অলিম্পিক এক্সেসরিজের উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ

0
5684

শাহীনুর ইসলাম ও ইমরান হোসেন : অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেডের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন চলতি এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে (আইপিও) পাওয়া ২০ কোটি টাকায় গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ শেষে উৎপাদন শুরু কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আরো নতুন পণ্যের উৎপাদন এবং বিপণন করতে যাচ্ছে।

গাজীপুরের জয়দেবপুরের কারখানায় নতুন ভবনে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন এবং বাণিজ্য প্রসারে প্রস্তুতি নিয়েছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ায় কোম্পানির দ্বিগুণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন রুপে প্লাস্টিক পণ্যের বাণিজ্য যোগ হওয়ায় কোম্পানির প্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি আয় বাড়তে পারে।

পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘নতুন এবং পুরাতন মেশিনে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতে নতুন মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু হয়। এসব কথা বলেন অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বকুল।

রাজধানীর বিজয়নগরে সাক্ষাৎকালে চেয়ারম্যান স্টক বাংলাদেশকে বলেন, আইপিও শর্তপূরণ করা হয়েছে। পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করা ২০ কোটি টাকায় গাজীপুরে গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ শেষে নতুন আধুনিক (নতুন) মেশিনে উৎপাদন শুরু করেছি। নতুন এবং আগের পুরাতন মেশিনেও আমাদের উৎপাদন চলছে। আশা করছি, আগের তুলনায় আমরা অনেক ভালো করতে পারবো।

অলিম্পিকের কারখানায় উৎপাদন চলছে

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) এই নেতা নাভানা পলি এন্ড প্যাকেজিং কোম্পানির চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তিনি গার্মেন্টস কোম্পানি রিভার সার্ভিস এপারেলস এবং হৃত্বিক নিটিং ওয়্যার কোম্পানিরও চেয়ারম্যান।

বিশেষ একটি সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে চীন থেকে নতুন মেশিন আনা হয়। চীনের ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গাজীপুরের জয়দেবপুরের কারখানায় মেশিন স্থাপন শেষে অক্টোবর মাসে পরীক্ষামূলকভাবে কোম্পানি উৎপাদনে যায়।

দ্বিতীয় ধাপে চলতি বছরে চীন থেকে আরো একটি দল কারখানায় আসে এবং চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শেষে তারা দেশে ফিরে যান। উভয় মেশিনে (নতুন ও পুরাতন) বর্তমানে ২৬৪জন শ্রমিক কাজ করছে, বলেন অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড কোম্পানির সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ।

অলিম্পিকের কারখানায় উৎপাদন চলছে

গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাকের জন্য বিভিন্ন ধরণের ‘প্রডাক্ট’ কারখানায় তৈরি করা হয়। যেমন- শার্টের কলার, বাটন, হ্যাঙ্গার, এলাস্টিক, ব্যাক বোর্ড, মাস্টার কটন ইত্যাদি পণ্য। দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টসে এসব পণ্য বাজারজাত করা হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানালেও চট্টগ্রামে নিজস্ব গার্মেন্টসে এসব পণ্য ব্যবহার করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অলেম্পিক এক্সসরিজ একটি গ্রুপ অব কোম্পানি। এই গ্রুপের রয়েছে বৃহৎ দুটি গার্মেন্ট। রিভার সার্ভিস এপারেলস চট্টগ্রামে এবং হৃত্বিক নিট ওয়্যার কোম্পানি রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। দুটি গার্মেন্টসের বাৎসরিক চাহিদার তুলনায় নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন অনেক কম হয়। যে কারণে কোম্পানির কর্তৃপক্ষকে বাহির থেকে আরো এক্সেসরিজ কিনতে হয়।

নতুন পণ্যের উৎপাদন সম্পর্কে হাবিবুল্লাহ বলেন, নতুন ভবনে (তৃতীয় তলাসহ) মোট ৬৩ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা রয়েছে। কারখানার প্রয়োজনে বিশাল পরিমাণ এই জায়গা লাগবে না। তাই কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ভাবছেন নতুন কিছু করতে। সেক্ষেত্রে ভাড়া প্রদান অথবা নতুন পণ্য উৎপাদন করা হবে।

‘কি পণ্য উৎপাদন বা ব্যবসা করা হবে’ জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। তবে বিশেষ একটি সূত্র জানিয়েছে, ভবনের তৃতীয় তলার ওপরে আরো ফ্লোর বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ইতেমধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

অলিম্পিকের কারখানায় উৎপাদন চলছে

সেখানে নাভানা পলি এন্ড প্যাকেজিং কোম্পানির প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন এবং মেশিন স্থাপন প্রক্রিয়া চলতি মাসে শুরু হবে। কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে ইতোমধ্যে গ্লাস সেটিংসের কাজ চলছে বলেন দেশের শীর্ষ একটি মার্চেন্ট কোম্পানির সিইও।

তিনি বলেন, আমরা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। পরিবেশ বান্ধব নতুন ভবন করা হয়েছে, ওপরে আরো কাজ চলছে। দেশ এবং দেশের বাইরে প্লাস্টিক পণ্যের অনেক চাহিদা। যে কারণে সেখানে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন করা হবে।

কারখানায় প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন সম্পর্কে কারখানা ব্যবস্থাপক নূরনবীর কাছে জানতে চাইলে ‘তিনি মন্তব্য করতে রাজী হননি’। তবে নতুন করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কোম্পানির বাৎসরিক আয় অনেক বাড়বে। তবে কি পরিমাণ বাড়বে জানতে চাইলে ‘মূল্য সংবেদনশীল তথ্য’ বলে এগিয়ে যান কোম্পানি সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ।

কোম্পানির বাৎসরিক বিক্রি প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। কোম্পানি যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করছে তার তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় এই সেক্টরের সব কোম্পানির আয় এবং উৎপাদন বিগত বছরগুলোর তুুলনায় কয়েকগুণ বাড়বে। এমন কথা বলেন কোম্পানির শেয়ার এন্ড একাউন্টস ডিভিশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. জামির হোসেন চৌধুরী।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেডের প্রথম প্রান্তিকে ((জুলাই-সেপ্টেম্বর, ১৬) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৩৯ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৩৭ পয়সা। এ সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৭ টাকা  ৯ পয়সা। আর ৩০ জুন, ২০১৬ পর্যন্ত সময়ে ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা।

অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড সমাপ্ত অর্থ বছরে নগদ ৫ ও স্টক (বোনাস) ৭ শতাংশ মিলে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

অলিম্পিকের কারখানায় উৎপাদন চলছে

OALOAL-0লভ্যাংশ ঘোষণার পর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৩ পয়সা, শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৭১ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here