উৎপাদন বন্ধের কারণে মুনাফা কমেছে এ্যাপোলো ইস্পাতের

0
1065

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৭ সালের প্রথম তিন মাসে প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বা ৬ কোটি ২১ লাখ টাকা কমেছে। প্ল্যান্টের ‘জিংক পট’ সিস্টেমে গুরুতর সমস্যার কারণে এ সময় কোম্পানিটির সিজিএল-২ ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম দেড় মাস বন্ধ ছিল।

ফলে অন্তত ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে কোম্পানিটি। তাছাড়া ফ্ল্যাট স্টিল তৈরির প্রধান কাঁচামাল এইচআর কয়েলের দর আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে কোম্পানির উত্পাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এছাড়া এ্যাপোলো ইস্পাতের পরিচালন ব্যয় ৪৭ শতাংশ ও আর্থিক ব্যয় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা কমেছে।

এ্যাপোলো ইস্পাতের পর্ষদ সভায় তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, গেল প্রান্তিকে এ্যাপোলো ইস্পাতের টার্নওভার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা ২৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বিক্রীত পণ্যের উত্পাদন খরচ বা কস্ট অব সেলস বেড়েছে ৩৯ শতাংশ বা ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির পরিচালন ব্যয় আগের তুলনায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বা ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। আর আাার্থিক ব্যয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ বা ২ কোটি টাকা।

এর ফলে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ কোটি ২১ লাখ টাকা বা ৭৫ শতাংশ কমে ২ কোটি ৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬ পয়সা।

অন্যদিকে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৪৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ নয় মাসে নিট মুনাফা কমেছে ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ৩১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৭ পয়সা।

এদিকে এ্যাপোলো ইস্পাতের সহকারী কোম্পানি সচিব মো. সোহেল আমিন জানান, হঠাৎ করে কোম্পানির জিংক পট সিস্টেমে (যেখানে গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়) বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেড় মাস আমাদের সিজিএল-২ ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ ছিল।

উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে দেড় মাসে ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কোম্পানি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধান কাঁচামাল এইচআর (হট রোল্ড) কয়েলের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। মূলত এসব কারণেই সর্বশেষ প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

প্রসঙ্গত, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে এ্যাপোলো ইস্পাত। গেল হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের বছর বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর যা ছিল ১ টাকা ৫৮ পয়সা।

২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৫৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ২৭৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ২৬ দশমিক ৪৪, বিদেশী ৩ দশমিক শূন্য ৭ ও বাকি ৪৯ দশমিক ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here