পাচার হচ্ছে লেনদেনের তথ্য!

0
2401

ডেস্ক রিপোর্ট : বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেন ও শেয়ারধারণের তথ্যের গোপনীয়তা থাকছে না পুঁজিবাজারে। শেয়ার কেনা-বেচার গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী অস্বস্তি ভোগ করছেন।

প্রতিদিন লেনদেন শেষে বিকালের মধ্যেই দিনের বিভিন্ন ব্রোকারহাউজের শেয়ার কেনাবেচার তথ্য বাইরে চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্রোকারহাউজ কী কী শেয়ার কিনেছে, কত পরিমাণে কিনেছে তার সব তথ্যই পাওয়া যায়। লেনদেনের তথ্যকে নানাভাবে উপস্থাপন করা যায়।

ধরাণা করা হচ্ছে- চারটি জায়গার যে কোনো একটি থেকে লেনদেনের এসব তথ্য প্রকাশ হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (সিএসই)।

Brokerhouse-Buyএ বিষয়ে ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রহমত পাশা বলেন, লেনদেনের তথ্য ফাঁসের কথা আমরাও শুনছি।  এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া ভালো কোনো অনুশীলন নয়।

তিনি বলেন, আসলে এই ধরনের তথ্য কিন্তু আমাদের কাছে থাকে না। পৃথিবীর কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে যায় বলে আমার জানা নেই। আমাদের দেশে হবে তাও আমি আশা করি না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। তদন্তে দোষীদের চিহ্নিত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই কথা বলেন ডিএসইর সাবেক সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, এটি হয় সবার জন্য খুলে দেওয়া হোক, না হয় পুরোপুরি বন্ধ করা হোক। অন্যথায় যারা এই কাজগুলো করছে, তাদেরকে খুঁজে শাস্তির আওতায় নিয়ে আশা হোক।

এ বিষয়ে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিএসইসি উদ্যোগ নিলেই এটি বন্ধ করা সম্ভব। কারণ বর্তমান কমিশন বিগত কয়েক বছরে বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এই কমিশন পুঁজিবাজারের স্বার্থে এটিও বন্ধ করতে পারবে। এটি খুব কঠিন কিছু না। এর চেয়েও কঠিন কাজ এই কমিশন করতে সক্ষম হয়েছে। চাইলে কমিশন এটিও বন্ধ করতে পারবে। পুঁজিবাজারের স্বার্থেই এটি বন্ধ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বেসিসের সভাপতি মোম্তফা জব্বার বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা কাজ করে সিকিউরিটি না মানার। ডাটা আউট বন্ধ করা একেবারেই সহজ কাজ। কারণ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যে সফটওয়ার ব্যবহার করে, সেখানে অবশ্যই সিকিউরিটির একটি পদ্ধতি আছে। সফটওয়ারটি মডিফাই করে সেখানে সিকিউরিটি ইনস্টল করার মাধ্যমে এটি বন্ধ করা যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেন, রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে তা অনেক বড় সমস্যা ডেকে আনে। বিএসইসি,ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএল হলো বিনিয়োগকারীদের রক্ষক। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কোনোভাবে তথ্য আউট হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীর যাবে কোথায়।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নতির জন্য এটি বন্ধ করা উচিৎ। এটি বন্ধ না হলে বিদেশী, দেশী বড় বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সমস্যায় পড়বে। এটি বাজারের জন্য অনেক দুখ্যের খবর নিয়ে আসতে পারে। সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের কেউ সম্পৃক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখানে কোনো শৈথিল্য দেখানো হলে তা বাজারের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, আমরাও এটি শুনছি। তবে কোনো তথ্য প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। তথ্য পাচারের সঙ্গে আমাদের কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালিক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, সবার মতো আমিও বিষয়টি শুনেছি। তবে এর কোনো তথ্য প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। যদি এর কোনো প্রমাণ আমরা পাই, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, এটির সত্যতা পেলে দোষিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here