‘কমিশন বাণিজ্য’ ডুবছে বীমা খাত: হাবিব জামাল

0
788

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : কমিশন বাণিজ্য নিয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগীতা রয়েছে। বিশেষ করে নন-লাইফইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে এই প্রতিযোগীতা বেশি। ব্যবসা পাওয়ার জন্য অসংখ্য নিচু মানের নন-লাইফইন্স্যুরেন্স কোম্পানি রয়েছে, যারা ওভার কমিশন দিচ্ছে।

সাময়িক লাভের আশায় বীমা গ্রহীতারাও তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে মূলধারার প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। এক ধরণের অসুস্থ প্রতিযোগীতার মধ্যে পড়ছে। মূলত বোঝাপড়ার অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি এবং এর জন্য মূলত আমরাই দায়ী।

Habib Jamal.. 2
মো. হাবিব জামাল

ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও কোম্পানি সচিব মো. হাবিব জামাল এসব কথা বলেন।

প্রিমিয়াম সম্পর্কে হাবিব জামাল বলেন, গ্রাহকদের উচিৎ প্রিমিয়াম করার আগে কোম্পানিটি কেমন, পরিচালনা পর্ষদে কারা রয়েছে, ভবিষ্যতে কেমন ব্যবসা করবে -এসব পর্যালোচনা করা। সাময়িক লাভের আশায় এসব পর্যালোচনা না করলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা বেশি রয়েছে। পাশাপাশি এই খাতের উন্নয়নে কমিশন পেমেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ। তাছাড়া বীমা খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

রাজধানীর মতিঝিলে রোববার, ১৫ জানুয়ারি তার কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে স্টক বাংলাদেশকে এসব কথা বলেন তিনি।

হাবিব জামাল বলেন, স্বাভাবিকভাবেই বিমা খাতের প্রতি সচেতনতার অভাব রয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। তার ওপর আমাদের নিজেদের মধ্যে সহযোগীতার অভাব। এসব কারণেই সেক্টরটি এখনও বেশি দূর এগুতে পারেনি।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সম্পর্কে ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব বলেন, আমাদের বোর্ড অব ডিরেক্টররা অনেক হাই-প্রোফাইলের। তাদের কারণেই ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স ভালো মানের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। তারা কখনই কাজের ক্ষেত্রে আপোস করেন না। অন্যদিকে আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপও সৃষ্টি করেন না। যে কারণে আমরা এখনো সুন্দর এবং সৎভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি বলেন, আমি ২০০৩ সাল থেকে এই কোম্পানিতে আছি। অর্থাৎ ১৪ বছর ধরে এই কোম্পানিতে কাজ করে যাচ্ছি। বোর্ড অব ডিরেক্টররা ভালো না হলে এতোগুলো বছর একই কোম্পানিতে কাজ করতে পারতাম না।

তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে আমাদের গ্রাহক রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে আমরা ব্যবসা ভালো করে যাচ্ছি। যে কারণে গত তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়ে যাচ্ছে। আমরা লভ্যাংশ প্রদানের ধারা অব্যহত রাখতে চাই।

বিনিয়োগকারী ঠকানোর কৌশল আমরা শিখতে চাই না। মূলধারার কোম্পানি হিসেবে আমরা বেশ ভালো ব্যবসা করছি, বিনিয়োগকারীদের ওপর আমাদের যেমন আস্থা রয়েছে, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও আমাদের বিশ্বাস করেন।

সে বিশ্বাসকে পুঁজি করে আমরা এখনো তাদের সম্মানজনক কিছু দিতে পারছি। আশা করি, এটা অব্যাহত থাকবে বলেন হাবিব জামাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here