‘প্রতিযোগীতায় টিকতে না পেরে সিটিসেলের বেহাল দশা’

0
389

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : অন্য অপারেটরের সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে না পের সিটিসেলের বেহাল দশা। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম বাংলাদেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর সিটিসেলের কার্যক্রম। এরই মধ্যে অপারেটরটির গ্রাহকরা অন্য অপারেটরে চলে গেছেন। প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু উর্দ্ধোতন কর্মকর্তা এরই মধ্যে অন্য অপারেটরে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রাজধানীর মহাখালিতে সিটিসেল কার্যালয়ে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস করছেন না। এমনকি তাদের একমাত্র কাস্টমার কেয়ারটিও বন্ধ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মীরা জানায়, আমাদেরকে সিটিসেল কর্তৃপক্ষ চাকুরী ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা অন্য কোথাও চাকরির খোঁজ করছি।

এদিকে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ স্টক বাংলাদেশকে অভিযোগ করে বলেন, একটা সময় মনোপলি ব্যবসা করে সিটিসেল একচেটিয়া ভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে গ্রাহকদের কাছ থেকে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকার টেলিকম খাতের বাজার উন্মুক্ত করে দেয়। এতেই বিপাকে পড়ে সিটিসেল।

তিনি আরও বলেন, উন্মুক্ত হওয়ার ফলে এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সরকারি খাতের টেলিটকসহ বিভিন্ন অপারেটর বাজারে আসে। এসব অপারেটরের সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে না পেরে তাদের গ্রাহক সংখ্যা দিনকে দিন কমতে থাকে। এখন তাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় শুণ্যের কোঠায়। আর এ অবস্থায় আমরা চাই যতদ্রুত সম্ভব সিটিসেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা যেন পরিশোধ করা হয়। পাশাপাশি সিটিসেল কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করে গ্রাহকদের বলুক তারা অপারেটরটি চালাবে কিনা।

এদিকে সিটিসেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৬-৭ মাস যাবত কোন বেতন-বোনাস না পাওয়ায় তাদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। বেশ কয়েকবার সংবাদ সম্মেলন করেও তারা বেতন-বোনাস পাওয়ার ব্যাপারে সিটেসেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন আশ্বাস পায়নি। এসব অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

উল্লেখ্য, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সিটিসেলের ব্যয় ভার বাড়তে থাকে। ফলে বিটিআরসির পাওনা দাড়াঁয় ৪শ’ ৭৭ কোটি টাকা। আর পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় গত ২০ অক্টোবর  সিটিসেলের তরঙ্গ বাতিল করে দেয় বিটিআরসি। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ১৪ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন করসহ ১৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করে সিটিসেল। তরঙ্গ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগে আবেদন করে সিটিসেল। আদালত তরঙ্গ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আর ১৯ নভেম্বরের মধ্যে আরো ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। সিটিসেল সে অনুযায়ী ১৭ নভেম্বর আরও ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করে।