সামিট পাওয়ারে আসছে চমক!

0
8427

রাহেল আহমেদ শানু : সামিট প্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সামিট পাওয়ার লিমিটেড চমক সৃষ্টি করেছে। সরকারের সহযোগী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সামিট রয়েছে শীর্ষে।

বর্তমানে ১ হাজার ৫৬৪ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে সামিট। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে যা বিস্ময়। একই সঙ্গে বেসরকারি কোম্পানিটির ‘দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা’ আলোকে আসছে সম্ভাবনার আরো নতুন ঘোষণা।

‘সামিট একটি কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের সবকিছু হয় পূর্ব পরিকল্পিত। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাও ভালো। নতুন আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র যোগ হওয়ায় মুনাফা বাড়তে পারে’ বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ম. তামিম।

তামিম স্টক বাংলাদেশকে বলেন, ‘মুনাফা নির্ভর করে কোম্পানির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর। আমাদের দেশে বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি অনেক কোম্পানিই দক্ষতার অভাবে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। সামিট পাওয়ারের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন’।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে সামিট গ্রুপ। কয়লা উত্তোলন, আমদানি, সরবরাহ, পরিবহনসহ কয়লার বিষয়গুলো চূড়ান্ত হলে কয়লা বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণে অগ্রসর হবে সামিট, বলেন গ্রুপের পরিচালক আয়শা আজিজ।

তিনি বলেন, মেঘনাঘাট ও বিবিয়ানা-২ প্রকল্পে ৬২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করে সামিট সক্ষমতার প্রমাণ দেখিয়েছে। দেশের জন্যও এটা গর্বের।

ইতিহাসের মেগা প্রকল্পটি ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপান শুরু করে সক্ষমতার বড় পরিচয় দিয়েছে। ৩৩৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেঘনাঘাট কম্বাইন্ড সাইকেল ও ৩৪১ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-২ নামে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬৭৮ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

দ্বিতীয় মেগা প্রকল্প হিসেবে সিলেটের হবিগঞ্জে বেসরকারিভাবে ৩৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। ‘সামিট বিবিয়ানা-২ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ নামে ২১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। সরকারের সহযোগী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সামিট রয়েছে শীর্ষে।

সিলেটের হবিগঞ্জে যৌথভাবে গ্যাসভিত্তিক আরো একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন শুরু করেছে। কেন্দ্রটি স্থাপন করেছে সামিটগ্রুপ ও জিই। মেগা এই প্রজেক্টে ব্যয় করা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে সামিট ৯০ ও জিই ১৮ মিলিয়ন ডলার প্রদান করে। বাকি ২১০ মিলিয়ন ডলার ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ হিসেবে প্রদান করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ৩টি সংস্থা।

সাবসিডিয়ারিসহ সামিট পাওয়ার লিমিটেডের বিদ্যুকেন্দ্র রয়েছে ১৩টি। নতুন করে গত বুধবারে যোগ হয়েছে আরো দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। গাজীপুরের কড্ডায় আগামী বছরের মার্চ (১৫ মাস) মাসে উৎপাদনে আসবে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি। সামিট পাওয়ার লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিই অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড (৬৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক) ১৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে  চুক্তি করেছে।

চলতি বছরের মার্চে বরিশাল অঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড ও নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনগঞ্জে স্থাপিত সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট বিদ্যুৎকেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। চলতি এপ্রিলের ৫ তারিখ থেকে বরিশাল কেন্দ্রটি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের দ্বিতীয় ইউনিটটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। ‘সেরা বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ইউনিট’ হিসেবে ১১৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যু উৎপাদন করছে সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এবং বড় প্রকল্প নির্মাণ করছে সামিট গ্রুপ। ফলে গত বছরের তুলনায় নতুন বছরে কোম্পানির আয় বাড়লে শেয়ারপ্রতি দরও অনেক বাড়বে। বিগত দিনগুলোর তুলনায় অপেক্ষা করছে কোম্পানির সাফল্যের চমক।

সামিট পাওয়ার লিমিটেডের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ৬টি। উৎপাদনে থাকা প্লান্টগুলো হলো- আশুলিয়া পাওয়ার প্লান্ট ১ ও ২, মাধবদী পাওয়ার প্লান্ট ১ ও ২ এবং চান্দিনা পাওয়ার প্লান্ট ১ ও ২।

সামিট পাওয়ার লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির বিদ্যুকেন্দ্রগুলো হলো- সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের রূপগঞ্জ ও জাঙ্গালিয়া পাওয়ার প্লান্ট, সামিট উত্তরাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানির মাওনা ও উল্লাপাড়া পাওয়ার প্লান্ট এবং সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার লিমিটেডের মদনগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট।

সামিটের ১১টি বিদ্যুকেন্দ্রর মধ্যে মদনগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট ছাড়া বাকি সবই গ্যাসভিত্তিক।

(সম্ভাবনার আরো প্রতিবেদন দ্বিতীয় পর্বে আসছে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here