দাম বাড়বে জ্বালানি তেলের, কমবে খাদ্যপণ্যের

0
953

সিনিয়র রিপোর্টার : চলতি বছর শিল্পের জ্বালানি (কয়লা, তেল ও গ্যাস) এবং ধাতব পণ্যের দাম বাড়বে। সরবরাহ কমে যাওয়া ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব পণ্যের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

আন্তর্জাতিক ঋণদানকারী সংস্থাটি মনে করে, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রতি ব্যারেল গড়ে ৫৫ ডলারে বিক্রি হবে, যা গত বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল গড়ে ৬০ ডলারে বিক্রি হবে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’-এ এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রিপোর্টটি ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রতি তিন মাস অন্তর পণ্য বাজার নিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে।

২০১৫ সাল থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। গত বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রতি ব্যারেল গড়ে ৪৩ ডলারে বিক্রি হয়েছে। দরপতন ঠেকাতে পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং অন্যান্য তেল উৎপাদক দেশগুলো সীমিত তেল উত্তোলন করার বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। যে কারণে সরবরাহ কমে পণ্যটির দাম বাড়বে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, কয়লার দাম ৩৮ শতাংশ, গ্যাসের দাম ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। আর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে ১০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ওপেক ও ওপেক বহির্ভূত তেল উৎপাদক দেশগুলো প্রতিদিন ১৮ লাখ ব্যারেল কম উৎপাদন করবে।

এ ছাড়া চীনসহ অগ্রগামী দেশগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বাড়বে ধাতব পণ্যের। তবে রত্ন ধাতুর (হীরা, প্লাটিনাম ও স্বর্ণ) দাম কমবে। শিল্পে ব্যবহৃত ধাতু দস্তা, সিসার দাম ১১ শতাংশ বাড়বে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। দস্তা ও সিসার সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ দাম বৃদ্ধি পাবে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন খনি এ দুটি ধাতুর উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

তবে ডলারে বিনিয়োগ ও সুদ হার বৃদ্ধি পাওয়ায় রত্ন ধাতুর দাম ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। জ্বালানি বহির্ভূত পণ্যের দাম ৩ শতাংশের মতো বাড়তে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে কৃষি পণ্যের দাম এক শতাংশের কম বাড়তে পারে। ভোজ্যতেল, তেলবীজ ও কাঁচামালের দাম সামান্য বাড়বে। তবে খাদ্যশষ্যের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমবে বলে বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। উঠতি ও উন্নয়নশীল বাজারে খাদ্যপণ্যের রফতানি কমে যেতে পারে। কারণ এ ধরনের দেশগুলোতে বিনিয়োগে ধীরগতি চলছে।

ধান, গম ও ভুট্টার ব্যাপক উৎপাদন হওয়ায় খাদ্যশষ্যের দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। পূর্ব এশিয়ার উৎপাদকদের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। কোমল পানীয়র দাম কমতে পারে ৩ শতাংশ পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here