ভাটির পথে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

0
1220

স্টাফ রিপোর্টার : আইপিও প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ তালিকাভুক্ত শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর কমছেই। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও সোয়া ৩ শতাংশ দর হারিয়েছে এ শেয়ার। ডিএসইতে শেয়ারটি সর্বশেষ ৪৬ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে।

অথচ গত ৯ মার্চ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এ শেয়ারের লেনদেন শুরুর দ্বিতীয় দিনে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৬২ টাকা ৪০ পয়সা। এরপর গত ছয় কার্যদিবসে দর কমেছে ১৮ টাকা। গত সপ্তাহে ১৩ শতাংশের বেশি দর হারিয়ে ছিল দরপতনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা অবশ্য শেফার্ডের দরপতনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি। কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, বাজারের সার্বিক ওঠানামার মধ্যে পড়ে শেয়ারটির এ অবস্থা হয়েছে। বিশেষত ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়ায় লেনদেনের প্রথম দু’দিনে ভালো দর পেয়েছে। প্রকাশিত শেয়ার প্রতি আয়ের (ইপিএস) তুলনায় বাজারদরও যথেষ্ট বেশি বলে মনে করেন তারা। এখন সার্বিক নিম্নমুখী ধারার মধ্যে পড়ে শেয়ারটি দর হারাচ্ছে।

শীর্ষস্থানীয় মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, আইপিও-পরবর্তী শেয়ার অনুযায়ী হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে শেফার্ডের ইপিএস দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৯ পয়সা। অথচ ইপিএস ১ টাকার বেশি নিয়েও বস্ত্র খাতের অন্য কোম্পানির শেয়ারদর এতটা নয়। এ কারণে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই লেনদেনের প্রথম দু’দিনে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। এটাও দরপতনের কারণ হতে পারে।

শুধু শেফার্ড নয়, রোববার দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির দাম কমেছে। এতে বাজার সূচকও সামান্য কমেছে। অবশ্য সার্বিক নিম্নমুখী ধারার মধ্যেও বেড়েছে অধিকাংশ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। বস্ত্র খাতে কিছুটা ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। বিপরীত ধারায় ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের শেয়ার। অন্যদিকে মিশ্রাবস্থা ছিল ব্যাংকসহ অন্য খাতে।

রোববার ডিএসইতে ১৩৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৬৪টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৩৩টির। এতে এ বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৬৯৫ পয়েন্টে নেমেছে।

অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে ৯২ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর বেড়েছে। কমেছে ১৩১টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৩০টির দর। অবশ্য এ বাজারের বেশিরভাগ শেয়ারদর কমলেও প্রধান সূচক সিএসসিএক্স আগের দিনের অবস্থান ১০৭২৯ পয়েন্টে রয়েছে।

এদিকে সার্বিক শেয়ারদরে নিম্নমুখী ধারা সত্ত্বেও বেড়েছে দুই শেয়ারবাজারের লেনদেন ১৫৪ কোটি টাকা বেড়ে ১ হাজার ১৭৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১০৩ কোটি টাকা।