোধন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর কমছে। তবে এমন অবস্থার শিগগিরই উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য মতে, নতুন এই দরপতনে প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম। এ কারণে ডিএসইতে সূচক কমেছে অনেকটা, আবার গত দুদিনে একটু বেড়েছে। লেনদেন হাজার কোটি থেকে কমে নেমে এসেছে ৭ শ কোটি টাকায় গড়ে।

বাজারের সার্বিক বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, তিন মাস উত্থানের পর পুঁজিবাজারে এখন মুনাফা নেওয়া হচ্ছে। আর এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগের আগের বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

এর সঙ্গে ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর ‘পোস্ট ডিভিডেন্ট অ্যাডজাস্টমেন্ট’ এর কারণে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজার তার নিজস্ব গতিতে চলছে। বেশ কিছুদিন ক্রমাগতভাবে শেয়ারের দাম বেড়েছে। এতে কিছু খারাপ কম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এ কারণেই মূল্যসংশোধন হচ্ছে। তবে বাজারে আবারো উত্থান হবে বলে মনে করেন তিনি।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ৩০ মার্চ ব্যাংক খাতের কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাজারে দরপতন শুরু হয়। এ দিন ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদ বছরে তাদের শেয়াহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। যা গত ১৪ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এর সঙ্গে যোগ হয় পুরান ঢাকা থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের স্থানান্তরিত করা নিয়ে সূচক পতন।

এ ছাড়াও দরপতনে শেয়ার কিনে পতন ঠেকানো প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর নিস্ক্রিয়তায় নেতিবাচক ধারায় হাটছে পুঁজিবাজার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here