কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের দরপত্রে অনিয়ম

0
716

সিনিয়র রিপোর্টার : এবার বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ করেছে কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক। এ কারণে প্রকল্পটির অর্থদাতা ব্যাংকটি দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে গত ৯ জানুয়ারি বিটিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচনা হয়েছে। পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।

এর আগে ২০১৫ সালে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা আলোচিত টিএনডিপি প্রকল্প থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ফিরিয়ে নেয়। এবার কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অভিযোগ বিটিসিএলের দরপত্র প্রক্রিয়াকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করল।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিটিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকই এ সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন। তবে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজ উদ্দিন আহমেদ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অভিযোগ : গত ১ জানুয়ারি কোরিয়ার টেলিকম কোম্পানি কেটি করপোরেশন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব বরাবর প্রথম অভিযোগ করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিটিসিএলের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্পের’ দরপত্র প্রক্রিয়ায় অন্যতম দরদাতা প্রতিষ্ঠান এস কে কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেইয়ং ইউবিটেকের অনৈতিক যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে, কারিগরি মূল্যায়ন চলার সময় ১২ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কিম তার মোবাইল নম্বর থেকে দরদাতা প্রতিষ্ঠান এস কে কনসোর্টিয়ামের কর্মকর্তা ব্রেইনকে সাতবার টেলিফোনে প্রায় ৩২ মিনিট কথা বলেছেন এবং ১৩টি এসএমএস দিয়েছেন। এ ছাড়া ১০ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এসকে কনসোর্টিয়ামের কর্মকর্তা তার মোবাইল নম্বর থেকে পরামর্শক কিমকে ফোনে ১১ বার কল দিয়ে প্রায় ৪২ মিনিট কথা বলেছেন। বিভিন্ন সময় তাদের মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার বিষয়ও জানা গেছে। এতে প্রকল্পের কারিগরি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।

সচিবের কাছে পাঠানো অভিযোগের সঙ্গে একটি ই-মেইল বার্তাও যোগ করা হয়েছে। এই ই-মেইল বার্তা যিনি পাঠিয়েছেন, তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে ই-মেইল বার্তায় কিম এবং ব্রেইনের মোবাইল নম্বরে উলি্লখিত সময়ের বিস্তারিত কল রেকর্ডও সংযুক্ত ছিল।

কেটির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কা হিউং কু স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কারিগরি মূল্যায়ন চলার সময় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো দরদাতার এ ধরনের যোগাযোগ অনৈতিক। এতে দুর্নীতির সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। এতে বলা হয়, এক্সিম ব্যাংক কর্তৃক কোরিয়ার সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) সহায়তায় পরিচালিত যে কোনো উদ্যোগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। তাই বিটিসিএলকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ প্রকল্পের কারিগরি মূল্যায়ন চলাকালে দুর্নীতির দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত ১৬ জানুয়ারি কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের মহাপরিচালক লি কিহো বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজউদ্দিন আহমেদের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানান, গত ৫ ও ১১ জানুয়ারি তারা বিটিসিএলের ওই প্রকল্পে দরদাতা দুটি প্রতিষ্ঠান কেটি করপোরেশন ও এলজি ইউপ্লাসের কাছ থেকে দুটি অভিযোগপত্র পেয়েছেন।

দুটি অভিযোগেই দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন চলার সময় প্রকল্পের পরামর্শক এবং অন্যতম দরদাতা প্রতিষ্ঠান এসকে কনসোর্টিয়ামের মধ্যে সন্দেহমূলক যোগাযোগের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি মূল্যায়ন চলার সময় পরামর্শকের সঙ্গে কোনো দরদাতার যে কোনো ধরনের যোগাযোগ গাইড লাইনের পরিপন্থী এবং প্রতারণা ও দুর্নীতির জন্য উদ্দেশ্যমূলক বিবেচিত হয়।

চিঠিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য বিটিসিএলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় এবং বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।

বিটিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত : গত ৯ জানুয়ারি বিটিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের সভায় কেটি করপোরেশনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তিনটি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এগুলো হচ্ছে, এক. ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ উত্থাপনকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করার লক্ষ্যে বিটিসিএল মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিআরসিকে সহায়তা করবে।

দুই. অভিযোগের সঙ্গে দেওয়া দুটি মোবাইল ফোন নম্বরের মালিকানা ও সংযুক্ত কল লিস্টের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিসিএল বিটিআরসিকে সহায়তা করবে।

তিন. বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিটিসিএল পরবর্তী সময়ে বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here