১৮ শর্তে ছাড় পাচ্ছে এডিবির ১৩৫০ কোটি টাকা

0
897

সিনিয়র রিপোর্টার : বাস্তবায়নাধীন তৃতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচি (সিএমডিপি-৩) দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিদ্যমান বাধাসমূহ দূর করে দক্ষতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ‘উন্নয়ন কার্যকারিতার সার সংক্ষেপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে এ অভিমত তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, সিএমডিপি-৩ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে এরই মধ্যে আটটি শর্ত বাস্তবায়নের বিপরীতে ৮ কোটি ডলার বা ৬৫০ কোটি টাকা ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগী এডিবি। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপে ১৮টি শর্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এগুলো পূরণসাপেক্ষে বাকি ১৭ কোটি ডলার বা ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হবে।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এরই মধ্যে বাস্তবায়িত দ্বিতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচি (সিএমডিপি-২) ২০১০ সালের ধসের পরে পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া সিএমডিপি-২ কর্মসূচি বিএসইসির ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একটি অত্যাধুনিক বাজার নজরদারি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে।

পাশাপাশি বাজারে লেনদেন আরো স্বচ্ছ করা এবং ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা করা) মাধ্যমে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালন কাঠামোর উন্নয়নে এ কর্মসূচি ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, এডিবি দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের পুঁজিবাজার উন্নয়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। তাদের  সহায়তার বিপরীতে বেশকিছু শর্ত পরিপালন করতে হয়েছে। এসব শর্ত পূরণের ফলে বিএসইসির সক্ষমতা বেড়েছে, যা পুঁজিবাজার শক্তিশালী করণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। আশা করছি, ভবিষ্যতেও তারা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

এডিবির মতে, সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অভাবে দেশের পুঁজিবাজারে নানা কারসাজি এবং ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে ধসের মতো ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। তাই পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচির (সিএমডিপি) আওতায় এরই মধ্যে তিন ধাপে ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে প্রথম দফায় ৮ কোটি ডলার বা ৬৫০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করে এডিবি।

পরবর্তীতে ২০১২ সালে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এডিবির বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচির (সিএমডিপি-২) আওতায় দুই কিস্তিতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা ৩০ কোটি ডলার ঋণ প্রদান করা হয়। সর্বশেষ সিএমডিপি-৩ কর্মসূচির আওতায় প্রথম কিস্তির ৮ কোটি ডলার বা ৬৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলমান তৃতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচির (সিএমডিপি-৩) সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি শক্তিশালী আইনি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভিত্তিতে পুঁজিবাজারের সামর্থ্য উন্নয়ন ও এর আয়তন বৃদ্ধি করা। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের পুঁজিবাজারসহ আর্থিক খাতের সংস্কারে ২৬টি শর্ত বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

এসব শর্তের মধ্যে বিএসইসির জনবল বৃদ্ধিসহ প্রতিষ্ঠানটিকে আরো শক্তিশালী করা ও এর সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনা, পুঁজিবাজার কারসাজিতে জড়িতদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা, নির্দিষ্ট আয়ের ওপর কর মওকুফ সুবিধা প্রদান, বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর জনবল কাঠামো ও তদারকি ব্যবস্থা আরো জোরদার করা, স্বতন্ত্র ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন করা উল্লেখ্যযোগ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডিআরএ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ করবে। এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে এডিবি। এজন্য অতিরিক্ত ৭ লাখ ডলার অনুদান  দেবে সংস্থাটি।

তৃতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচির (সিএমডিপি-৩) আওতায় যে ২৫ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, এর মধ্যে ১০ কোটি ডলার নমনীয় ঋণ হিসেবে দিবে এডিবি। পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সুদের হার এক্ষেত্রে ২ শতাংশ। অবশিষ্ট ১৫ কোটি ডলার তুলনামূলক কঠিন শর্তে ঋণ প্রদান করা হবে।

এ ঋণের বিপরীতে লন্ডন আন্তঃব্যাংক সুদহারের (লাইবর) সঙ্গে দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ যোগ হবে। এর ফলে সুদের হার প্রায় ৩ শতাংশে দাঁড়াবে। তিন বছরের রেয়াতকালসহ ১৫ বছরে এ ঋণ শোধ করতে হবে। তাছাড়া অব্যবহূত অর্থের ওপর আরো ০.১৫ শতাংশ হারে চার্জ প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ১৯৭৩ সালে সদস্যপদ লাভের পর থেকে এডিবি তার আর্থিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাংলাদেশকে প্রদান করে আসছে। এডিবি এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১ হাজার ৭২৬ কোটি ডলার ঋণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি মূলত বিদ্যুত্, জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, পরিবহন, শিক্ষা, কৃষি, পানি সম্পদ এবং সুশাসন খাতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here