শ্যামল রায় :  ‘বাজারে কেবল কিছু কিছু শেয়ারের দামই বাড়ছে। আবার অনেক শেয়ারের দাম দীর্ঘ দিন থেকে ফেসভ্যালুর নিচে পড়ে রয়েছে। আর একটা জিনিস খেয়াল করেছি আমি যে শেয়ারগুলো কিনি সেগুলোর দাম বাড়েনা। অন্যগুলোর দাম বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে থাকতে থাকতে যখন বিরক্ত হয়ে ছেড়ে দেই। তখনই দাম বেড়ে যায়।’ বলছিলেন ইস্ট্রার্ণ শেয়ারস এন্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এহসানুল কবির। স্টক বাংলাদেশের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে তার বিনিয়োগ ভাবনার কথা।

আমি শেয়ার বাজারের সাথে জড়িত ২০১০ সালের আগে থেকে। শুরুতে আইপিও করতাম। ধীরে ধীরে সেকান্ডারি মার্কেটের সাথে জড়িয়ে পড়ি। প্রথম দিকে মার্কেটের তেমন একটা বুঝতাম না। এর ওর কাছ থেকে শুনে ট্রেড করতাম। এক সময় বুঝলাম শেয়ার বাজার আবেগের জায়গা নেই। এখানে লিকুইড মানির ব্যবসা হয়। একটু ভুল হলেই পোর্টফোলিও থেকে টাকা নাই হয়ে যায় । এখন থেকে বিভিন্নভাবে শেয়ার বাজারের উপর নলেজ রাখার চেষ্টা করছি। বাজারে সব সময়ই কিছু কিছু গুজব ভেসে বেড়ায়। এসব গুজবে কান না দিয়ে নিজে নিজে জেনে বুঝে এখন ট্রেড করছি।

মার্কেট এখন ওভারওল ভাল, তবে প্রফিট তুলনামূলক কম। সামনেই হয়তো কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ট  দিবে। এর মধ্যে কিছু কিছু কোম্পানির ডিভিডেন্ট ঘোষণাও করেছে । তাই হয়তো বাজারে একটু কারেকশন হবে। তবে লংটার্মের জন্য এখনই বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়। আমার মনে হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এখন বাজারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এজন্য ব্যাংকের শেয়ারের সূচকের উর্দ্ধগতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে যেসব শেয়ার কোম্পানি ভাল ডিভিডেন্ট দেয় সেসব ব্যাংকের শেয়ার ইন্ডিভিজুয়ালী বাড়ছে।

সামনে বাজার কেমন হবে প্রশ্নের জবাবে এহসানুল কবির বলেন – “আমার মনে হয় সামনে বাজার বেশ ভাল হবে। কারণ সবাই এখন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছে। স্বাভাবিকভাবেই বাজারে বেশ কিছু নুতন টাকা ঢুকেছে। এজন্য সরকারেরও উচিত ভাল ভাল কোম্পানীগুলো শেয়ার বাজারে নিয়ে আসা। মৌল ভিত্তির কোম্পানিগুলো বাজারে আসলে আমাদের শেয়ার বাজার অনেক শক্তিশালী হবে।

আপনি নিজে শেয়ার কেনার আগে কোন কোন বিষয়গুলো খেয়াল করে শেয়ার কেনেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,”আমি শেয়ার কেনার ব্যাপারে বেশ সাবধানী। অনেকগুলো বিষয় মিলিয়ে আমি একটা কোম্পানীর শেয়ার কিনি। প্রথমেই দেখি কোম্পানিটির মৌল ভিত্তি কি রকম। বিগত বছরগুলোতে দেখা ডিভিডেন্টের পরিমান কেমন। তারা স্টক ডিভিডেন্ট দেয় না, ক্যাশ দেয় সেটা খেয়াল করি।

এছাড়াও কোম্পানীর গুডউইল কেমন, কোম্পানীর ইপিএস কেমন, কোম্পানীতে বিদেশীদের শেয়ার কতটুকু, মালিক পক্ষের হাতে কতগুলো শেয়ার, বাজারে এ কোম্পানীর শেয়ার কি পরিমানে লেনদেন হয়। এসব বিষয় খেয়াল করে কেনার মত হলে তারপর ঐ কোম্পানীর শেয়ারটা কিনি। একটা বিষয় আমার মাথায় ভালভাবে আছে। এখানে টাকার ব্যবসা হয় কাজেই ভুল চুক যাতে কম হয় সে বিষয়টা খেয়াল রাখি।”

শেয়ার বাজারে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের গুরুত্ব কেমন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নিজে হয়তো অতটা এক্সপার্ট নই, তবে প্রত্যেকটা কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস করার চেষ্টা করি। তাই আমার মনে হয় “টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের কোন বিকল্প নাই”।

অন্তত কেনার আগে টেকনিক্যাল গ্রাফটা দেখে কিনলে কনফিডেন্টস পাই। তবে আমাদের বাজারে বেশিরভাগ মানুষ এই বিষয়টা কম বুঝে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এর পার্সেন্টেজ তো আরও কম। এইজন্যই অনেক সময় দেখা যায় ভাল মৌলভিত্তির শেয়ারের দাম খুব একটা হেরফের হচ্ছে না। কিন্তু অনেক জেট ক্যাটাগরীর শেয়ারও লম্ফ দিয়ে বাড়ে। তাই আমার মনে হয় টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসটা জানা বেশ জরুরী।

তবে এমনটা ভাবা ঠিক হবে না যে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস জানলে সে আর লস করবে না, কারন পৃথীবির সব দেশের শেয়ার বাজারই উঠবে নামবে এটাই নিয়ম। কোন বাজারই একটানা উঠতে পারেনা, আবার নিম্নগতিও থাকতে পারে না সব সময়। তবে শুধু লোক মুখে শুনে শুনে শেয়ার কেনাটা সত্যিই বিপদ জনক।

আরকটা বিষয় বিসেক (BSEC) এর সারভেলেন্স টিম এর আচরণ সত্যিই উদ্বেগজনক। কারণ তারা সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখতে পারছে না। তা না হলে অনেক কোম্পানী তাদের মনগড়া তথ্য ডিসক্লোজ করে কিভাবে? তাছাড়া কোন কোন কোম্পানীর ক্ষেত্রে একটু দাম বাড়লেই যেমন কারন দর্শানোর চিটি দেয় কমার ক্ষেত্রে ঠিকভাবে সেটা করে না কেন? আমার মনে হয় সব কিছুর একটা সার্বিক সমন্বয় থাকা দরকার আমাদের শেয়ার বাজারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here