‘নগদ লভ্যাংশে’ আস্থার যোগান দিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি

0
1455

সিনিয়র রিপোর্টার : দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে বহুজাতিক অনেক কোম্পানি। বেশ ভালো ব্যবসা করছে কোম্পানিগুলো। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর শেয়ারধারী অনেকে বিনিয়োগকারীকে বেশ ভালো লভ্যাংশও প্রদান করছে। তালিকাভুক্ত দেশীয় কিছু কোম্পানি নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও বহুজাতিক কোম্পানি সম্পর্কে উচ্চাশার কথা পোষন করেন বিনিয়োগকারী।

কারণ, এসব কোম্পানির বোনাস শেয়ারে মুনাপা বৃদ্ধি লক্ষ্য নয়, বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে। অনেক কারণে এসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বেশ আস্থার যোগান দিচ্ছে।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেরিকো বাংলাদেশ, গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন লিমিটেড, বার্জার পেইন্ট,ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবাকো লিমিটেড,বাটা সু, রেকিট বেনকিজার, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, গ্রামীনফোন, লিন্ডে বিডি, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং আরএকে সিরামিক।

দেশী কোম্পানিগুলো বছরে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে হিমসিম। আর বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ৪০০ থেকে ৫০০-৬০০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করে। কোম্পানিগুলো বোনাস শেয়ারে তাদের পরিশোধিত মুলধন বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে না।

গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন বাংলাদেশ : অন্য কোম্পানির তুলনায় স্বল্প মূলধনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। ১৯৭৬ সালে তালিকাভুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিটির ১ কোটি ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে মাত্র দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সমাপ্ত বছর কোম্পানিটি ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তবে ইপিএস কমেছে ১৫.৪৮ টাকা ২৮ শতাংশ। গত এক বছরে শেয়ার দর ১ হজার ৫৬৫.১ টাকা থেকে ১ হাজার ৫২২.১ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড : সমাপ্ত অর্থবছরে ৪৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে রয়েছে মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

বার্জার পেইন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড : সমাপ্ত বছরে ১৭৫ শতাংশ নগদ এবং গত বছর কোম্পানিটি ৩৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯৫ শতাংশই রয়েছে পরিচালকদের হাতে। আগের বছরের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১৭.৮০ টাকা।

ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ লিমিটেড :  ১৯৭৭ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৬০ কোটি টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৭২.৯১ শতাংশ পরিচালকদের হাতে। সমাপ্ত বছর কোম্পানিটি ৬০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত বছরে ইপিএস বেড়েছে ২৮.৪৭ টাকা।

বাটা সু লিমিটেড : ১৯৮৫ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৭০ শতাংশ পরিচালকদের হাতে। সমাপ্ত বছর কোম্পানিটি ২২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত বছরে ইপিএস বেড়েছে ৫.২৪ টাকা।

রেকিট বেনকিজার : ১৯৮৭ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৪৭ লাখ ২৫ হাজার। এরমধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে আছে মাত্র ৪.৬৫ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশী বিনিয়োগকারীর কাছে ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

সমাপ্ত বছর কোম্পানিটি ৪০০ শতাংশ নগদ এবং গত বছর ৬৫০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

হাইডেলবার্গ সিমেন্ট : সমাপ্ত বছরে ৩০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ১.৮৮ টাকা। সমাপ্ত বছরে ইপিএস হয়েছে ২৬.৬৯ টাকা এবং আগের বছরে ছিল ২৪.৮১ টাকা।

গ্রামীণফোন : ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশ পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশীদের হাতে ৭.৯২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে মাত্র ২.০৮ শতাংশ শেয়ার।

সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি ৯০ শতাংশ নগদ এবং গত বছর ছিল ১৪০ শতাংশ। সমাপ্ত বছরে গ্রামীণের ইপিএস বেড়েছে ২.০৯ টাকা।

লাফার্জ সুরমা : চলতি বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ এবং ৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন মিলে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.২১ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here