আইএফআইসি ব্যাংকের পকেটকাটার প্রক্রিয়া শুরু

0
4719

বিশেষ প্রতিনিধি : বেসরকারি ব্যাংক আইএফআইসি ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের পকেটকাটার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইতোপূর্বে উদ্যোক্তারা শেয়ার ধারণের শর্ত পালন না রাইট শেয়ার পেতে ব্যর্থ হন। তবে এবারে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকলেও ‘বিশেষ অশুভ প্রক্রিয়ায়’ রাইট শেয়ারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সব সম্ভাবনা তৈরি করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

আইএফআইসি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের মোট শেয়ার রয়েছে ৮.৪৮ শতাংশ, সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২১.৪৪ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৩৬.৯০ শতাংশ এবং বিদেশি উদ্যোক্তাদের রয়েছে .৪৩ শতাংশ শেয়ার। ডিসেম্বর মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।

Screenshot_1
উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের চিত্র

তবে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শেয়ার ধারণের চিত্র ছিল বিপরিত। আইএফআইসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উদ্যোক্তাদের ৮.৪৮ শতাংশ এবং সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ মিলে মোট ৪১.২৩ শতাংশ নিজেদের শেয়ার হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, ব্যাংকের মোট শেয়ারের পৌনে ৩৩ শতাংশের মালিক সরকার। ১৯৭৬ সালে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের যৌথ বিনিয়োগে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকে এই শেয়ার ধারণ করছে সরকার।

দেশের দুই শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই ও সিএসই) গত অক্টোবর শেষে ওয়েবসাইটেও সরকারের শেয়ার ধারণের তথ্য প্রকাশ করে। স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার ধারণের তথ্যের শতকরা হিসাবের পাশাপাশি উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়।

এরপরে বছরের নভেম্বর মাসের শেষে আইএফআইসি ব্যাংকের তথ্যে সরকারের ধারণকৃত শেয়ারের পরিমাণ শূন্য দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪১.২৩ শতাংশ। যেখানে কয়েক মাস ধরে ৮.৪৮ শতাংশ শেয়ার ধারণের তথ্য ছিল।

যা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এমন তথ্য দেখে যে কেউ ভাবতে পারেন, ব্যাংকটিতে থাকা সব শেয়ার সরকার হয়তো অক্টোবরের মধ্যে বিক্রি করে দিয়েছে। অন্যদিকে, উদ্যোক্তারা রাতারাতি সব শেয়ার কিনে ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৪১.২৩ শতাংশের মালিক হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাথমিক ধারণা, এজিএমে বিভিন্ন কেলেঙ্কারির মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংক রাইট শেয়ারের অনুমোদন নিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইতোপূর্বে রাইট শেয়ারের অনুমোদন নিলেও উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৩০ শতাংশের কম থাকায় রাইট বাতিল করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

চলতি বছরে আবারো রাইটে আসার চেষ্টা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ অনেক কম। যে কারণে ব্যর্থ হবে। সফলতার জন্য উদ্যোক্তাদের ৮.৪৮ শতাংশ এবং সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ মিলে মোট ৪১.২৩ শতাংশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের নিজেদের শেয়ার হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে।

অশুভ উপায়ে রাইট শেয়ার নিতে যাচ্ছে আইএফআসি ব্যাংক। ব্যাংকটিতে মোট শেয়ারের সংখ্যা ৫৬ কোটি ৩৮ লাখ ২১ হাজার ৯০৭ টি। ব্যাংকের ১টি শেয়ারের বিপরীতে আরো একটি ১টি রাইট শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেলে আরো ৫৬ কোটি ৩৮ লাখ শেয়ার ছাড়বে।

এতে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ব্যাংকটি ৫৬৩ কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করবে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পকেট কাটার সামিল। কারণ, ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবসার পরিধি, আয় এবং ইপিএস-এনএভি প্রতিনিয়ত কমছে। সম্ভাবনার বদলে আশঙ্কার তৈরি করেছে।

Total No. of Outstanding Securities 563,821,907

অন্যদিকে ব্যাংকের ব্যবসা না থাকলেও কৌশলে বাড়ানো হচ্ছে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি দর। যে কারণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের সিইও এবং পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা।

iFic
এজিএমে রাইট অনুমোদনের পরের দর

‘স্টক এক্সচেঞ্জকে ভুল তথ্য দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ’ বলেন ডিএসইর দায়িত্বশীলেএক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি স্টক বাংলাদেশকে জানান, আইএফআইসিতে সরকারের তিনজন মনোনীত পরিচালক রয়েছে। ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ এ কারণে সরকারের শেয়ারের অংশকে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার দেখিয়ে ডিএসইকে তথ্য দিয়েছে। ওই তথ্যই হুবহু আমরা প্রকাশ করেছি।

জানতে চাইলে ব্যাংকের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা ‘জালিয়াতি’ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজী হননি।

তবে আইএফআইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইএফআইসিতে সরকারের শেয়ার ছিল, এখনও আছে। এ শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর হয়নি।

তবে নভেম্বর মাসে এমন চিত্র তৈরি কেন করা হয়েছে, তার কোন সদুত্তোর আসেনি।

দেখুন পেছনের খবর : আইএফসি ব্যাংকের ‘এজিএমে নয়ছয়’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here