এগিয়ে চলেছে ট্রাস্ট ব্যাংক

0
595

সিনিয়র রিপোর্টার : বাংলাদেশ সেনা কল্যাণ ট্রাস্টের ৬০ শতাংশ মালিকানায় ১৯৯৯ সালের ১৭ জুন অনুমোদন পায় বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংক। একই বছরের ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠানিক যাত্রা করা ব্যাংকটি সেনাসদস্যদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী ঋণ পণ্যের ধারণা ও পরিচ্ছন্ন ব্যাংকিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি।

চলতি হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১৬০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার নিট মুনাফা করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। গত তিন বছরেও দেশের ব্যাংকিং খাতের তুলনায় প্রবৃদ্ধিতে বেশ এগিয়ে ব্যাংকটি।

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী বলেন, কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংক না হওয়ায় ট্রাস্ট ব্যাংক দুর্নীতিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেনা কল্যাণ সংস্থা ব্যাংকটির ৬০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। দুর্নীতিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে এর পরিচালনা পর্ষদ মূল দায়িত্ব পালন করছে। ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থের বাইরে গিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনকেই গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। ফলে এ ব্যাংক মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে ট্রাস্ট ব্যাংক। ফলে এ সময় পর্যন্ত ব্যাংকটির নিট মুনাফাও ছিল কম। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। একই সময়ে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। ওই বছর ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ৬১ কোটি টাকা।

কিন্তু ২০১০ সালে ব্যাংকটির আমানত ও ঋণ দুটিই বাড়ায় নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৭ কোটি টাকায়। এর পরের তিন বছর ব্যাংকটির নিট মুনাফা কমলেও ২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি করছে ট্রাস্ট ব্যাংক।

২০১৪ সালে ১২৯ কোটি ৯২ লাখ ও ২০১৫ সালে ১৫৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার নিট মুনাফা করেছে ব্যাংকটি। চলতি বছরের জুন শেষে ট্রাস্ট ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।

আমানত ও ঋণ পণ্যে নতুনত্ব আনায় চলতি বছরের মুনাফা বেড়েছে ট্রাস্ট ব্যাংকের। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ১৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে চলতি বছরে ব্যাংকটির মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ।

২০০৭ সালের ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়া ট্রাস্ট ব্যাংকের ২০১৫ সালে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ২৯ পয়সা। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ২ টাকা ৮১ পয়সা।

২০১০ সালে ট্রাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড নামে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ২০১৩ সালে ট্রাস্ট ব্যাংক সিকিউরিটিজ নামে ব্রোকারেজ হাউজ চালু করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক। ২০১২ সালের ৬ জুন ট্রাস্ট ব্যাংক অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ৫০০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করে। বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

১০৮টি শাখা ও এসএমই সেন্টারের মাধ্যমে বর্তমানে সারা দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রাস্ট ব্যাংক। এর মধ্যে চালু করেছে ১৭৫টি এটিএম বুথ, ২০ হাজারের বেশি পে-পয়েন্ট ও ৬৫টি পিওএস মেশিন স্থাপন করেছে ব্যাংকটি। সাধারণ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ট্রাস্ট ব্যাংক চালু করেছে ইসলামী ব্যাংকিংও।

জনসাধারণের অর্থ সঞ্চয়ের জন্য এরই মধ্যে ট্রাস্ট ব্যাংক চালু করেছে ১৯ ধরনের আমানত সঞ্চয়ী পণ্য। গাড়ি ঋণ, আপন নিবাস ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ, চিকিত্সা ঋণ, ডিজিটাল ঋণসহ বিভিন্ন ঋণ পণ্য দিচ্ছে ব্যাংকটি। ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ডসহ চার ধরনের কার্ড সেবা, মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে ট্রাস্ট ব্যাংক।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই খাতে ট্রাস্ট বুনোন, ট্রাস্ট একতা, ট্রাস্ট মূলধন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রাস্ট নন্দিনী, ট্রাস্ট সুকন্যাসহ কৃষি খাতে বিভিন্ন ধরনের ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকটি। সেনাসদস্যদের জন্য বিয়ে ঋণ স্কিম, গাড়ি ঋণ, বাড়ি ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ, পেনশনের বিপরীতে ঋণসহ নয় ধরনের ঋণ পণ্য চালু করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ট্রাস্ট ব্যাংকের হাউজ বিল্ডিং ঋণ ও পেনশনের বিপরীতে ঋণ সেনাসদস্য ও অফিসারদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। সেনাসদস্যরা ডিওএইচ এলাকায় একটি জায়গা পান। এ জায়গায় বাড়ি করতে ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে তারা ঋণ নেন।

বায়োগ্যাস, সোলার প্যানেলসহ গ্রিন ব্যাংকিংয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। তিন হাজারের বেশি বায়োগ্যাস প্রকল্পে ট্রাস্ট ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছে। যশোরে নকশী কাঁথা ও সিরাজগঞ্জে তাঁত শিল্পে ট্রাস্ট ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here