‘যে জলের দাগ মোছে না’

1
2209

রাহেল আহমেদ শানু : সুনামি, ২০১০ সাল। ভেতর পোড়াদের কান্নার শুরু। ধারাবাহিকতা চলতেই থাকে- ২০১২ সাল। সুনামির চূড়ান্ত আঘাত। শুরু হলো চারদিকে স্বপ্ন ভঙ্গের হুতাষন। পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীদের বিলাপ এবং আত্মহত্যা। পুলিশের সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাদানুবাদ এবং লাঠি চার্জ।

মতিঝিলের রাস্তায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন। সবার চোখে আকুতি, মুখে প্রার্থনার বুলি ‘রক্ষা করো’। অনেকে চান- প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। সব চুলোয় গেল, রইল শুধু বেদনার জল। যে জলের দাগ কখনো মোছে না।

সুনামির পরে আসছে শুভ দিন। দীর্ঘদিন পরে পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়ছে। হতাশার ছাপ মুছছে। বুকেও বাড়ছে বল। কারণ, অনেকে শোনচ্ছেন আশার বাণী। বাজার সেই শুভ দিকে-শুভ লক্ষণের আভাস দিচ্ছে। তারা বলছেন- মুছে ফেল কান্নার জল।

এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও মাহবুব মজুমদার বলছেন- ‘বাজার ভালো হবে। আশঙ্কার কিছু নেই, সব ইন্ডিগেটর বলছে- পজেটিভ। যে কারণে আগামী দিনে বাজার আরো ভালো থাকবে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ অনেক বাড়াচ্ছেন। অর্থনীতির সব ইন্ডিগেটর বলছে- আগামী বছরে শুভ দিন আসছে।

যখন পুঁজিবাজারের সব ইন্ডিগেটর পজেটিভ হবে, বুঝতে হবে বাজারে সুবাতাস বইবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য সুবাতাস ছড়ানোর সেই সম্ভাবনা এবং পরিবেশ ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণ কমিশন সৃষ্টি করেছে’।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্রোকার্স এ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী বলেন, আগামি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে লেনদেন আরো বাড়বে। লেনদেন ১২শ থেকে ১৫শ কোটি টাকা হবে। এমনটাই আশা করছি আমরা, অর্থনীতির সব ইন্ডিগেটরও তাই বলছে। লেনদেন হাজার কোটি ছাড়াবে -ইনশাআল্লাহ।

অতীতকে তুলে দরে তিনি বলেন, অনেক আগেই বলেছি ২০১৬ সালে বাজার উত্থানে যাবে। এখন আবার বলছি, ২০১৭ সাল হবে পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীল একটি বাজার; যা আমরা প্রত্যাশা করি। সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনেক সংস্কার কাজের মাধ্যমে সেই পরিবেশ আসছে এবং আমরা সেই সম্ভাবনার পথেই এখন হাঁটছি।

পুঁজিবাজার নিয়ে ‘তিন যুগের অভিজ্ঞতার’ কথা উল্লেখ করে রশিদ লালী বলেন, বাজার উত্থানের সব প্যারামিটার এ মুহূর্তে উর্ধমুখী। সব ইন্ডিগেটর জানান দিচ্ছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সামনে অগ্রসর হবে বাজার। তাছাড়া উন্নয়ন এবং অর্থনীতির সব প্যারামিটার এখন স্বাভাবিক এবং ভালো অবস্থানে রয়েছে।

ঢাকা ব্রোকার্স এসোসিয়েশন (ডিবিএ)’র ভাইস প্রেসিডেন্ট খুজিস্তা নুর-ই-নাহরিন বলেন, ভয়ের কোন কারণ নেই। ২০১৭ সালে নতুনভাবে মার্কেট শুরু হবে। তখন বছরের শুরু থেকেই মার্কেটে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে।

খুজিস্তা বলেন, একটি দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে মূদ্রা বাজার ও শেয়ারবাজারের ওপর। শেয়ারবাজার খারাপ হলে হাউজিং ব্যবসা থেকে শুরু করে দেশের পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ২০১০ সাল থেকে দেশের শেয়ারবাজার অত্যান্ত নাজুক অবস্থায় ছিল। আর এই খারাপ হওয়ার পেছনে  গত কয়েক বছর এডজাস্টমেন্টের বিষয়টি ছিল। গত ২১ জুলাই এডজাস্টমেন্ট শেষ হয়েছে। মার্কেট এখন ভালো হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সে প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি। ফের আশায় বুধ বাঁধছি। যদিও চোখের জলের দাগ মোছেনা। এবারে মোচনোর চেষ্টা করবে পুঁজিবাজার।

1 COMMENT

  1. কি ভাবে মুছিবে চোখের জল। অধিকাংশ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুজি হারিয়ে পথের ভিক্ষারী। ২২.০০ টাকার KAYACOSMET ১২.৮০, ৬৩.০০ টাকার WMSHIPYARD ৩২.১০ টাকা এ রকম বহু শেয়ার আছে। এদেশে পন্ডিতদের ভাববাণী ফলপ্রসু হয় না। এখন নতুন বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবে। শেয়ার বাজারের অপকর্মকারীদের যেন মহান সৃষ্টিকর্তা ক্ষমা করেন ।

LEAVE A REPLY