সিনিয়র রিপোর্টার : স্বাভাবিক লেনদেন চালুর আগে ও পরে আধা ঘণ্টা করে মোট এক ঘণ্টা ‘প্রি-মার্কেট’ এবং ‘আফটার আওয়ার ট্রেড’ নামে লেনদেন সময় বাড়াতে চায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) প্রস্তাব দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটি।

তবে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১৯৯৯ সাল থেকেই আফটার আওয়ার ট্রেড চালু আছে। শুরুতে আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত লেনদেন চালু রাখলেও এখন তা ৫ মিনিটে নামিয়ে এনেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ক্ষেত্র বিশেষে ১৫-২০ মিনিটও অতিরিক্ত সময়ে লেনদেন চালু রাখে সিএসই।

গত বৃহস্পতিবারও বাজারে অতিরিক্ত লেনদেন সময়ে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। সিএসইর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গত বুধবার বাজারে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এর মধ্যে পোস্ট আওয়ার সেশনের ৫ মিনিটে ৬০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

বর্তমানে দেশের দুই শেয়ারবাজার ডিএসই ও সিএসইতে স্বাভাবিক লেনদেন সময় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা। একদিনে মোট মোট চার ঘণ্টা লেনদেন হয়। ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্মতি দিলে লেনদেন শুরুর আগেই (প্রি-মার্কেট সেশন) বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় আদেশ দিতে পারবেন।

তবে এ সময়ে লেনদেন সম্পন্ন হবে না। লেনদেন সম্পন্ন হবে স্বাভাবিক লেনদেন সময় চালুর সঙ্গে সঙ্গে। অন্যদিকে স্বাভাবিক লেনদেন সময় শেষে (আফটার আওয়ার ট্রেড) বিনিয়োগকারীরা আগের ক্রয় বা বিক্রয় আদেশগুলো সংশোধন করে লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।

১৯৯৯ সাল থেকে উন্নত বিশ্বের কয়েকটি শেয়ারবাজার অতিরিক্ত সময়ের লেনদেন ব্যবস্থা চালু করে। বিশ্বের বড় শেয়ারবাজার যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাকের স্বাভাবিক লেনদেন সময় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। প্রি-মার্কেট সেশন চালু হয় ভোর সোয়া ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। অন্যদিকে পোস্ট আওয়ার ট্রেড চালু হয় বিকেল সোয়া ৪টায়। চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।

জানতে চাইলে বিএসইসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সময়ে লেনদেন ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়ে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ অভিন্ন প্রস্তাব আনলে তা বিবেচনা করে দেখা হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের বহু শেয়ারবাজারে প্রি অ্যান্ড পোস্ট মার্কেট সেশন চালু আছে। আমাদের দেশেও এটি চালুতে কোনো সমস্যা নেই।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান জানান, শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বা লেনদেন বাড়াতে লেনদেন সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্ধারিত চার ঘণ্টার লেনদেন সময়ে অনেক বিনিয়োগকারী লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন না। এটা তাদের ওই দিন শেয়ার লেনদেনের সুযোগ করে দেবে।

ডিএসইর শীর্ষ এ কর্মকর্তা বলেন, কিছু বড় শেয়ারবাজারে প্রি অ্যান্ড পোস্ট মার্কেট সেশনে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের সুযোগ দেয়। তবে ডিএসই বলেছে, এটা সব বিনিয়োগকারীর জন্য উন্মুক্ত রাখতে। সিএসইও তাই করে। তা ছাড়া পোস্ট মার্কেট সেশনে নতুন ক্রয় বা বিক্রয় আদেশ দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রেও যেন ছাড় দেওয়া হয়। তার প্রস্তাব ডিএসই করেছে। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত সময়ে লেনদেন করার সুযোগ সৃষ্টিতে আপত্তি নেই কমিশনের। তবে তারা বলেছে, দেশের উভয় শেয়ারবাজারেই একই নীতিতে এ ধরনের লেনদেন সময় চলতে হবে।

সিএসইর মার্কেট অপারেশনস বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এ স্টক এক্সচেঞ্জটির ইলেকট্রনিক লেনদেন ব্যবস্থা চালুর সময়ই ট্রেডিং সিস্টেমে প্রি অ্যান্ড পোস্ট ট্রেডিং করার ব্যবস্থা ছিল। তবে শুরু থেকে পোস্ট ট্রেডিং সুবিধা ব্যবহার করে আসছে সিএসই।

সিএসইর ওই কর্মকর্তা জানান, সিএসইতে দুপুর আড়াইটায় স্বাভাবিক লেনদেন সময় শেষ হওয়ার পরও পরের পাঁচ মিনিট ধরে লেনদেন চলে। যা ২টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হয় ২টা ৪০ মিনিটে। এ সময় ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক যে কোনো ক্যাটাগরির বিনিয়োগকারী এ সেশনে কেবল ওই দিনের ক্লোজিং প্রাইসেই লেনদেনের অর্ডার দিতে পারেন। সাধারণত শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয়ের মধ্যে সমন্বয় আনতে বেশি লেনদেন হয় বলে জানান তিনি।

তবে গত বৃহস্পতিবারের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দুপুর আড়াইটায় যে সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি বা হ্রাস পেয়েছিল, বিকেল ৩টায় তার পরিবর্তন দেখা গেছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত সময়ের লেনদেনের কারণে স্বাভাবিক লেনদেন সময়ের পরও কোম্পানিগুলোর দর হ্রাস-বৃদ্ধি পাওয়ার পরিসংখ্যানে পরিবর্তন হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here