৬টি জীবন বীমা কোম্পানি কম ব্যয় করেছে

0
1360

স্টাফ রিপোর্টার : বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নানামুখী পদক্ষেপের কারণে গত বছর অনুমোদিত সীমার চেয়ে কম ব্যয় করেছে ছয়টি জীবন বীমা কোম্পানি। আডিআরএ সূত্রে জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো— রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বহুজাতিক কোম্পানি মেটলাইফ।

আইডিআরএ সূত্র জানায়, গেল বছর জীবন বীমা খাতের ছয়টি কোম্পানি অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে কম ব্যয় করেছে। ব্যবস্থাপনা খাতে অন্যগুলোর ব্যয় কিছুটা বেশি থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। আগামী বছর থেকে জীবন বীমা খাতের সব কোম্পানির ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে সরকারি-বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে রূপালী লাইফ। আলোচ্য বছরে ২৮৭ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করতে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ৮৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা ছিল ৯২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ অনুমোদিত সীমার চেয়ে ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে এ কোম্পানি।

ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় কম করার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটি ৫৮৫ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করতে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ১৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা ছিল ১৬৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা খাতে সীমার চেয়ে ২ কোটি ৮ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে।

ব্যবস্থাপনা খাতে কম ব্যয় করার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রাইম ইসলামী লাইফ। ২০১৬ সালে প্রাইম ইসলামী লাইফ ৩১২ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করতে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ১১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা ছিল ১১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা খাতে ২৫ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।

প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৬ সালে ২২০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করতে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ৭৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা ছিল ৮০ কোটি ৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা খাতে অনুমোদিত সীমার চেয়ে প্রগতি লাইফ ১৭ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে এ কোম্পানি।

ন্যাশনাল লাইফ ২০১৬ সালে ৮১৭ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করতে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ২৪৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা ছিল ২৪৯ কোটি ১ লাখ টাকা। অর্থাত্ ন্যাশনাল লাইফ ব্যবস্থাপনা খাতে সীমার চেয়েও ১৪ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে।

এদিকে বিদেশী মালিকানাধীন মেটলাইফ আলিকোর বাংলাদেশ শাখা ২০১৬ সালে ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করতে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ৫৪৭ কোটি টাকা। ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা ছিল ৫৯৪ কোটি টাকা। যদিও প্রতি বছরই বহুজাতিক এ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনুমোদিত সীমার মধ্যেই থাকে বলে আইডিআরএ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্যবস্থাপনা খাতে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যয় ও এর স্বচ্ছতা নিয়ে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সাল থেকেই কোম্পানিগুলোকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিয়ে আসছে আইডিআরএ। এজন্য অনুমোদিত সীমাও বেঁধে দেয়া হয়। মাঝে একবার কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক)। মূলত এর পরই ব্যয় কমাতে তৎপর হয় কোম্পানিগুলো।