সম্ভাবনার কথায় ‘বিপদ সংকেত আছে’

0
5883

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৬ সাল পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল। শুধু ডিসেম্বর মাসে কিছুটা উত্থান দেখা গেছে। তবে এটারও একটা বিপদ সংকেত আছে। তা হলো, বর্তমানে খারাপ শেয়ারগুলোর দামই বেড়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারের দর বাড়ার কারণে বাজারের সূচক বেড়েছে।

পুঁজিবাজারের উত্থান এবং পতন সম্পর্কে সম্প্রতি কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদের সঙ্গে। নতুন বছরে সম্ভাবনার হলেও আশঙ্কা রয়েছে জানান তিনি।

সম্ভাবনার কথায় তিনি বলেন, আসলে যারা এসব কথা বলছে, তারা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বসে আছে। ২০১৭ সালে বাজার খুব ভালো যাবে! টার্নওভার এক/দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে! এসব কথা বলে তারা সুযোগটার মিসইউজ করবে।

আমি বলে দিলাম, তারা ২০১০ সালের মতো সুযোগ নেবে, ঐ স্কেলে তারা বাজারকে নিতে পারবে না। তবে এর চেয়ে কিছুটা কম স্কেলে হলেও নিয়ে তারা বাজার থেকে বেরিয়ে যাবে। সুতরাং এখন থেকে বিএসইসির সাবধান থাকা উচিত।

আবু আহমেদ বলেন, অনেকে ভালো কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে খারাপ কোম্পানির বা জাঙ্ক ধরা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। জাঙ্ক শেয়ারের দর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আমি মনে করি না, এটা সাসটেইনেবল বিনিয়োগ হবে। এসব শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা আবারো মার খাবে।

কোম্পানির আইন ভাঙার প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোম্পানি আইন ভঙ্গ করে নানা ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে বছর (২০১৬) পার করেছে। পরিস্থিতি দেখলে মনে হয় কোম্পানির উদ্যোক্তারাই পুঁজিবাজারে গ্যাম্বলিং করতে আসেন। কোম্পানি বাজারে আসার পর ৬ মাস না যেতেই তারা শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে যান।

বিষয়গুলো বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। বিএসইসির উচিত কোম্পানি বাজারে আসার পর নির্দিষ্ট একট সময় পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের শেয়ারের ওপর একটা লকইন, দিয়ে রাখা। তাহলে বাজারের জন্য তা আরো শুভ হবে।

তিনি বলেন, নতুন কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এটা কম করে হলেও ৩ বছর হতে পারে। এই সময় পর্যন্ত কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না।