রাহেল আহমেদ শানু : বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বান্ধব দেশ এখন বাংলাদেশ। এশিয়ার সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক দেশগুলোর আমাদের দেশ অন্যতম। এমন দেশে দেশীয় অনেক কোম্পানি বাণিজ্য করেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে অক্ষম। কোম্পানির চরম অব্যস্থাপনা এবং মানসিক দায়বদ্ধতা না নেয়ার কারণে ডুবতে বসেছে ১১ টি কোম্পানি।

ডুবতে থাকা এবং নো ডিভিডেন্ড ঘোষনাকারী কোম্পানিগুলো হলো- মেট্রো স্পিনিং, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ম্যাকসন স্পিনিং, আরএন স্পিনিং, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, সিনোবাংলা, কেপিপিএল, দেশবন্ধু পলিমার, বীচ হ্যাচারি, সমতা লেদার এবং অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

মেট্রো স্পিনিং: বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি বেশ ভালো ব্যবসা করেছে। লাভে থাকার পরও নীতি-নৈতিকতা না থাকায় সমাপ্ত অর্থবছরে নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ০.১৮ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) হয়েছে ১৬.১২ টাকা।

কোম্পাানির ব্যবসা না থাকলে শেয়ার প্রতি আয় ০.১৮ টাকা হতো না, আরো কমে বা মাইনাসে থাকতো। ২০০২ সালে তালিকাভূক্ত হওয়া কোম্পানির মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৬০ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি ৫ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিলো।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড : ২০১৩ সালে আইপিওতে আসে কোম্পানিটি। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার পরই পরিচালনা পর্ষদ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। জটিলতার মধ্যে ডুবতে থাকলে কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং এমডি কোম্পানি ছেড়ে চলে যান। কমতে থাকে ব্যবসা। ডুবতে থাকে কোম্পানি এবং ডোবাতে থাকেন বিনিয়োগকারীদের।

ডুবতে থাকা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গত বছরও কোন লভ্যাংশ দেয়নি। এবারো তারা কোন লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ডুবছে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। অন্যদিকে কোম্পানির কোন তথ্যও সরবরাহ করতে চায়না কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। নাজেহাল হন সাংবাদিকরা।

কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪ পয়সা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ১২ টাকা ৮ পয়সা। এর জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১০ ডিসেম্বর এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ নভেম্বর।

ম্যাকসন স্পিনিং: কোম্পানির মুনাফায় হচ্ছে। তবুও টানা দুই বছর ধরে নো ডিভিডেন্ড। অব্যবস্থাপনায় ডুবছে কোম্পানিটি।  অক্টোবর, ২০১৫ থেকে ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরে ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ০.৩৯ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) হয়েছে ১৯.৫০ টাকা।

২০০৯ সালে তালিকাভূক্ত হওয়া কোম্পানির মূলধন ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ২২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ৫৪ কোটি ৭ লাখ টাকা।

লিগ্যাসি ফুটওয়্যার : ১৮ মাস ধরে কোম্পানির মুনাফায় থাকলেও নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৯ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ হয়েছে ১৯.১৪ টাকা।

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সমাপ্ত সময়ে কোম্পানিটি ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল।

আরএন স্পিনিং: রাইট শেয়ার জালিয়াতি নিয়ে মামলা জটিলতা। ফার গ্রুপের কোম্পানি আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। ইতোমধ্যে সে মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। মামলার কারণে ৫ বছর বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দিচ্ছে না কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে সর্বশেষ কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। কোম্পানিটির অনেক সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে নভেম্বর মাসে।

অন্যদিকে কোম্পানির কোন তথ্যও সরবরাহ করতে চায়না আরএন কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন অব্যবস্থানা দিয়ে এখানে শায়েস্তা করা হয় সাংবাদিকেদর। নাজেহাল হন সাংবাদিকরা, যে কারণে অনেক সাংবাদিক এড়িয়ে চলেন ফার গ্রুপ অব কোম্পানিকে।

সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ : ব্যবসা বাড়ানোর হবে। এমন বক্তব্য দিয়েছে কেম্পানির কর্তৃপক্ষ। যে কারণে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ নভেম্বর ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরে ৮ মাসের জন্য ডিভিডেন্ড দেয়নি।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭১ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) হয়েছে ২৪.৬৪ টাকা এবং শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের পরিমাণ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১.৪৩ টাকা।

কেপিপিএল : ২০১৪ সালে আইপিও অনুমোদন পাওয়ার পরই কোম্পানিটির  বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে আদালতে রিট করেন এক বিনিয়োগকারী। এরপরে নানান সংকটের ভেতরে দিয়ে ডিসেম্বরে শুরু হয় কোম্পানিটির যাত্রা। আস্থার সংঙ্কট নিয়ে সেই পথচলা শুভ হয়নি। বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ডুবছে কোম্পানিটি।

৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে পেপার ও  প্রিন্টিং খাতের কোম্পানি খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেড। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৩ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১৭.১২ এবং শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের পরিমাণ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১.৬২ টাকা।

দেশবন্ধু পলিমার : ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেড।

সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.১৯ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১০.৮৪ এবং শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের পরিমাণ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২.০২ টাকা।

অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ : বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরে নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৮ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভি) হয়েছে ২৭.৬৪ টাকা এবং শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের পরিমাণ (এনওসিএফপিএস) ০.৭৭ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪ শতাংশ ক্যাশ ও ৬ শতাংশ স্টকসহ মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিলো। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিলো ১.২২ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভি) হয়েছিলো ২৯.১৫ টাকা এবং শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের পরিমাণ (এনওসিএফপিএস) হয়েছিলো ০.৪২ টাকা।

সমতা লেদার : শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। সোমবার কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে ৬ পয়সা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৪ টাকা ৭৬ পয়সা।

আগামী ২২ ডিসেম্বর কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ নভেম্বর।

বীচ হ্যাচারি লিমিটেড : কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ১৮ মাসে কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। বুধবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.৫৩ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ১১.২৬ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ০.০২ টাকা।

কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৮ ডিসেম্বর এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ নভেম্বর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here