সামিট গ্রুপের একীভূতকরণে ‘পদ্ধতির জটিলতা’, বাড়ছে আশঙ্কা

0
950

রাহেল আহমেদ শানু : সামিট গ্রুপের তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একই গ্রুপভুক্ত তিন বিদ্যুৎ কোম্পানি একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানা হয়নি। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ১৫ ডিসেম্বর তিন দফা শুনানী হলেও ‘একীভূতকরণে’ কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে পদ্ধতি অনুসরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা!

হাইকোর্টে অনুমোদিত একীভূতকরণ স্কিমে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নে ‘কারেন্ট কস্ট প্রাইস বেসিস’ পদ্ধতি ব্যবহারে শর্ত দিলেও একীভূত হওয়া তিন কোম্পানি ‘হিস্টোরিক্যাল কস্ট বেসিস’ পদ্ধতি অনুসরণ করে। ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির যন্ত্রপাতির অবচয়জনিত ক্ষতি না ধরায় সম্পদমূল্য বেড়েছে। পদ্ধতি  অনুসরণ না করায় কোম্পানিগুলোর সম্পদমূল্য বাড়ে এবং বিনিয়োগকারীরা এ সময় সামিট পাওয়ারের অনেক বেশি শেয়ার গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ‘কারেন্ট কস্ট প্রাইস বেসিস’ পদ্ধতি গ্রহণ করা হলে কোম্পিানির সম্পদমূল্য অনেক কমবে। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন করে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লাভ-লোকসানের চিন্তা এবং পদ্ধতি অনুসরণ নিয়ে নতুন জটিলতায় ভুগছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শোকজের ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেড।

১৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার ডিএসইর পক্ষে ডিএসইর ব্যস্থাপনা পরিচালক ও লিস্টিং বিভাগের প্রধান, সিএসইর পক্ষে সিএসইর এমডি, সিআরও এবং লিস্টিং বিভাগের প্রধান সব ধরনের কাগজ পত্রসহ স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেন।

কমিশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগ গত ১৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে এক শুনানিতে উপস্থিত হয়ে সামিটের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কোম্পানি সচিবসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা দিতে দিয়েছে। তবে কি ব্যাখ্য দিয়েছে সে বিষয়ে মুখ খুলছে না কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

পদ্ধতির অনুসরণ এবং জটিলতার অবসান সম্পর্কে জানতে চাইলে সামিট পাওয়ারের সিএফও স্বপন কুমার পাল স্টক বাংলাদেশকে ‘এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে’ সম্মতি প্রকাশ করেননি।

শুনানিতে সামিট পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানির এমডি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের ২৬ আগস্ট সামিট পাওয়ারের একীভূককরণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলমকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির বাকী তিন সদস্য হলেন- পরিচালক মনসুর রহমান, মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার।

তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একই গ্রুপের তালিকাভুক্ত সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার (বর্তমানে তালিকাচ্যুত) এবং অপর দুই কোম্পানি সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার ও সামিট উত্তরাঞ্চল পাওয়ার একীভূত হয়।

বিএসইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সামিটের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, উচ্চ আদালত সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের যে পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন কোম্পানিগুলো তা অনুসরণ করেনি। একীভূতকরণ কার্যক্রমের অনিয়ম উদঘাটনে গঠিত কমিশনের তদন্ত কমিটিও এমন তথ্য পেয়েছে বলে জানান তিনি।

বিএসইসির ওই কর্মকর্তা বলেন, একীভূত হওয়া কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ খাতের হওয়ায় এগুলোর সম্পদের প্রধান অংশই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। যে কোনো যন্ত্রের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকে এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অবচয় হিসাবের কারণে দাম কমতে থাকে। এ কারণে ‘কারেন্ট কস্ট প্রাইস বেসিস’ পদ্ধতিতে যন্ত্রপাতির যৌক্তিক দর নির্ধারিত হয়।

অথচ সামিটের কোম্পানিগুলো হিস্টোরিক্যাল কস্ট বেসিস পদ্ধতি অনুসরণ করেছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। এতে একীভূত হওয়া কোম্পানির সম্পদমূল্য বেশি ধরা হয়েছে। সে অনুযায়ী বেশি শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে। এতে সামিট পাওয়ারের অতিরিক্ত মূলধন বেড়েছে। এতে কোম্পানিটির পুরনো শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here