ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা আরো শিথিল প্রক্রিয়ায়

0
899

সিনিয়র রিপোর্টার : খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা আরও শিথিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুনঃতফসিলের প্রতিটি ক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি এককালীন জমা বা ডাউনপেমেন্টের শর্ত শিথিল করা হচ্ছে।

২০১২ সালে পুনঃতফসিল নীতিমালা জারির পর এ নিয়ে চতুর্থ দফা সংশোধন করা হচ্ছে। যদিও ব্যাংকগুলো নীতিমালা অনুসরণ করে যে পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল করেছে, তার চেয়ে বেশি করেছে বিশেষ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ার পর থেকে ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যে কোনো ঋণ পুনঃতফসিলের প্রয়োজন হলেই তা বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

তবে নতুন নীতিমালা কার্যকরের পর থেকে বিশেষ বিবেচনায় আর কোনো ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো যাবে না। এ ছাড়া প্রতিটি ঋণ পুনঃতফসিলের আগে ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির রিপোর্ট নিতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, নগদ প্রবাহসহ সার্বিক বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে এরপর পুনঃতফসিল করতে হবে।

বর্তমানে চলতি মূলধন, তলবি, মেয়াদি এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র যে কোনো ঋণ সর্বোচ্চ তিনবারের জন্য পুনঃতফসিল করা যায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিম্নমান, সন্দেহজনক ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণ প্রতিটি ধাপে কোন মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে সে বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। এখন প্রতিটি পর্যায়ে সময় বাড়ানো হচ্ছে। নিম্নমানে শ্রেণীকৃত চলতি মূলধন ঋণ প্রথম ধাপে ৩৬ মাসের জন্য পুনঃতফসিলের প্রস্তাব রয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

বর্তমানে ১৮ মাসের জন্য পুনঃতফসিল করা যায়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ মাস এবং তৃতীয় ধাপে ৬ মাসের জন্য পুনঃতফসিল করা যায়। দুটি ক্ষেত্রেই সময় বাড়িয়ে ২৪ মাস এবং ১২ মাস করা হচ্ছে। একইভাবে সন্দেহজনক ও মন্দমানে শ্রেণিকৃত যে কোনো চলতি মূলধন ঋণ পুনঃতফসিলের প্রতিটি পর্যায়ে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

বিদ্যমান নীতিমালায় নিম্নমানে শ্রেণিকৃত যে কোনো মেয়াদি ঋণ প্রথম দফায় ৩৬ মাসের জন্য পুনঃতফসিল করা যায়। এ ক্ষেত্রে সময় বাড়িয়ে ৬০ মাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় আরও ৬০ মাস তথা সব মিলিয়ে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করা যাবে। বর্তমানে সব মিলিয়ে ৬ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করা যায়।

একাইভাবে অন্য ক্ষেত্রেও সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে সন্দেহজনক মানে শ্রেণিকৃত একটি তলবি ঋণ তিন ধাপে সর্বোচ্চ দুই বছর তিন মাসের জন্য পুনঃতফসিল করা যায়। কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ তিন ধাপে সাড়ে চার বছরের জন্য পুনঃতফসিল করা যায়। এসব ক্ষেত্রেও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

একইভাবে ডাউনপেমেন্ট তথা অগ্রিম জমার শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম ধাপে পুনঃতফসিল করতে খেলাপি হওয়া কিস্তির ১৫ শতাংশ অথবা মোট স্থিতির ১০ শতাংশের মধ্যে যেটি বেশি সে পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে। আর দ্বিতীয় ধাপে ৩০ অথবা ২০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ৫০ অথবা ৩০ শতাংশের মধ্যে যেটি বেশি সে হারে ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

ঋণ পুনঃতফসিল বিষয়ে ২০১২ সালে একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে চলতি, তলবি বা মেয়াদিসহ যে কোনো ঋণ সর্বোচ্চ তিনবার পুনঃতফসিল করার সুযোগ রাখা হয়। আর নিম্নমান, সন্দেহজনক এবং মন্দ মানে শ্রেণিকৃত কোন ঋণ কী মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে তার একটি সময়সীমা ঠিক করে দেওয়া হয়।

তবে কিছু দিন যেতে না যেতে শর্ত শিথিল করে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আরেকটি সার্কুলার জারি হয়। এর পরের বছর আরেক নির্দেশনার মাধ্যমে সব ধরনের মেয়াদি এবং কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ পুনঃতফসিলের শর্তে শিথিলতা আনা হয়। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here