ইউনাইটেড এয়ার নিয়ে ‘তুমুল বিতর্ক’

0
6042

united airwaysইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী এবং পাঠকের মধ্যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের নানান প্রশ্ন বিভিন্ন মাধ্যমে ছুঁড়ে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন স্টক বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে। তারা অনুরোধ জানিয়েছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ নিশ্চয়তা এবং সুস্থ্য পুঁজিবাজারে গঠনে তাদের মন্তব্য প্রকাশ করা হলে অনেক কাজে আসবে।

তাই স্টক বাংলাদেশ তাদের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। তবে পাঠকের মতামত এবং প্রতিক্রিয়া প্রকাশে দৈনিক স্টক বাংলাদেশ -এর সম্পাদক দায়ী নয়। এটা পাঠকের নিজস্ব মতামত-

  • আমি মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম (বাদল)। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের (বিডি) লিমিটেডের একজন সাধারণ শেয়ার হোল্ডার। কোম্পানিটির সব বিমান ইতোমধ্যে উড্ডয়ন বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে কোম্পানির অনেক চেষ্টা করছেন আবার বিমান উড্ডয়নের জন্য। যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুসংবাদ।
  • বিড়ম্বনা অন্যখানে, কিছু অখ্যাত সংবাদপত্র ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের নামে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করছে। সম্প্রতি ‘ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান জব্দ করবে সরকার’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা দেখে আমি ক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত। প্রতিবেদনে সাংবাদিকতার সামান্য নীতিমালাও রক্ষা করেননি সেই সাংবাদিক।
  • আমার কিছু প্রশ্ন তাদের কাছে কাছে। সংবাদে প্রকাশ করা হয়েছে- ‘সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চিঠি দিয়ে বিমান জব্দ করার বিষয়টি বিমান সংস্থাকে জানিয়েছে’। এখানে প্রশ্ন হলো- জব্দ করার সেই চিঠি প্রতিবেদনে কেন প্রকাশ করা হলো না? আশা করি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে তা দ্রুত প্রকাশ করবেন।
  • বিস্ময়ের ব্যপার হলো- সরকার বা বিমান সংস্থা কোন বিমান জব্দ করার ক্ষমতা রাখে না, এটা তিনি জানেন না। দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখুন সিটিসেল কোম্পানি। আদালতের নির্দেশে আবারো চালু হচ্ছে। আমার পরামর্শ : এভিয়েশন খাতের নীতিমালা আগে জেনে পরে প্রতিবেদন লিখুন। নতুবা ক্ষতি করবেন না।
  • ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মোট কয়টি বিমান আছে বলতে পারেন? প্রতিবেদনে আপনারা সঠিক লেখেন নাই। আফসোস!
  • ইউনাইটেডের কাছে সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ল্যান্ডিং, পার্কিং ও নেভিগেশন চার্জসহ পাওনা টাকার পরিমাণ ১১৪ কোটি টাকা লিখেছেন। ভালো কথা লিখেছেন, এ বিষয়ে আমার মন্তব্য নেই। তবে ২০১৩ সালে বিমানের ল্যান্ডিং, পার্কিং ও নেভিগেশন চার্জ ফি মন্ত্রণালয় মওকুফ করেছে। এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তও হয়েছে, তা জানেন। এরপরেও পাওনা টাকা আদায়ে বেবিচক কেন তাগাদা দিচ্ছে? আশা করি পেছনের কারণটি খুঁজে একটি প্রতিবেদন লিখবেন।
  • আপনার প্রতিবেদনে বিমান জব্দ করা সম্পর্কে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মর্শাল এহসানুল গণি বলেন, আমি কিছু জানি না। এটি জানেন মেম্বার (অপারেশন) এয়ার কমডোর মোস্তাফিজুর রহমান। আরও লিখেছেন, এয়ার কমডোর মোস্তাফিজুর রহমান (মেম্বার, অপারেশন) বলেন, আমিও পুরোপুরি জানি না। বেবিচক চেয়ারম্যান ও কমডোর মোস্তাফিজুর রহমানও অজ্ঞাত। প্রশ্ন হলো- বেবিচক চেয়ারম্যান জানেন না বিমান জব্দ করা হবে। বিস্ময়! আপনাদের সংবাদে কোথাও স্টাবলিস্ট করতে পারলেন না, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান জব্দ করা হবে। অথচ নিউজ হেডিংয়ে উল্লেখ করেছেন ‘ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান জব্দ করবে সরকার’। প্রতিবেদনে নিজেই নিজের বিরোধী। কেন, কোন স্বার্থে লিখেছেন এমন সংবাদ?
  • পরামর্শ : প্রশ্নের জবাব থাকলে লিখিতভাবে উত্তর দেবেন। সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত- সাংবাদিক যা ভাবেন তা লেখেন। যা লেখেন তা সত্য এবং সেই সত্যের সঙ্গে উপযুক্ত প্রমাণও উপস্থাপন করেন। সে কারণেই তারা জাতির বিবেক। প্রমাণ ছাড়া আমাদের মত সাধারণ পাবলিকে বিভ্রান্ত করবেন না।
  • কারণ, BSEC অজ্ঞ নয়। সব দেখে মহাশয় একটি কোম্পানিকে ৬২৪ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। সবশেষে বড় কথা, আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর টক-ঝাল আকারে দিতে পারবো। বলতে পারাই বড় কথা নয়। তথ্য উপস্থাপন প্রক্রিয়াই আসল। আসুন, আমরা আরো শুদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করি। ধন্যবাদ। (আপনিও লিখুন, পুঁজিবাজারের যেকোন বিষয়ভিত্তিক বা মতামত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here