লোকসান বেড়েছে প্রাইম ফিন্যান্সের

0
360

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের এক বছরের ব্যবধানে লোকসান ৫২ কোটি টাকার বেশি বেড়েছে, শতকরা হিসাবে যা ১২২ ভাগ। সাবসিডিয়ারি ও সহযোগী কোম্পানির লোকসান বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি বেড়ে যাওয়ার কারণেই কোম্পানিটির সমন্বিত নিট লোকসান বেড়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, বছর শেষে প্রাইম ফিন্যান্সের নিট লোকসান হয়েছে ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি লোকসান ৩ টাকা ৪৮ পয়সা। এর আগের (২০১৫) হিসাব বছরে তা ছিল ৪২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি লোকসান ১ টাকা ৫৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির লোকসান বেড়েছে ৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা।

সাবসিডিয়ারি ও সহযোগী কোম্পানির লোকসান এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি বৃদ্ধির কারণে গেল হিসাব বছরে প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের নিট লোকসান বেড়েছে।

গেল বছর প্রতিষ্ঠানটির সাবসিডিয়ারি প্রাইম ফিন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের লোকসান হয়েছে ২২ কোটি টাকা। সহযোগী কোম্পানি পিএফআই সিকিউরিটিজের লোকসান হয়েছে ৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানটির ৪৬ দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হিসেবে এর মধ্যে প্রাইম ফিন্যান্সকে ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসানের বোঝা বইতে হয়।

আরেক সহযোগী কোম্পানি প্রাইম ফিন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের লোকসান না থাকলেও এতে বিনিয়োগকৃত ২০ কোটি টাকা থেকে কোনো রিটার্ন আসেনি। কিন্তু মূল প্রতিষ্ঠানকে এই মূলধনের ব্যয় ঠিকই বহন করতে হয়েছে। এছাড়া আরেকটি সহযোগী কোম্পানি প্রাইম প্রুডেনশিয়ার ফান্ড লিমিটেড থেকেও লোকসান গুনতে হয়েছে গেল হিসাব বছরে।

এদিকে ২০১৬ শেষে প্রাইম ফিন্যান্সের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে কোম্পানিটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। খেলাপি আগের তুলনায় দেড়গুণের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এক্ষেত্রে কোম্পানিটিকে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়েছে। আর এর অর্থ কোম্পানির আয় থেকেই সংস্থান করতে হয়েছে। এ কারণে আগের বছরের তুলনায় সর্বশেষ হিসাব বছরে প্রাইম ফিন্যান্সের লোকসান অনেক বেড়ে গেছে।

জানতে চাইলে প্রাইম ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদ খান বলেন, প্রাইম ফিন্যান্স থেকে অ্যাসোসিয়েট ও সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে এ পর্যন্ত ১৭৩ কোটি টাকা মূলধন সরবরাহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এর বাইরে আরো ৪৭৫ কোটি টাকা এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিনিয়োগ থেকে আমাদের কোনো আয় হয়নি। উল্টো সাবসিডিয়ারি ও অ্যাসোসিয়েট কোম্পানির লোকসানের বোঝা মূল প্রতিষ্ঠানকে বইতে হচ্ছে।

এছাড়া এ পর্যন্ত আমাদের ঋণ ও লিজ বাবদ বিনিয়োগের পরিমাণ ১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৬১ কোটি টাকার বিপরীতে আমাদের ১ টাকাও আয় আসেনি। ২০১৬ সালে মূলত এসব কারণেই প্রাইম ফিন্যান্সের লোকসান আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

২০১৫ সালে ২৮৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও সর্বশেষ সমাপ্ত বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪২৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া আমরা বর্তমানে এসএমই খাতে বিনিয়াগে জোর দিয়েছি। ২০১৬ সালে আমাদের এসএমই খাতে বিনিয়োগ ছিল ৬০ শতাংশ। চলতি বছরে আমরা এটিকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। তাছাড়া খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী ও দক্ষ রিকভারি টিম গঠন, রিকভারি এজেন্ট নিয়োগ অন্যতম।

তাছাড়া আমরা দেশের স্বনামধন্য একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছি। তারা আমাদের খেলাপি ঋণের অর্থ আদায়ে আইনি পদক্ষেপ  নেবে। তাছাড়া বর্তমানে পুঁজিবাজারের অবস্থা ভালো হওয়ার কারণে এ খাতের বিনিয়োগ থেকেও ভালো রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে চলতি বছরে কোম্পানির অবস্থার উন্নতি হবে। ২০১৭ সালে লোকসান পুরোপুরি কাটানো সম্ভব না হলেও ২০১৮ সালে মুনাফা করতে পারব বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ দুই বছর (২০১৫ ও ২০১৬) ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি প্রাইম ফিন্যান্স। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারদরও নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। গত ২০১৪ সাল শেষে প্রাইম ফিন্যান্সের শেয়ারদর ছিল ২১ টাকা ৪০ পয়সা, যা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে কমে ১১ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আর ২০১৬ শেষে তা আরো কমে ৯ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে।

সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ৩০ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত পুলিশ স্টাফ কলেজ কনভেনশন হলে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here